ঢাকা, মঙ্গলবার 3 July 2018, ১৯ আষাঢ় ১৪২৫, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

৮ দিনের অনশনে অসুস্থ দেড় শতাধিক শিক্ষক

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের আমরণ অনশন চলছে। ছবিটি গতকাল সোমবার তোলা সংগ্রাম

# শিক্ষকদের দাবি মেনে নেয়া উচিত -মকসুদ
স্টাফ রিপোর্টার : এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশনের ৮ম দিনে দেড়শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এরপরও তারা দাবি আদায়ে অনঢ় অবস্থানে আছেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন তাদের দাবি পূরণে শিক্ষামন্ত্রী আন্তরিক নন। অন্যদিকে শিক্ষকদের দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। তিনি বলেন, শিক্ষকদের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে তাদের এই আন্দোলন যৌক্তিক। সরকারের উচিত শিক্ষক সমাজের এ দাবি মেনে নেয়া।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গত ৮ দিন ধরে আমরণ অনশন পালন করছেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে তারা এই অনশন করছেন। সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এই সংগঠনটির সভাপতিসহ ১৫৮ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গুরুতর অসুস্থ ৭ জনকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাস্তার ওপর স্যালাইন নিচ্ছেন আরও ৩৫-৪০ শিক্ষক।
গতকাল সোমবার সকালে শিক্ষকদের আমরণ অনশনের স্থানে আসেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। এ সময় তিনি বলেন, গত আট দিন ধরে শিক্ষকরা রাস্তার আমরণ অনশন করছেন। এতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এটা বিভিন্ন মিডিয়াতে আসছে। শিক্ষকদের এ অবস্থা দেখে আমি বসে থাকতে পারিনি। বিবেকের তাড়নায় চলে এসেছি। কালক্ষেপণ না করে সরকারের উচিত আজই শিক্ষকদের দাবি মেনে নিয়ে তাদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করা। শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শিক্ষক সমাজ আজ রাস্তায় পড়ে অসুস্থ হচ্ছেন যা জাতির জন্য লজ্জাকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই। আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত।
শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষকরা বলেন, যদি আমাদের জায়গায় থাকতেন তবে তিনি কী করতেন? বছরের পর বছর বিনা বেতনে চাকরি করছি, রাষ্ট্রের কি দায় নেই? আদতে শিক্ষামন্ত্রী ব্যর্থ। তার আন্তরিকতার অভাব। তিনি চান না শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হোক। মন্ত্রী এক কথা বলেন, সচিব আরেক কথা বলেন। ন্যায্য দাবি পূরণে কখন শিক্ষকরা রাস্তায় দাঁড়ান শিক্ষামন্ত্রী কি তা বোঝেন না? তিনি কি অনুভূতিশূন্য?
শিক্ষক নেতারা বলেন, আমরা তো বেশি কিছু চাইনি। আমরা শ্রমের বিনিময়ে পারিশ্রমিক চাইছি। বছরের পর বছর বিনা বেতনে শ্রম দিচ্ছি। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, বিসিএস দিচ্ছে, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এসপি হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকতা করছে। অথচ আমরা শিক্ষকরা রাস্তায় কেন? কারণ আমরা বিনা বেতনে চাকরি করছি। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বীকৃত হলেও এমপিওভুক্ত নয়। এর দায় কি কারো নেই?
এদিকে এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দুটি প্রস্তাব দিয়েছেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। দাবি দুটি হলো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আওতায় এনে আংশিক বেতন চালু করে পরবর্তী অর্থবছরে তা সমন্বয় করা। দুই, দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত না হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য এমপিওভুক্তির পর তিন বছর সময় দেয়া। আশা করছি, আমাদের দাবি পূরণ হবে। শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের কর্মস্থলে ফিরবেন। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চলবে।
প্রসঙ্গত,সারাদেশে পাঁচ হাজারের অধিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন এসব শিক্ষকরা। অনেকের চাকরির মেয়াদ আছে ৫-১০ বছর। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা অত্যন্ত কষ্টকর ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ