ঢাকা, মঙ্গলবার 3 July 2018, ১৯ আষাঢ় ১৪২৫, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কবিতা

সমর্পণ
সিরাজাম মুনিরা ঝুমানা

শুরুটা ঘটেছিল
আকস্মিক ভাবেই
পৃথিবী তার সমস্ত
প্রাচুর্য নিয়ে
আমার তরুণ মনকে মুগ্ধ
করেছিল যাত্রার সঙের মতো
চারপাশের বর্ণিল
মানুষেরা
আমার তরুণ চোখে ঢেলেছিল
ঝাঁঝালো স্বপ্নের বারুদ;
স্বাধীনচেতা এই আমি,
নতুনত্বের বীজ বুনেছিলাম
আমার সমগ্র চিন্তায়, মননে,
প্রকাশভঙ্গিতে...
কিন্তু,
হঠাৎ করেই সেই
অবাধ স্বাধীন জীবন
তার সমস্ত
শূন্যতা নিয়ে
তার সমস্ত
দীনতা নিয়ে,
মাথা হেঁট করে দাঁড়াল
আমার সদ্য বিচূর্ণ আয়নায়Ñ
পৃথিবীর সব
প্রাচুর্য,
যেন ফিকে হয়ে গেছে
আমার আঙিনায়;
ম্লান হয়ে গেছে রঙধনু
রঙের স্বপ্নগুলো..
এক তীব্র আলোড়নে আমার
নির্জীব সত্তা যেন
তীরবিদ্ধ সফেদ হাঁসের
মতো প্রকম্পিত...
অসীম বিস্ময়ে, অন্তহীন
পুলকে জাগ্রত হই।
এখন আমার একবর্ণী
স্বপ্নই
সতেজ, সজীব করে
পৃথিবীকে
গভীর নিশীথে ক্লান্ত তনু
প্রশান্ত হয়ে উঠে তাঁর
তাসবিহতে;
আত্মার নিভৃত কোণে প্রতিধ্বনিত
হয় অবিরাম-
‘শুদ্ধতার সাধনায় হোক বিনীত
সমর্পণ।’


দ্বীনের বিজয়

কারার প্রাচীর শক্ত করে
যায় কি রোখা সত্য ডাক
বরং আরো দ্বিগুণ জোরে
ছাড়বে নকীব দীপ্ত হাক!
আয়েশ করে বাঁচতে চাওয়া
মুজাহিদের কল্প নয়
শাহাদাতের স্বপ্ন বুকে
তারও আবার কিসের ভয়?
গা বাঁচিয়ে যে চলেছে
ঝরেনি তার তাজা খুন
তার বিবেকেও জাগবে সাঁড়া
বিঁধবে হাজার বর্শা তূণ।
স্বজন সুজন হারিয়ে যার
চূর্ণ হলো তুষ্ট মন
তার দুয়ারে আসবে প্রভাত
রাঙিয়ে ভোর ঈশান কোন।
দ্বীনের জ্যোতি নেভাতে
সেই নূরেরই আলো নেয়।
যার আকাশ আজ মেঘে ঢাকা
মরে গেছে পদ্ম ঝিল
ফুটবে আবার কমল সেথায়
বে আকাশ স্নিগ্ধ নীল।


বিশ্বাসের ফুল
আতিয়া নওশীন

দুঃখ যাতনা অশ্রুর কণা
ধরছে আমায় জেঁকে
হে আমার রব! আমি তো ব্যর্থ হইনি
তোমায় ডেকে!
বিশ্বাসী জানে জীবনের মানে
তোমার তুষ্টি লাভ
তারা এও জানে
কাটাবে আঁধার আলোকের সয়লাব...
যতবার দাও মুশকিল
সাথে আসানীও থাকে ধরা
হে প্রিয় মাবুদ! মালিক আমার
দূর করো সব জরা।
তোমার মহিমা যারা জানে
তারা ঘুরে দাঁড়াতেই শেখে,
জানি হে মালিক! এবারও ব্যর্থ
হবোনা তোমায় ডেকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ