ঢাকা, মঙ্গলবার 3 July 2018, ১৯ আষাঢ় ১৪২৫, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আমেরিকায় প্রয়োজনীয় যাত্রী পাওয়া যায় না ॥ তবু ফ্লাইট চালুর আশ্বাস

সংসদ রিপোর্টার : বাংলাদেশ বিমান এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠান। আরও বেশি লাভজনক করতে নতুন নতুন রুট চালু করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল। মন্ত্রী জানান, আগে লোকসানে চললেও পর পর তিন বছর অর্থাৎ ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৭২ দশমিক ২৩, ২৭৫ দশমিক ৯৯ ও ৪৬ দশমিক ৭৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান। মন্ত্রী বলেন, বিমানের ২০১৬-১৭ অর্থ-বছরে বার্ষিক নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানের আয়ের চেয়ে ব্যয় কম হয়েছে। এ হিসেবে ওই অর্থ-বছরে বিমানের ৪৫৫১.৫২ কোটি টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৪৫০৪.৭৭ কোটি টাকা অর্থাৎ লাভের পরিমাণ ৪৬.৭৬ কোটি টাকা।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে দীর্ঘ দেড় যুগ বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আমেরিকার ফ্ল্যাইট চলাচল বন্ধ থাকার পর আবারো চলবে বলে আসার বাণী শোনালেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল। তিনি বলছেন, আমি আমেরিকাতে সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে আগ্রহী। তবে আমাদের বোয়িং ৭৭৭ বিমান যদি আমেরিকায় যায় তাহলে ফিরে আসার জন্য যে পরিমান যাত্রী প্রয়োজন আমরা তা পাই না। যাত্রী পাওয়ার জন্য সেখানে অর্থাৎ আমেরিকায় ৩-৪ দিন বসে থাকতে হয়। এজন্য আমাদের বিমানের ক্রুসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের আমেরিকাতেই থাকতে হয়। এতে অনেক খরচ ও লোকসান হয়। আমরা ছোট অর্থাৎ দু আড়াই শ’ যাত্রীবহনযোগ্য বিমান ক্রয় করার পর অনতিবিলম্বে আমেরিকাতে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার চেষ্টা করবো।
প্রশ্নকর্তা বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আমেরিকার ফ্লাইট চলাচল বন্ধ। তাছাড়া আমেরিকাতে ফ্লাইট নামার যে শর্ত আছে সেগুলো বাংলাদেশ পূরণ করতে পারছে না বলে ফ্লাইট চালু হচ্ছে না।
গতকাল সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, মোহম্মদ আবদুল মান্নান ও মো. মামুনুর রশিদ কিরণের পৃথক দু’টি প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান। সংসদে বিমানের লাভের খতিয়ানও তুলে ধরেন মন্ত্রী। এর আগে বিকেল ৫টার পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়।
বিমানকে আরো লাভজনক করার জন্য বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিমান বহর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ২০০৮ সালে ১০টি উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি সম্পাদিত হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী এরইমধ্যে ৪টি ৭৭৭-৩০০ইআর ২০১১ ও ২০১৪ সালে এবং ২টি ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ ২০১৫ সালে বিমান বহরে যুক্ত হয়েছে। অবশিষ্ট ৪টি ৭৮৭-৮ (ড্রিম লাইনার) উড়োজাহাজের মধ্যে ২টি উড়োজাহাজ আসছে আগস্ট ও নবেম্বর, অপর ২টি ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বিমানের কাছে হস্তান্তরের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য কানাডার উড়োজাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বমব্রাডার ইনক (ইড়সনধৎফবৎ ওহপ.) এর কাছ থেকে ৩টি ড্যাশ-৮কিউ৪০০ উড়োজাহাজ জি টু জি ভিত্তিতে কেনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
তাছাড়া ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য কিছু নতুন গন্তব্যে সার্ভিস সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিমান বহরে ক্যাপাসিটি বৃদ্ধির জন্য ২০১৮ সালে ২টি ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ ও একটি টারবো-প্রপ উড়োজাহাজ লিজ ভিত্তিতে সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ বিমানে যাত্রী পরিবহন ও রাজস্ব কমে গেছে এমন প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। বিমানে যাত্রী পরিবহন ও রাজস্ব আহরণের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বিগত ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যাত্রী পরিবহন ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা হ্রাস পেয়েছে। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং ২০১৬-১৭ সালের আগের অর্থবছর থেকে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ রাজস্ব হ্রাস পেয়েছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিমান বন্দরে ল্যাগেজ পেতে দেরী হয় ঠিকই। এতদিন পুরাতন যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ চলছিল। আমরা নতুন যন্ত্রপাতি কেনার ব্যবস্থা করেছ্,ি আশা করি ল্যাগেজ ডেলিভারীতে এখন আর দেরী হবে না। তার পরেও যদি কেউ অভিযোগ করেন তার ল্যাগেজ হারিয়ে বা কাটা গেছে, তা হলে আমার কাছে অভিযোগ এলে সেই কর্মকর্তা বা কর্মীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ