ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অভিভাবক সমাবেশে পুলিশের বাধা॥ ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীদের’ প্রতিবাদী মানববন্ধন

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ অভিভাবক ও শিক্ষকদের এভাবেই টানাহেঁচড়া করে -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অভিভাবকদের ডাকা সমাবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। এ সময় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একজন শিক্ষকসহ দুইজনকে আটক করা হয়। এ দিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’। অপরদিকে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীর’ ব্যানারে মানববন্ধন করেছে ছাত্রলীগ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নগ্নপায়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও বাধা দিয়েছে প্রশাসন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দের’ ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীর’ ব্যানারে পাল্টা আরেকটি মানববন্ধন করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে এই মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও বিভিন্ন হল কমিটির নেতারা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা গত সোমবার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তার বিচার দাবি করেন এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দেয়ার আহ্বান জানান। এ ছাড়া ডাকসু নির্বাচনেরও দাবি তোলেন। এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন চারুকলার সাবেক শিক্ষার্থী সামান্থা শারমিন, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, বিশ্ব ধর্ম সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া অনিমেষ, নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দের সদস্য নূর আরাফাত, আলমগীর কবির সুমন।
মানববন্ধন শেষে নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানীর অফিসের সামনে আসেন। এ সময় তাঁরা প্রক্টরকে বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু তাঁদের সে প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি প্রক্টর। প্রক্টর তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যে সহিংসতা হয়েছে, সেটার তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তার কাজ কিছু দূর এগিয়েছে।
প্রক্টর আরও বলেন, যাঁদের ওপর হামলা হয়েছে, তাঁদের পরবর্তী সময়ে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ডাকলে অনেকেই আসেন না। তাই আমরা প্রকৃত ঘটনা জানতে পারছি না। তদন্তে সহায়তা করার জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান তিনি।
প্রক্টরের বক্তব্য শেষ হলে নিপীড়ন বিরোধী ছাত্রসমাজ প্রক্টরের অফিসের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় কী কথা হলো জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তাঁরা বলেন, প্রক্টর স্যারকে আমরা যেসব প্রশ্ন করেছিলাম, তার কোনোটিরই উত্তর তিনি ঠিকমতো দেননি। তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আবার হামলা হলে পদত্যাগ করবেন কি না? এ প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।
রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীর’ ব্যানারে পাল্টা মানববন্ধনে ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তানভীরুল হক সৈকত, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্রবৃত্তিবিষয়ক সম্পাদক শেখ সাগর, জহুরুল হক হলের সহ-সভাপতি কামালউদ্দীন রানা, জিয়া হলের উপ-প্রচার সম্পাদক হাসিবুল হক শান্ত, বিজয় ৭১ হলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাকিব হাসান, এস এম হলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক।
মানববন্ধন চলার সময়ে পেছনে গতকাল হামলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন হল শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা দাঁড়িয়ে ছিলেন। ‘গুজবকে না বলুন’, ‘আবেগ সরিয়ে বিবেক আনুন’, ‘রাশেদ নূরের ছড়ানো গুজবে কঠোর জবাব দেবে ছাত্রসমাজ’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করছিলেন তাঁরা।
মানববন্ধনে তাঁরা বলেন, কোটা সংস্কারের নামে একটি দল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্ট ঘোষণার পরও এ ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরির ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
 বক্তব্যের একপর্যায়ে তানভীরুল হক সৈকত বলেন, ‘রাশেদ এবং নূর (সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান ও নূর হোসেন) অন্য রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়িয়েছি। আমরা যেকোনো অন্যায় প্রতিহত করব।
অভিভাবক সমাবেশে পুলিশের বাধা: কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অভিভাবকদের ডাকা সমাবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। এ সময় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেহনুমা আহমেদ ও সাবেক ছাত্রনেতা বাকি বিল্লাহকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় তাদের আটক করা হয়।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশস্থলে অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ। আটক করা হয় বাকি বিল্লাহ ও রেহনুমা আহমদকে। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ফাহমিদুল হক আটককৃতদের ছাড়িয়ে আনতে গেলে পুলিশি লাঞ্ছনার শিকার হন  বলে অভিযোগ করেছেন।  পুলিশ তার গায়ে হাত তুলেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
পুলিশের দাবি অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদকে আটক করা হয়নি। ছাত্রনেতা বাকি বিল্লাহকে গ্রেফতার করা হলেও কিছুক্ষণ পরেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, রেহনুমা আহমেদকে আটক করা হয়নি, তিনি প্রেসক্লাবের সামনেই আছেন, আর বাকি বিল্লাহকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ফাহমিদুল হক বলেন, আমরা ছাত্রদের ওপর চালানো হামলার প্রতিবাদে উদ্বেগ জানাতে এসেছিলাম। আমাদেরকে সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দুজনকে আটক করা হয়েছে। আমি তাদের ছাড়িয়ে আনতে গেলে আমাকে পুলিশ লাঞ্ছিত করেছে। গায়ে হাত তুলেছে। ধস্তাধস্তি করেছে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
সমাবেশে আসা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে, আমাদের সন্তানদের আহত করেছে। অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। আজকে এখানে তাদের অভিভাবকরাসহ আমরা সবাই আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তা জানাতে এসেছি। আমরা জানি না যে এখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আমরা পুলিশের কাছে কাগজপত্র বা নির্দেশনা দেখতে চেয়েছি তারা তাও দেখাতে পারেনি। ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকি বিল্লাহ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে আমাদের মানববন্ধন শুরু হওয়ার আগেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
সমাবেশ করতে না দেয়া ও আটকের বিষয়ে ডিএমপি রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক সমাবেশের অনুমতি দিয়ে থাকি। কিন্তু তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানি ছড়িয়ে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তারা সুনির্দিষ্ট কোনও ব্যানারে সমাবেশ করতে আসেনি। তাই তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে।
সন্তানদের লেখাপড়ার নিরাপদ পরিবেশ চাই: শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে এক অভিভাবকের আকুতিসারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতন বন্ধ করে শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হওয়া এক ছাত্রের অভিভাবক।
গতকাল বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে এ দাবি জানান নজরুল ইসলাম তালুকদার নামের ওই অভিভাবক। তিনি বলেছেন, সব ছাত্র আমার সন্তান। সব অভিভাবকের পক্ষে আমি আমার সন্তানদের নিরাপদে পড়াশুনার পরিবেশ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। আমার সন্তানদের লেখাপড়ার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। আমি সরকারের কাছে এই দাবি জানাই।
সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ সমাবেশে এসেছিলেন তিনি। বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পূর্বঘোষিত সমাবেশটি পুলিশ বাধা দিয়ে পণ্ড করে দেয়। সমাবেশ না হওয়ায় সরকারের উদ্দেশে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন নজরুল ইসলাম তালুকদার।
তিনি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, আমার ছেলের নাম তালুকদার নাঈম ইসলাম। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করেছে। মেয়ে কান্তা ইসলাম ইডেনে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। তাদের দু’জনকেই মারধর করা হয়েছে। সারাদেশে আমার সন্তানের মতো সাধারণ ছাত্রদের ওপর নির্মমভাবে হামলা করা হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। আমরা শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ছাত্রদের নৈতিক দাবির আন্দোলনে অন্যায়ভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এ অন্যায়ের বিচার চাই। আটক ছাত্রদের মুক্তি দেওয়া হোক। আহত ছাত্রদের সরকার নিজ উদ্যোগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুক।
মুফতি হুজাইফা হাসপাতাল থেকে ফিরছিলেন: রাজধানীর শাহবাগে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মারধরের শিকার তরুণ মুফতি মুহাম্মদ হুজাইফা কোটা আন্দোলনে জড়িত নন। তিনি কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া মাহমুদিয়া মাদরাসার হাসিস ও ফতোয়াবিষয়ক শিক্ষক। কয়েক দিন ধরে অসুস্থ থাকার পর রোববার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন মুফতি হুজাইফা।
গত রোববার বিকাল ৪টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে রিকশাযোগে কর্মস্থল কামরাঙ্গীরচরে ফেরার পথে শাহবাগে আক্রান্ত হন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মুফতি হুজাইফাকে মারধরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, তিনি চিৎকার করে মারধরকারীদের বলছেন- আমি কিছুই করিনি, আমি কিছুই করিনি, আপনারা তো আমার কথা শুনবেন। তবে হামলাকারীরা তার কোনো কথাই শোনেনি।
জানা গেছে, শাহবাগে মুফতি হুজাইফাসহ ছয়জনকে ধরে মারধর করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. আল জুবায়ের ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের স্কুল ছাত্রবিষয়ক উপ-সম্পাদক সৈয়দ আরাফাত।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা আল জুবায়ের বলেন, তারা আশপাশে দাঁড়িয়ে থেকে ফেসবুকে গুজব ছড়াচ্ছিল। তাদের হাতেনাতে ধরে আমরা পুলিশে সোপর্দ করেছি। পুলিশ জাস্টিফাই করে ব্যবস্থা নেবে। তবে শাহবাগ থানায় নেয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কোটা আন্দোলনে সম্পৃক্ততা না পেয়ে ওই দিনই পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।
ইসলামী ঐক্যজোটের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি সোমবার ফেসবুকে হামলার শিকার মুফতি হুজাইফার পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি জানান, হুজাইফা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক মাদরাসা থেকে আলেম হওয়ার পর রাজধানীর বসুন্ধরা মাদরাসায় ফতোয়াবিষয়ক (ইফতা) পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। এরপর চলতি বছর কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া মাহমুদিয়া মাদরাসায় মুফতি ও মুহাদ্দিস হিসাবে যোগ দিয়েছেন। মাওলানা সাখাওয়াত জানান, বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কামরাঙ্গীরচরের মাদরাসায় ফেরার পথে মুফতি হুজাইফা শাহবাগে মারধরের শিকার হন।
নগ্নপায়ে প্রতিবাদে রাবিতে বাধা: রাবি রিপোর্টার জানান, দেশব্যাপী কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগ কর্তৃক হামলার ঘটনায় নগ্নপায়ে প্রতিবাদ করতে চেয়েছিল শিক্ষার্থীরা কিন্তু এ কর্মসূচিতে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদেরকে চলে যেতে নির্দেশ দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান ফেসবুক স্ট্যাটাসে নগ্নপায়ে আসার ঘোষণা দেন। ফরিদ উদ্দিন খান তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেন ‘দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা ও লাঞ্চনার প্রতিবাদে নগ্নপায়ে অফিসে যাব। সকাল ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত জোহা স্যারের মাজারে দাড়িয়ে নিরবতা পালন করবো। খালিহাতে, নগ্নপায়ে এবং নীরবে যে কেউ অংশ নিতে পারবে। কোন স্লোগান না, বক্তৃতা না, না কোন রাজনীতি। এই নগ্নপায়ে নিরব প্রতিবাদ বোঝাবে আমরা আর সভ্য সমাজের নাগরিক নয়, যেখানে বাক স্বাধীনতা আছে, যেখানে ন্যায় সঙ্গত প্রতিবাদের সুযোগ আছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জোহা চত্বরে আসতে থাকে। শিক্ষকরাও আসতে থাকেন। উপস্থিত হন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রায়হানা শামস্ ইসলাম, শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার বানু, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, ফার্মেসী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. বায়তুল মোকাদ্দেসুর রহমান, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ছাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
তবে ঘোষণা দেওয়া শিক্ষক অবস্থান স্থলে আসতে পারেন নি। তাকে আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ বিশ^বিদ্যালয় প্রক্টর ও অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি কে বিএম মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। মাহবুবুর রহমান তাকে আটকানোর বিষয়টি স্বীকার করেন।
অন্যদিকে বেলা ১১ টা থেকে সেখানে নগ্নপায়ে অবস্থান কর্মসূচী শুরু হলে প্রক্টর এসে বাধা প্রদান করেন। অবস্থান কর্মসূচী ১২ টা পর্যন্ত চলে।
এদিকে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্যারিস রোডে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে ঘোর অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
এসময় প্রক্টর আবারও উপস্থিত হন। বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বলেছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়টি আমাদের কাছে খারাপ লেগেছে। তাই আমরা এখানে তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করার জন্য দাড়িয়েছি। ১০ মিনিট অবস্থান করে চলে যাওয়ার কথা বলে তারা। কিন্তু এই বিষয়টিকে ইস্যু করে বিএনপি জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছিল। এখন তারা চলে গেছে পরিস্থিতি শান্ত আছে।
অস্ত্রোপচার ছাড়া তারিকের পা স্বাভাবিক হবে না: ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলায় আহত বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম তারিকের পা ভেঙে গেছে। অস্ত্রোপচার ছাড়া তার পা স্বাভাবিক হবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
আহত তারিক বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করায় তারেকের ডান পা ভেঙে গেছে। আপাতত প্লাস্টার করে রাখা হয়েছে। তবে অস্ত্রোপচার না করলে তার পা স্বাভাবিক হবে না। তারিকের সারা শরীরে প্রচুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক।
তিনি বলেন, তারিকের সিটিস্ক্যান করা হয়েছে। তবে মস্তিষ্কে বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
গত সোমবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটে তারিককে লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক পেটায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় পাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য থাকলেও নীরব ভূমিকা পালন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ