ঢাকা, মঙ্গলবার 3 July 2018, ১৯ আষাঢ় ১৪২৫, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পরিকল্পিত সময় ব্যবস্থাপনা পৌঁছে দিবে সাফল্যের স্বর্ণদুয়ারে

ড. মোবারক হোসাইন : [দুই]
১. নিজেকে না বলুন (Dump it)- গুরুত্ব বিবেচনা করে কম গুরুত্বপূর্ণ কাজটি ফেলে রাখুন ও “আমি এখন করব না” এই বিষয়টি নিজেকে বলতে হবে। এই ব্যাপারে দৃঢ় থাকতে হবে।
২. সহকর্মীর সহযোগিতা নেয়া (Done it)- সব কাজ নিজেকে করতে হবে বিষয়টি ঠিক তেমন না। কোনপ্রকার সংকোচ ছাড়াই যে কাজটি অন্যকে দিয়ে করানো যাবে তাকে দিয়ে করাতে হবে। ফলে অল্প সময়ে অনেক কাজ করার সুযোগ থাকবে।
৩. এই মুহূর্তে করার দরকার নাই (Defer it)- কিছু কাজ আছে যেগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে না করলেও চলেবে।
৪. এই মুহূর্তে করা দরকার (Do it)- যে কাজটি ঠিক এই মুহূর্তে করার কারণে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।
(খ) টিএ-ডিএ পদ্ধতি (TA-DA Formula): এই পদ্ধতি যে কাউকে ভবিষ্যতের আসন্ন সমস্যা মোকাবেলায় সতর্ক হতে সাহায্য করবে। আর তাই যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে, এই পদ্ধতি ব্যবহার খুবই কার্যকর।
১. গভীর মনোনিবেশ (Think)- যথাসময়ে কাজ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর গভীর চিন্তা সকল বিষয় সামনে নিয়ে আসে।
২. পরামর্শ করুন (Ask)- কাজের বিষয়ে জ্ঞান আছে এমন একজন পরামর্শকের সাথে পরামর্শ করা।
৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Decide)- সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নেতিবাচক ও ইতিবাচক উভয় ফলাফল কেমন হতে পারে তার একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ করতে হবে। একটা বিষয় আমরা জানি, সিদ্ধান্ত গ্রহণই হচ্ছে মূল কাজের অর্ধেক।
৪. সিদ্ধান্তের পর কাজে নেমে পড়ুন (Act)- গভীর মনোনিবেশের ওপর তথ্য বিশ্লেষণ এবং সর্বোপরি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর কাজে নামা। এটি হলো টিএ-ডিএ পদ্ধতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সময় ব্যবস্থাপনার কৌশল : আসলে ‘সময় ব্যবস্থাপনা কৌশল’ হচ্ছে সময়ের প্রেক্ষিতে নিজেকে ব্যবস্থাপনা করা। কারণ, সময় ব্যবস্থাপনার থিওরি হচ্ছে- সময়কে ব্যবস্থাপনা করা যায় না। এটি তার নির্ধারিত নিয়মে বয়ে চলছে; এর গতির ওপর মানুষের কোন হাত নেই। তাই বলা যেতে পারে, You cannot manage your time; rather you have to be managed according to your time. অর্থাৎ আপনি সময়কে ব্যবস্থাপনা করতে পারেন না; তাই সময় অনুসারে আপনার নিজেকেই ব্যবস্থাপিত হয়ে যেতে হবে। সুতরাং সময় ব্যবস্থাপনার কৌশলের ক্ষেত্রে কতগুলো বিষয় লক্ষণীয়-
১. টেলিফোনে সাক্ষাতের সময় নিশ্চিত করা
২. কাগজ, কলম, নোট বুক সাথে রাখা
৩. কিছু কাজ অন্যকে দিয়ে করান
৪. গড়িমসি বন্ধ করা
৫. কিভাবে সময় নষ্ট হয় তা খুঁজে বের করা
৬. গুরুত্ব অনুসারে কাজের ক্রম নির্ধারণ
৭. Routine তৈরি করা ও যতটা সম্ভব মানার জন্য চেষ্টা করা
৮. কাজের জন্য সময় নির্ধারণ
৯. কাজ হওয়া উচিত পরিকল্পনার আলোকে
১০. শেখার ক্ষেত্রে মনোযোগ দিয়ে শিখে নেয়া
১১. ফাইলপত্রসহ সবকিছুর সঠিক আর্কাইভিং করা
১২. বড় কাজকে ছোট ছোট পার্টে ভাগ করে ফেলা
১৩. ছুটির দিন বা অবসরের দিনকে কাজে লাগানো
১৪. তাড়াতাড়ি করুন, কিন্তু তাড়াহুড়া করবেন না
১৫. কাজের কোয়ালিটি নিশ্চিত করা জরুরি।
সময় বাঁচানোর কৌশল :
১. প্রত্যেকটি জিনিস তার নির্দিষ্ট স্থানে রাখা
২. একটি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা
৩. সফলতার জন্য বারবার চেষ্টা করা
৪. বদঅভ্যাস ত্যাগ করা
৫. কী ধরনের কাজ তা পরিকল্পনা করা
৬. সময়ের ধারাবাহিক ব্যবহার
৭. সময় নষ্টের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা
৮. বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপমুক্ত থাকা।
ইসলামে সময়ের গুরুত্ব : সময় শব্দটি তিন অক্ষরের ছোট শব্দ হলেও এর ব্যাপ্তিকাল অনেক বড়। সৌর বছরে ৩৬৫ দিন আর চন্দ্র বছরে ৩৫৪ দিন। ঘণ্টার হিসাবে ২৪ ঘণ্টা এবং মিনিটের হিসাবের দিক দিয়ে ১৪৪০ মিনিট। সময়ের সমষ্টিই জীবন। মানুষ তার দুনিয়ার জীবন কিভাবে অতিবাহিত করেছে আখিরাতে সে হিসাব প্রদান করতে হবে। সময় আল্লাহতায়ালার অসংখ্য নিয়ামত। মহাগ্রন্থ আল কুরআন ও হাদিসের বিভিন্ন স্থানে সময়ের বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনা ছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাসূল সা: পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটি বিষয়ের ওপর অগ্রাধিকার বা গুরুত্ব দেয়ার জন্য বলেছেন : ‘বৃদ্ধকাল আসার আগে যৌবনের, অসুস্থতার আগে সুস্থতার, দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতার, ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার আগে অবসরের ও মৃত্যু আসার আগে জীবনের।’ সময় বিশ্লেষণে হাদিসখানা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। পরিকল্পনা, সম্ভাব্যতা, পারিপার্শ্বিকতা ও প্রতিটি কাজের জন্য বিশ্লেষণমূলক সঠিক সময় নির্ধারণ ও বিন্যস্তকরণ ইসলামের দাবি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সেই মুমিনরা সফলকাম হয়েছে, যারা বাজে কাজ থেকে বিরত থেকেছে।’ (সূরা মুমিনুন : ১ ও ৩) মুমিনের অবসর সময় বলতে কিছু নেই। বরং একটু অবসর সময় যদি চলে আসেও তাতেও আল্লাহ কাজ দিয়ে দিচ্ছেন। ‘কাজেই যখনই অবসর পাও, ইবাদাতের কঠোর শ্রমে লেগে যাও এবং নিজের রবের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করো।’ (সূরা আলাম নাশরাহ : ৭-৮) আল্লাহতায়ালা মানুষকে সময়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বোঝানোর জন্য আল-কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় সময়ের কসম করেছেন। যেমন : শপথ রজনীর, যখন তা আচ্ছন্ন হয়ে যায়, শপথ দিনের, যখন তা আলোকিত হয়। (সূরা আল লাইল : ১-২) মহানবী (সা) সময়কে গুরুত্ব দিতে এবং একে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে অনেক তাকিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন : কিয়ামতের দিন পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দেয়ার আগে কোন আদম সন্তান এক কদমও নড়তে পারবে না। ১. নিজের জীবনটা কোন পথে কাটিয়েছ? ২. যৌবনকাল কোন পথে কাটিয়েছ? ৩. ধনসম্পদ কোন পথে উপার্জন করেছ? ৪. কোন পথে ধনসম্পদ ব্যয় করেছ? ৫. জ্ঞানার্জন যা করেছো সে অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছো? (তিরমিজি শরিফ) উল্লিখিত হাদিসের চারটি বিষয়ই সময়ের সাথে সম্পর্কিত।
মাওলানা মওদূদী (রহ) সূরা আসরের তাফসির করতে গিয়ে সময়ের গুরুত্ব এইভাবে তুলে ধরেছেন: পরীক্ষার হলে একজন ছাত্রকে প্রশ্নপত্রের জবাব দেয়ার জন্য যে সময় দেয়া হয়ে থাকে তার সাথে এর তুলনা করা যেতে পারে। ইমাম রাযী একজন মনীষীর উক্তি উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেছেন : ‘একজন বরফওয়ালার কাছ থেকে আমি সূরা আসরের অর্থ বুঝেছি। সে বাজারে জোর গলায় হেঁকে চলছিল- দয়া কর এমন এক ব্যক্তির প্রতি যার পুঁজি গলে যাচ্ছে।’ তার কথা শুনে আমি বুঝলাম এটিই হচ্ছে আসলে- সময়ের কসম। মানুষ আসলে বড়ই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে- বাক্যের ব্যাখ্যা। মানুষকে যে আয়ুষ্কাল দেয়া হয়েছে তা বরফ গলে যাওয়ার মত দ্রুত অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে। একে যদি নষ্ট করে ফেলা হয় অথবা ভুল কাজে ব্যয় করা হয় তাহলে সেটিই মানুষের জন্য ক্ষতি। সময়ের গুরুত্ব উপলব্দি করার জন্য আমরা একজন বুদ্ধিমান রাজার গল্প উল্লেখ করতে পারি।
একজন বুদ্ধিমান রাজার গল্প: অনেক বছর আগে একটা দেশে জনগণ তাদের জন্য প্রতি বছর একজন করে রাজা নির্বাচন করতো। নির্বাচিত রাজার নির্ধারিত মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হলে তারা তাকে সমুদ্রের মাঝে একনির্জন দ্বীপে নির্বাসনে দিয়ে আসত। দ্বীপে যাবার সময় জনগণ বিদায়ী রাজাকে মূল্যবান সাজে সজ্জিত করে মুল্যবান বাহনে চড়িয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নিত। বিদায়ী মুহূর্তটা বিদায়ী রাজার জন্য যতই বেদনাকর হোক না কেন তাও জনগণ নৌকায় করে রাজাকে নির্জন দ্বীপে নির্বাসনে দিয়ে আসত।
একদিন তারা ফিরে আসার সময় এক যুবককে সাগরে একটুকরা কাঠের উপর ভাসতে দেখে তাকে তুলে নিয়ে আসল। তারা যুবককে রাজা হবার নিয়মকানুন ও নির্বাসনের কথা জানিয়ে রাজা হওয়ার অনুরোধ করল। প্রথম যুবক রাজি না হলেও পরে রাজি হয়ে যায়। রাজা হবার ৩ দিন পরে রাজা মন্ত্রীকে বলল, পূর্ববর্তী রাজাদের রেখে আসা নির্বাসন দ্বীপে বেড়াতে নিয়ে যাবার জন্য। মন্ত্রী প্রথম বারণ করলেও পরে নিয়ে গেলেন। নতুন রাজা দ্বীপে গিয়ে দেখলেন, দ্বীপটি গহীন জঙ্গল ও হিংস্র জন্তু জানোয়ারের ডাকে ভরপুর এবং পূর্ববর্তী রাজাদের কে হিংস্র জন্তু জানোয়ারে খাওয়া অবশিষ্ট কংকাল। নবরাজার বুঝতে আর বাকী নেই তার পরিনতি কি হবে?
তাই রাজ্যে ফিরে এসেই রাজা একশত জন খুব সাহসী ও সামর্থপূর্ণ শ্রমিককে বাছাই করে সেই দ্বীপের জঙ্গল পরিস্কার ও হিংস্র জন্তু জানোয়ার তাড়ানো জন্য নির্দেশ দিলেন। কিছু দিনের মধ্যেই রাজা আবার গিয়ে দেখে আসলে তার দ্বীপটি পরিস্কার করে ফেলা হয়েছে। তারপর রাজা ২য় পর্যায়ে তাদের কে দায়িত্ব দিলে দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ফলজ ঔষধি গাছের বাগান করতে এবং কিছু উপকারী পশু পাখির বিচরন ক্ষেত্র হিসাবে দ্বীপটি সাজাতে। আর রাজা বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণে যাবার জন্য দ্বীপের সাথে সংযুক্ত করে একটি বন্দর তৈরি করতে। কয়েক মাসের মধ্যে দ্বীপটি হয়ে গেল একটি সুন্দর স্থান। জনগণ মহাখুশি নবরাজার চালচলন ও সাদাসিদে জীবন যাপন দেখে।
নিদিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর জনগণ রাজাকে মুল্যবান সাজে সজ্জিত করে বিদায়ী মুহুর্তে অন্য রাজাদের মত বেদনা ভারাক্রান্ত মলিন চেহারা ও ক্রন্দন করতে দেখলো না। বরং দেখলো হাস্যজ্জলভাবে সবার থেকে বিদায় নিচ্ছেন। হতভম্ব জনগণ রাজাকে প্রশ্ন করলেন আপনি এই কঠিন সময় কেন হাসছেন? রাজা উত্তর দিলেন তোমরা জানো না জ্ঞানী লোকেরা কি বলেন, “যখন তুমি এসেছিলে ভবে, কেদেছিলে তুমি হেসেছিল সবে, এমন জীবন তুমি করিলে যাপন, মরিলে হাসিবে তুমি কাদিবে ভুবন।” আমি তেমনি জীবন যাপন করেছি। তোমাদের পূর্বের রাজারা এই নির্দিষ্ট সময় রাজ্য নিয়ে আরাম আয়েশের মশগুল থেকে কাটিয়েছে। আর আমি অতীত রাজাদের থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতাকে বর্তমান সময়কে ভবিষ্যতের চিন্তায় পরিকল্পিত ভাবে কাজে লাগিয়েছি। ভবিষ্যতের আরাম আয়েশের চিন্তায় আমি বিপদ সংকুল দ্বীপ কে মনোমুগ্ধকর সুন্দর বাসস্থানে পরিণত করেছি যা তোমাদের রাজ্য থেকেও আরামদায়ক।
এই গল্প থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা- দুনিয়ার জীবনে আমরা প্রত্যেকেই একজন প্রতিনিধি বা খলিফা। আমাদের জীবনের নিদিষ্ট আয়ুস্কালটা পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতির সময় মাত্র। এই সময়টাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে না লাগায়ে দুনিয়ার নানান রং-তামাশায় বিভোর হয়ে পরবর্তী অনন্ত জীবনের কথা ভুলে গেলে আমাদের পরিনতিও হবে ভয়াবহ। আল্লাহ বলেন, “হে ঈমানদাররা! আল্লাহকে ভয় করো। আর প্রত্যেককেই যেন লক্ষ রাখে, সে আগামীকালের জন্য কি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। আল্লাহকে ভয় করতে থাক। আল্লাহ নিশ্চিতভাবেই তোমাদের সেই সব কাজ সম্পর্কে অবহিত যা তোমরা করে থাক”। (সুরা হাশর : ১৮) সময়ের গুরুত্ব উপলব্দি করার জন্য নি¤েœাক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্যণীয়-
১. আখিরাতে মুক্তি পেতে হলে দুনিয়ার সময় কাজে লাগাতে হবে।
২. সময় আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে আমানত।
৩. সময়ের সঠিক ব্যবহার যারা করে তারাই সফলকাম।
সময় ব্যবস্থাপনার উপকারিতা: পরিকল্পিত সময় ব্যয় করার অনেক উপকারিতা রয়েছে-
১. অল্প সময়ে সুন্দরভাবে অধিক কাজ করা সম্ভব
২. গুরুত্বানুসারে কাজ করতে সাহায্য করে
৩. অপরিকল্পিত সময় ব্যয় থেকে বিরত রাখে
৪. সময়-সুযোগ কাজে লাগাতে সাহায্য করে
৫. পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব হয়
৬. ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হয়
৭. অগ্রগতি পর্যালোচনা সম্ভব হয়।
পরিকল্পিত সময় ব্যয় সম্ভব হয় না কেন? অনেক কারণে পরিকল্পিত জীবন যাপন করা সম্ভব হয় না। কারণসমূহ নিম্নরূপ:
১. জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে সিরিয়াস না হওয়া
২. অগ্রাধিকার তালিকা না থাকা
৩. দৈনিক পরিকল্পনা না থাকা
৪. খুঁত খুঁতে স্বভাবের মন
৫. ব্যক্তিগতভাবে অগোছালো
৬. হঠাৎ প্রতিবন্ধকতা আসা
সময় ব্যয় পর্যালোচনা: সময় অপচয় হয় কি না এজন্য সময় ব্যয়ের পর্যালোচনা করা দরকার। কিভাবে পর্যালোচনা করা যায় নিম্নে একটি প্রফর্মা দেয়া হলো-
       সময়                   কাজ   
সকাল ৫:০০-৬.০০ মি:    ঘুম থেকে ওঠা এবং ফ্রেশ হওয়া, নামাজ আদায়   
সকাল ৬:০০-৭:০০ মি:    কুরআন ও হাদিস অধ্যয়ন এবং ইসলামী জ্ঞানার্জন   
সকাল ৭:০০-৭:১৫ মি:    নাস্তা খাওয়া   
সকাল ৭:১৫-৭:৩০ মি:    কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতি   
সকাল ৭:৩০-৮:০০ মি:    কলেজে যাত্রা   
সকাল ৮:০০-১:০০ মি:    ক্লাস   
দুপুর ১:০০-৩:৩০ মি:     নামাজ আদায়, বাসায় ফেরা, খাওয়া, বিশ্রাম
বিকেল ৩:৩০-৫:৩০ মি:   নামাজ আদায় ও অন্যান্য কাজ   
বিকেল ৫:৩০-৭:০০ মি:   ফ্রেশ হওয়া, নামাজ আদায়, নাস্তা খাওয়া,
                              পরিবারের সাথে সময় কাটানো   
সন্ধ্যা ৭:০০-১১:০০ মি:    পড়ালেখা, নামাজ, খাওয়া ও অন্যান্য   
রাত ১১:০০-৫:০০ মি:     ঘুমানো   

কিভাবে সময় ব্যবস্থাপনা করবেন?
১. ভারসাম্যপূর্ণ করা
২. কাজের পরিকল্পিত সময় নির্ধারণ
৩. কাজের মধ্যে বৈচিত্র্য আনা
৪. একটি কাজের সময়সূচি পরিবর্তিত হলে অন্যটি পরিবর্তন না করা
৫. কাজের রিভিউ/পর্যালোচনা
৬. স্টাডি টাইম-টেবিল যথাযথভাবে কাজে লাগানো
সময়সূচি কেন বাস্তবায়িত হয় না : বিভিন্ন কারণে সময়সূচি বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। কারণগুলো হচ্ছে নি¤œরূপ:
১. অবাস্তব সময়সূচি।
২. অস্পষ্ট সময়সূচি
৩. ডেড লাইনের আগ মুহূর্তের জন্য কাজ রেখে দেয়া
৪. প্রতিদিন কাজ না করে এক সাথে করার জন্য কাজ জমিয়ে রাখা
সময়সূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন :
১. আত্মবিশ্বাস
২. অ্যাডভান্সড পরিকল্পনা করা
৩. সময়সূচি নিজের সুবিধা অনুসারে তৈরি করা
৪. সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করা
৫. অন্যান্য কাজের সাথে খাপ খাইয়ে সময়সূচি করা
৬. কাল নয় আজই শুরু করুন।
সময় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কতিপয় বিষয় :
১. যে কোন কাজের মধ্যে সময় বাঁচানোর চেষ্টা
২. সময় ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা
৩. কাজ দ্রুত শুরু করা
৪. কাজ ও দায়িত্ব বন্টন
৫. ভ্রমণের সময় স্টাডি করা
৬. এক সাথে অনেক কাজ করা
৭. কোন কাজে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় না দেয়া
সময় বাঁচানোর আরও কয়েকটি ইঙ্গিত : হিশাম আল তালিব এ সম্পর্কে তাঁর বইতে চমৎকার আলোচনা করেছেন। তার সার-সংক্ষেপ হচ্ছে:
১. দিনের শুরুতে সকল কাজের লিখিত পরিকল্পনা নেয়া এবং হয়ে গেলে একটি একটি করে কেটে নিন
২. টেলিফোনে না জানিয়ে কারও কাছে না যাওয়া
৩. কাগজ কলম বা ছোট নোট সব সময় সাথে রাখবেন
৪. বিশ্রামের সময়কে নামাজের সময়ের সাথে মিলিয়ে পরিকল্পনা করুন
৫. লেখাপড়া করে, কোন কিছু মুখস্থ করে বা গঠনমূলক কিছু করে অবসর সময়ের সদ্ব্যবহার করুন
৬. সাক্ষাৎ-সূচি করার সময় উভয়ই যেন সঠিক সময় ভালোভাবে বুঝে নেন সে দিকে লক্ষ্য রাখবেন
৭. দূরে যেতে হলে সম্ভাব্য সময়ের চেয়ে বেশি সময় হাতে রাখা
৮. যে কোন কাজ করার সময় প্রয়োজনীয় সকল উপাদান হাতের কাছে নিয়ে নিবেন
৯. আপনার সময়ক্ষেপণ হতে পারে এমন চিন্তাশূন্য এবং আত্মকেন্দ্রিক লোক এড়িয়ে চলবেন
১০. চিঠি বা টেলিফোনে সেরে নেয়া যায় এমন কাজের জন্য ব্যক্তিগত ভাবে যাবেন না
১১. কারো সাথে অ্যাপয়মেন্ট নিয়ে কথা বলতে যাওয়া এবং কত সময় কথা বলবেন তা জানানো
১২. সেল্ফ ম্যানেজার : নিজেই নিজের ম্যানেজার- ব্যবস্থাপক হতে হবে।
সময়কে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানোর টিপস :
১. টু-ডু লিস্ট তৈরি করা
২. নিজের সক্ষমতাকে জানা
৩. একটি ভালো পরিকল্পনা করা
৪. পরিকল্পনাকে নিয়মিত পর্যালোচনা করা
৫. কাজের পর্যলোচনা করা
৬. সময়ব্যবস্থাপনার টিপসসমূহ মেনে চলা
৭. ঘুমানোর আগে সারা দিনকে পর্যালোচনা করা
৮. প্রতিদিনের একই ধরনের সমস্যাগুলো থেকে মুক্ত থাকা
৯. সম্ভব হলে কিছু কাজ অন্য কাউকে দিয়ে করানো
১০. সময় এবং কাজকে উপভোগ করা
জীবনকে অর্থবহ, সমৃদ্ধ ও সুখস্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সময় সচেতন ও পরিকল্পিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়া। আদর্শ মানুষ ও সুন্দর জীবনের জন্য প্রয়োজন একটি পরিকল্পিত সময় ব্যবস্থাপনা। আমরা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সফলতা পেতে চাইলে এর কোনোই বিকল্প নেই। [সমাপ্ত]
লেখক : সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ