ঢাকা, মঙ্গলবার 3 July 2018, ১৯ আষাঢ় ১৪২৫, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : কোটাপদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
গতকাল সোমবার দেয়া এক বিবৃতিতে কোটা সংস্কার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গেজেট প্রকাশ এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ প্রশমন করে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যাচ্ছে, সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে আহত ও লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। এটা অত্যন্ত অমানবিক, নিন্দাজনক, বেআইনি এবং সংবিধানপ্রদত্ত নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। যৌক্তিক দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রদানের পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও অহিংস আন্দোলনকে দমনের অপচেষ্টায় ইন্ধন দিচ্ছে, যা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং অসাংবিধানিক।
হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তার দৃশ্যমান নিষ্ক্রিয়তা পরিহার করে নিরপেক্ষতা ও পরিপূর্ণ পেশাদারির সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে তাদের ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সক্রিয় হতে হবে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোটাপদ্ধতি সংস্কারের দাবি নিয়ে দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ঘোষণার মাধ্যমে এর যৌক্তিকতা ও  বৈধতা নিশ্চিত করেছেন। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক সংগঠনগুলোও আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে কোটা সংস্কারের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তিসহ গণমাধ্যমে বিবৃতি প্রদান করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও সরকারের তরফ থেকে কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারের একাংশের আন্তরিকতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর দ্রুত এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সরকার কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ গৃহীত হলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রয়োজন হতো না।
বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আচরণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
বাংলাদেশ ন্যাপ: কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী নেতাদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, ছাত্রদের ওপর নিষ্ঠুরতা, হমলা-নির্যাতন অপ্রত্যাশিত ও মানবাধিকার পরিপন্থি।
গতকাল গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, শনি-রবি ও সোমবারের ঘটনায় আমরা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকিত। সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের আচরণ আর পুলিশের গ্রেফতারী দেখে মনে হচ্ছে দেশ আবারো একটি সংঘাতের দিকে ধাপিত হচ্ছে। যার পরিণতি খুব বেশী শুভ লক্ষণ হতে পারে না।
‘শক্তি কোনো স্থায়ী বিষয় নয়’ যারা এটি ভুলে গিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের সতর্ক করে নেতৃদ্বয় বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তান। সুতরাং তাদের ওপর কোনো নিষ্ঠুরতা আমরা প্রত্যাশা করি না।
 নেতৃদ্বয় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, ছাত্রলীগ তার চিরাচরিত চরিত্রে ফিরে গেছে। মতের বিপরিতে গেলেই তার উপর শারীরিক শক্তি প্রদর্শন করতে হবে’- এটা ছাত্রলীগের এক ধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে দফায় দফায় হামলার মধ্য দিয়ে তাদের সন্ত্রাসী মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছে।
অভিভাবক ফোরাম: আন্দোলনের এই কর্মসূচিতে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। অভিভাবক ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম উদ্দিন এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাছিনা যেখানে সাধারণ ছাত্রদের কোটা সংস্কারের দাবি মেনে নিয়ে গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ঘোষণা দিয়েছে, সেখানে তাদের উপর পুলিশী নির্যাতন, গ্রেফতার ও সন্ত্রাসী আক্রমণ অত্যন্ত নিন্দনীয়।
নেতৃদ্বয় বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের সব ছাত্রই আমাদের সন্তান। তাদের ভালমন্দ, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়ে আমাদের কেই ভাবতে হবে। সুতরাং তাদের প্রতি নির্দয় আচরণ ও নিষ্ঠুরতা কম্য নয়।
 নেতৃদ্বয় সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল বা সংস্কারের বিষয়ে সুরাহা করার জন্য দ্রুত একটি কমিটি গঠন করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোর দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ