ঢাকা, বুধবার 26 September 2018, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ: আন্তোনিও গুতেরেস

আন্তোনিও গুতেরেস

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিক সুবিধা মিয়ানমারকে নিশ্চিত করতে হবে, জাতিসংঘকে নয়। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা সন্তোষজনক নয় জানিয়ে তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে জাতিসংঘ।

সোমবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে উদ্বাস্তুদের সাথে প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় কাটানোর পর বিকালে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম।

জাতিসংঘ প্রধান বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রিত জীবন বড় কষ্টকর। তারা যে পরিস্থিতির মুখে পড়ে মিয়ানমার ছেড়েছেন তা অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়। বাংলাদেশ বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ মানবিক আচরণে তাদের ঠাঁই দিয়েছে। কিন্তু এই বর্ষাকালে তাদের নিরাপদ রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া দরকার।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেন, এখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের তুলনায় আসা সহায়তার পরিমাণ অপ্রতুল। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য আরো বেশি সহযোগিতা দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ জানান।

তিনি আরো জানান, এক সাথে এত লোককে আশ্রয় দিয়ে শ্রেষ্ঠ মানবিক আচরণ করা বাংলাদেশ সরকারকে আগের ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়াও স্বল্প সুদে নতুন করে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দেয়া হবে।

এর আগে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে কক্সবাজারে পৌঁছান আন্তোনিও গুতেরেস এবং জিম ইয়ং কিম। তাদের বহন করা গাড়িবহর সকাল ১০টার দিকে উখিয়ার পথে রওনা হয়।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বালুখালী ট্রানজিট শিবির, কুতুপালংয়ের মূল রোহিঙ্গা শিবির ও নারীদের আলাদা জায়গা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা রোহিঙ্গাদের সাথে ঘটে যাওয়া চরম দুর্দশার কথা শুনেন।

তাদের সাথে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি ও জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল বিষয়ক নির্বাহী পরিচালক ড. নাতালিয়া খানেমসহ জাতিসংঘের অধীন বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কক্সবাজার সফর শেষে তারা সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ