ঢাকা, মঙ্গলবার 3 July 2018, ১৯ আষাঢ় ১৪২৫, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গৌরীপুরে ভোটের হিসাব নিকাশ জনগণ অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়

গৌরীপুর থেকে শেখ বিপ্লব: নির্বাচনী হাওয়ায় সরগরম হয়ে উঠছে রাজবাড়ী প্রসিদ্ধস্থান ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনটি। আওয়ামীলীগের এ আসনটিতে এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উল্টা হাওয়া বইছে। প্রতন্ত্য অঞ্চল থেকে শহরের সকল স্তরের মানুষের মুখে মুখে এ কথাটি শুনা যায়, নৌকার বিজয় নির্ভর করছে ধানের শীষের (বিএনপি‘র) প্রার্থী বাছাইয়ের উপর। যদিও দু‘দলে মিলে প্রায় দুই ডজনেরও অধিক প্রার্থী রয়েছে। সবাইকে মাঠ পর্যায়ে দেখা না গেলেও হাতে গুনা কয়েক জন প্রার্থী ১০টি ইউনিয়ন সহ পৌর শহর চষে বেড়াচ্ছে দীর্ঘ দিন যাবত। নানা কৌশলে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে করছে গণ সংযোগ। স্থানীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে করছেন লবিং-গ্রুপিং কে পাবে নৌকা আর কে ধানের শীষ। এ নিয়ে এখন সকল স্থানের চলছে জল্পনা কল্পনা। আর প্রতিনিয়তই চায়ের দোকানের আড্ডায় ঝড় বইছে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়ে। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক তো আছেই। জাপা‘র কোন প্রার্থীর নাম এখন পর্যন্ত শোনা যায়নি। তবে জোটের কারণে হয়তো আকষ্মীক ভাবে কোন প্রার্থী আসতে পারে বলে  জাপা‘র নেতা কর্মীরাও টুিকটাকি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীর হয়ে। এছাড়া অন্যান্য দলের কোন প্রার্থীর নাম বা প্রচারণা কথা শোনা যায়নি।
 ১৯৭০ সালে মরহুম হাতেম আলী মিয়া  আওয়ামীলীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে আওয়ামীলীগ থেকে নাজিম উদ্দিন আহাম্মেদ এমপি নির্বাচিত হন এর পর ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে এ্যাডভোকেট এ এফ এম নজমূল হুদা হন। ১৯৮৬-৮৮ সালে জাতীয় পার্টির দখলে চলে গেলেও ১৯৯১ সালে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম সরকার আসনটি পুনরুদ্ধার করলেও নজরুল ইসলাম সরকারের অকাল মৃত্যুতে উপনির্বাচনে তার সহধর্মীনি রোওশনারা নজরুল নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে বিএনপি‘র প্রার্থী এ্যাডভোকেট এএফএম নজমূল হুদা আসনটি আবারো পুনরুদ্ধার করে। ২০০১ সালে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ডাঃ ক্যাপ্টেন (অবঃ) মজিবুর রহমান ফকির আসনটি পুনরুদ্ধার করে স্থায়ী ভাবে নৌকার দখলে নিয়ে টানা তিনবার নৌকার বিজয় ধরে রাখেন এবং তিনি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৬ সালে তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে আসেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকানীল ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি,জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধ্ াজেলা কমান্ডার এড. নাজিম উদ্দিন আহমেদ। বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করলেও আ.লীগের বিদ্রোহী শক্তিশালী প্রার্থী নাজনিন আলমের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী করে নৌকার বিজয় ছিনিয়ে আনে। একাদশ নির্বাচনে বর্তমান সাংসদ ছাড়াও আ’লীগ থেকে প্রায় ২ ডজন প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে শক্তিশালী অবস্থানে থেকে প্রচার-প্রচারণা ও গণ সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক মোর্শেদুজজামান সেলিম, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নেত্রী নাজনীন আলম, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ও শেরে বাংলা কৃষি বিশা¦বিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি ড. সামিউল আলম লিটন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরিফ হাসার অনু, উপজেলা আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ খান পাঠান সেলভী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও শহিদ সৈয়দ নজরুলর ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ একেএ, আবদুর রফিক, গৌরীপুর পৌর সভার দুই বারে নির্বাচিন মেয়র ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সভাপতি গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রিী (অনার্স) কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ রুহুল আমিন, সাবেক পৌর মেয়র মোঃ শফিকুল ইসলাম হবি, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবুল (ভিপি বাবুল), উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহাম্মদ, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সানাউল হক, উপজেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাবেয়া ইসলাম ডলি, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবু কাউসার চৌধুরী রন্টি, সাবেক এমসিএ, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক হাতেম আলী মিয়ার ছেলে পৌর আ’লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারন সম্পাদক  হারুন উর-রশিদ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি এড. মোজাম্মেল হক, শিল্পপতি এম এ মামুন ও অভিনেত্রী জ্যতিকা জ্যতির নামও শোনা যাচ্ছে। এ সব প্রার্থীরা ঈদ, পূজা উপলক্ষে শহর থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি হাটবাজারে তোরন ও পোষ্টার সাটিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। আবার কেউ কেউ নৌকা মার্কা সহ পোষ্টার ছাপিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী দোয়াও চাচ্ছেন। অপর দিকে বিএনপিতেও রয়েছে একাধিক প্রার্থী- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি পুনরুদ্ধার করছে মরিয়া হয়ে উঠেছেন, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপি‘র যুগ্ম আহবায়ক,উপজেলার বিএনপি‘র আহবায়ক ও বিশাল ভোট ব্যবধানে নির্বাচিত গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান, গৌরীপুর বিএনপি‘র আন্দলন সংগ্রামের প্রতিক হিসাবে যার ব্যাপক পরিচিতি আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরন। ২০০৮ সালে নির্বাচনে লক্ষাধীক ভোটে পরাজিত বিএনপি‘র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর যাকে মাঠ পর্যায়ে আর দেখা যায়নি। জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরাম ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ও জেলা আইন জীবি সমিতি দুই বারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নুরুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তানজিন চেীধুরী লিলি, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি ফয়সাল আমিন খান ডায়মন্ড, উপজেলা বিএনপি‘র যুগ্ম আহবায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম খান শহিদ, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর বিএনপি‘র সভাপতি আব্দূল খালেক মুন্সি,   শিল্পপতি শহিদুল আরেফিন খোকন।  এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৬ হাজার ৭২৫ জন।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের সাধারণ ভোটার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নৌকার ঘাটি বলে পরিচিত এ আসনটিতে এবার নৌকার বিজয় নির্ভর করছে ধানের প্রার্থী বাছাইয়ের উপর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি‘র থেকে যদি আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরন কে ধান শীষ প্রতিক দেয়া হলে নৌকার বিজয় খুব কঠিন হয়ে উঠবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ