ঢাকা, মঙ্গলবার 3 July 2018, ১৯ আষাঢ় ১৪২৫, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় জন্ডিস রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় জন্ডিস রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা মেয়রের নির্দেশের পর জন্ডিস প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বললেও কার্যত তাতে কিছুই হচ্ছে না। ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার প্রচারণার কথা বলা হলেও এই সকল প্রচারণা মানুষের মাঝে তেমন কোন সাড়া ফেলেনি। ক্রমাগত জন্ডিস রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির  জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি ও জনগণের অসচেতনতা দায়ী করছে ডাক্তাররা। বিভিন্ন সংগঠন চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির দাবিতে সভা সমাবেশ মানববন্ধন করে চলছে। সচেতন নাগরিকরা বলছে, ষাট লাখ লোকের মহানগর চট্টগ্রামের পানি বিশুদ্ধরূপে সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে জন্ডিসের এ প্রদুর্ভাব শুধু হালিশহর নয় চট্টগ্রাম মহানগরীতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়বে।
এদিকে আগ্রাবাদ আবিদরপাড়া, ছোটপুল, বড়পোল, বলিরপাড়া, ইসলামিয়া ব্রিক ফিল্ড, বেপারীপাড়া ও হালিশহরের আই ব্লক এ জন্ডিস রোগীর সংখ্যা বেশী বলে জানা গেছে। সিভিল সার্জন ডা: আজিজুর রহমান সিদ্দিকী  জানান, হালিশহর এলাকার পাশাপাশি আগ্রাবাদ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় জন্ডিসের রোগী পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাই আমরা আগ্রাবাদ মসজিদ কলোনিতে আরবান ডিসপেন্সারির অস্থায়ী ক্যাম্প চালু করেছি। যেখানে ২০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি ও ৫ হাজার খাবার স্যালাইন দেয়া হয়েছে। এছাড়া, জনসচেতনতার জন্য লিফলেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ‘আমাদের কাছে (সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ) মোট ৭৪৯ জন জন্ডিস রোগীর খবর আছে। তবে এ সংখ্যা আরো বাড়বে। সে অনুসারে ওষুধ সরবরাহও বাড়ানো হবে।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চট্টগ্রাম মহানগরী-বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অন্যতম জনবহুল এলাকা হালিশহরে পানিবাহিত মারাতœক রোগের প্রাদুর্ভাবে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ওয়াসার পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী জীবাণু। সে পানি পান করে ইতোমধ্যে মারা গিয়েছে ৩জন। এটা সরকারি ভাষ্য; বেসরকারি হিসাবমতে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১০। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে জনগণের সাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের খান ও সেক্রেটারি এস এম লুৎফর রহমান। তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন- হালিশহরের বসবাসরত সকল জনগণ, বিশেষ করে শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা-ঠেলা-ভ্যানচালকসহ নিম্ন আয়ের বস্তিবাসী মানুষ চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। একদিকে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব, অন্যদিকে খাবারপানির চরম সঙ্কট বিরাজ করছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধীরগতির পদক্ষেপ হতাশাজনক। আমরা এ মানবিক বিপর্যয় রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। জনবল সংকট থাকলে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সেচ্ছাশ্রম দিয়ে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু আর একটি প্রাণও যেন কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ঝরে না পড়ে, সে ব্যাপারে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।পাশাপাশি আগ্রাবাদ-হালিশহর এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থাও শোচনীয়। প্রায় ভেঙে পড়া যোগাযোগব্যবস্থা সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানান নেতাদ্বয়।
চট্টগ্রামে নাগরিক সমাবেশ -বন্দরনগরীর হালিশহরে পানিবাহিত জন্ডিস রোগের প্রাদুর্ভাবের দায় চট্টগ্রাম ওয়াসা এড়াতে পারে না উল্লেখ করে নগরবাসীর জীবন বাঁচানো এবং জনস্বাস্থ্য নিরাপদ করতে চট্টগ্রামের সরকারি সকল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে এক নাগরিক সমাবেশ থেকে। একইসাথে ষাট লাখ লোকের মহানগর চট্টগ্রামের পানি বিশুদ্ধরূপে সরবরাহ নিশ্চিত করতে ওয়াসার প্রতি দাবি জানিয়ে বলা হয়, না হলে জন্ডিসের এ প্রদাুর্ভাব শুধু হালিশহর নয় চট্টগ্রাম মহানগরীতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়বে।নগরীর হালিশহরে পানিবাহিত রোগ জন্ডিসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে গতকাল (সোমবার) সকালে পিপলস ভয়েস ও রসায়ন সমিতি চট্টগ্রাম আয়োজিত মানববন্ধন ও নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে।সমাবেশে আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলি দেলোয়ার মজুমদার বলেন, হালিশহরে জন্ডিসে রোগী আক্রান্ত হচ্ছে আর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ