ঢাকা, মঙ্গলবার 3 July 2018, ১৯ আষাঢ় ১৪২৫, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পরকীয়া কেড়ে নিল স্কুলছাত্রের প্রাণ

ফরিদপুর সংবাদদাতা: জেলার নগরকান্দায় নিখোঁজের ২০ দিন পর মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে তালমা ইউনিয়নের পাগলপাড়া গ্রাম হতে অপহৃত কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অপহরণকারীদের চাওয়া মুক্তিপণের টাকা দিয়েও জীবিত পেলেন না মা জান্নাতী বেগম। নিহত কিশোর আলাউদ্দিন মাতুব্বর অন্তর (১৩), পাগলপাড়া গ্রামের সাইপ্রাস প্রবাসী আবুল হোসেন মাতুব্বরের ছেলে। অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের পর কোনো শান্তনাই থামাতে পারেনি স্বজনদের কান্না। একটাই দাবি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। অপহরণকারী খোকনের পরকীয়া দেখে ফেলায় অপহরণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ৭ জুন তারাবি নামাজ এর জন্য বাড়ি থেকে বের হলে নিখোঁজ হয় তালমা নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ও পাগলপাড়া গ্রামের গ্রীস প্রবাসী আবুল হোসেনের ছেলে আলাউদ্দিন মাতুব্বর অন্তর (১৩)।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন খান জানান, মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ খোকন, শাহ আলম, সুজন ও মাহবুব আলম নামের তিনজনকে আটক করে। আটকদের দেয়া তথ্যানুসারে পাগলপাড়া গ্রামের নির্জন একটি মাঠ থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা অন্তরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ অন্তর অপহরণ মামলার আসামী মাহাবুব আলমকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অন্তরকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে। তার দেখানো জায়গা থেকেই অন্তরের লাশ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, অপহরণের পর ওই রাতেই অর্থাৎ ৮ জুন রাতেই গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে অন্তরকে হত্যা করা হয়। পরে পাগলা পাড়া গ্রামের রাস্তার পাশে খাদে মাথা নিচ দিকে দিয়ে পুঁতে রাখে অন্তরকে।
মুক্তিপণ নেয়ার ব্যাপারে এই কর্মকর্তা জানান, হত্যা করার পরে তারা ভাবে মেরেই তো ফেলেছি, কিছু টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়া যায় কিনা। সেই ভাবনা থেকেই তারা মুক্তিপণের টাকা চায়। যা পুলিশের কাছে স্বীকারও করেছে। এদিকে লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পরলে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতরণা হয় সেখানে। পরিবারের একটাই দাবি এখন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক অন্তরের হত্যাকারীদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ