ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সুইজারল্যান্ডকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেন

রফিুকুল ইসলাম মিঞা : রাশিয়া বিশ্বকাপে অবশেষে ইতিহাস গড়ল সুইডেনই। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ২৪ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল দলটি। গতকাল দলটি ১-০ গোলে হারায় সুইজারল্যান্ডকে। ১৯৯৪ সালে সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল সুইডেন। ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল দলটি। অবশ্য এই ম্যাচে জিতলে ইতিহাস গড়তে পারত সুইজারল্যান্ডও। কারণ দলটির সামনেও ছিল ৬৪ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার হাতছানি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলটি সুইডেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই দেশে ফিরতে হচ্ছে সুইজারল্যান্ডকে। আর যোগত্যার প্রমাণ দিয়ে টিকে রইল সুইডেন। দলটি জায়গা হলো রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ আটে।
এই ম্যাচে দু’টি দলের সামনেই ছিল ইতিহাস গড়ার সুযোগ। ফলে ম্যাচের প্রথম থেকেই এগিয়ে যাওয়ার জন্য সফল আক্রমণের চেষ্টা করে দল দুটি। তবে বিরতির আগে কোন দলই সফল আক্রমণ করে প্রথম গোল দিয়ে এগিয়ে থাকতে পারেনি। তবে ম্যাচে প্রথমে আক্রমণে যায় সুইডেনই। সুইজারল্যান্ডও কম যায়নি। চলে একের পর এক আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ। তবে ম্যাচের সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগটি সুইডেন পেয়েছিলন ৪২ মিনিটে। নিশ্চিত গোলের সুযোগ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোল পায়নি দলটি। মিকায়েল লাসটিগ ক্রস দেন আলবিন একদালকে। তিনি পায়ের আলতো ছোঁয়ায় চেয়েছিলেন বলটি জালে প্রবেশ করাতে। সামনে গোলরক্ষকও ছিলনা। একেবারে ফাঁকা পোস্ট। এমন সুযোগটা নষ্ট করলেন একদাল। পারেনি পায়ে বল লাগাতে। বলের গতির কারণে সেটি সোজা উঠে পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে বলটি বাইরে যায়। অবশ্য এর আগে পর পর দুটি দারুণ সুযোগ মিস করেছিল সুইজারল্যান্ড। ৩৮ মিনিটে কর্নার কিক থেকে বল নিয়ে ওয়ান-টু ওয়ান পাসে স্টিভেন জুবের আর জেমাইলি মিলে বল নিয়ে আসেন সুইডেনের পোস্টের সামনে। শেষ মুহূর্তে জেমাইলি একেবারে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও বলটি মেরে দিলেন বারের ওপর দিয়ে। ২ মিনিট পর আবারও দারুণ একটি সুযোগ। এবার জেমাইলি সেই সুযোগটি নষ্ট করে দেন। সুইডেনের জালে বলটি পাঠাতে পারলেনা তিনি। ফলে প্রথমার্ধে গোল শুন্য থেকেই বিরতিতে যায় দল দুটি। বিরতির পর গোলের নেশায় মরিয়া ছিল উভয় দল। তবে প্রথমে গোল করে এগিয়ে যায় সুইডেনই। খেলার ৬৬ মিনিটে প্রথম গোল পায় সুইডেন। দলের পক্ষে এমিল ফরসবার্গ গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। বাঁ পাশ থেকে আক্রমণ যায় সুইডিশরা। বড় ডি এর ঠিক উপরটায় বল পেয়ে মুহূর্তে বল নিয়ে সামান্য সরে জায়গা বের করেই প্রবল গতির শট নিলেন তারকা এমিল ফরসবার্গ। সুইস গোলকিপার ইয়ান সমারের দর্শক হয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। ফলে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে সুইজারল্যান্ড। বিরতির পর গোল খেয়ে গোল পরিশোধের নেশায় বারবার আক্রমণের চেষ্টা করেছে সুইজারল্যান্ড। কিন্তু দলটি সফল আক্রমণে করে গোলের দেখা পায়নি। আর সুইডেনও পারেনি আর কোন গোল করে ব্যবধান বাড়াতে। ফলে ১-০ গোলে জিতেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে সুইডেন। অবশ্য ইনজুরি টাইমে আরো একটি গোল করে জয়টা ২-০ ব্যবধানে করত পারত সুইডেন। কারণ বক্সের বাইরে অবৈধ্য ফাইল করার দায়ে সুইজারল্যান্ডের শারিয়ান শার লাল কার্ড পেলে ফ্রি-কিক পেয়েও গোল করতে পারেনি সুইডেন। ফলে ১-০ গোইে জয় পায় দলটি।
সুইডেন একাদশ : রবিন ওলসেন, মিকায়েল লাসটিগ, ভিক্টর নিলসন লিন্ডেলফ, আন্দ্রেস গ্রাঙ্কভিস্ট, লুডউইগ অগাস্টিনসন, ভিক্টর ক্লায়েসন, গুস্তাভ এসভেনসন, আলবিন একদাল, এমিল ফরসবার্গ, মার্কাস বার্গ, ওলা তোইভোনেন।
সুইজারল্যান্ড একাদশ : ইয়ান সোমের, মিকায়েল ল্যাঙ, ইয়োহান জুরু, ম্যানুয়েল আকানজি, রিকার্ডো রদ্রিগেজ, ভ্যালন বেহরামি, গ্রানিত জাকা, জাদরান শাকিরি, ব্লেরিম জেমাইলি, স্টিভেন জুবের, জোসিপ দ্রিমিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ