ঢাকা, মঙ্গলবার 3 July 2018, ১৯ আষাঢ় ১৪২৫, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ডিফিক্যাল্ট পলিটিক্স

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুই মেয়াদের জনপ্রিয় সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন বলেছেন পলিটিক্স আজ ডিফিক্যাল্ট হয়ে পড়েছে। গণতন্ত্রের নামে পরিচালিত বিভিন্ন দেশে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের উপর দমন, পীড়ন, নির্যাতনের বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এই কথা বলেন। প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের এই মন্তব্য বাস্তবতার এক নিরেট প্রতিধ্বনি। গণতান্ত্রিক বা গণতন্ত্রের নামে পরিচালিত বিভিন্ন দেশে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের অবস্থা স্বৈরতান্ত্রিক দেশের চাইতেও অনেক ক্ষেত্রে খারাপ। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই অবস্থা ক্রমবর্ধমান। দশ/পনের বছর আগে যেসব দেশে রাজনীতিকদের রিম্যান্ডে নেয়া, পায়ে বেড়ি লাগানোর কথা শোনেনি, সেসব দেশে আজ রাজনীতিকদের সাথে ক্রিমিনালের মতো আচরণ সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় রাজনীতি আজ ডিফিক্যাল্ট নয়; গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের জন্য এক অসম্ভব বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। এসব প্রকৃতি একজন স্বৈর শাসকের। স্বৈর শাসকরা প্রতিদ্বন্দ্বী পছন্দ করে না। প্রতিদ্বন্দ্বী তাদের কাছে শত্রু হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু গণতন্ত্রে তো তা নয়। গণতন্ত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিপক্ষ অপরিহার্য। যে মানুষের সমর্থন পাবে সে ক্ষমতায় যাবে, আর যে পাবে না সে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিরোধী দলে বসবে। গণতন্ত্রে জনসমর্থন প্রকাশের মাধ্যম নির্বাচন ব্যবস্থাকে তাই হতে হয় অবাধ-স্বাধীন। অবাধ, স্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা হলো গণতন্ত্রের প্রাণ। যে দেশ বা যারা নির্বাচন ব্যবস্থাকে অবাধ স্বাধীন করতে ব্যর্থ হয়, সেখানে গণতন্ত্রের অপমৃত্যু ঘটে। অনেক দেশে আমরা গণতন্ত্রের এই অপমৃত্যু দেখছি। এসব দেশে অবাধ স্বাধীন নির্বাচন পদ্ধতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিপক্ষ দুই-ই স্বৈর নির্যাতনের শিকার। এসব দেশেই অবাধ-স্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থাকে গলাটিপে মারা হয় এবং এসব দেশেই রাজনীতিকরা রিমান্ড ও ডান্ডাবেড়ি পায়। এই অবস্থা সেসব দেশে সৃষ্টি হয় তখনই, যখন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে যাওয়া কোন শাসক মনে করে তার আরও এক মেয়াদ কিংবা আরও ক্ষমতায় থাকা দরকার, জনগণ চাক বা না চাক। কোন কোন দেশে বা কেউ কেউ একেই বলে থাকে গণতান্ত্রিক স্বৈরাচার।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এশিয়া আফ্রিকায় উদীয়মান, তখন গণতান্ত্রিক দেশে গণতন্ত্রের এ অপমৃত্যু দশা কারও গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়। আমরা মনে করি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যতটা জরুরি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সংহত করা, সংহত রাখা ঠিক ততটাই জরুরি।  তা যদি না করা হয় তাহলে ফেলে আসা স্বৈরতন্ত্র আবার গোটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে একদিন গিলে খেতে পারে। এই সাথে জরুরি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সহজলভ্য করা, একে কালো টাকার হাত থেকে রক্ষা করা। যাতে একজন বিত্তবানের সাথে একজন বিত্তহীনও নির্বাচন করার সুযোগ লাভ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ