ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগে আরও পরিষ্কার হবে বিশ্ববাসীর কাছে

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রাখাইন রাজ্যের ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলমান নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে ১১ মাসেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। রোহিঙ্গা সংকটের সহসাই সমাধান হবে বলেও মনে করছেন না বিশ্ব নেতারা। তারা চায় রোহিঙ্গারা তাদের সম্পূর্ণ মৌলিক অধিকার নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাক। তাইতো রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ দূর্ভোগ নিজ চোঁখে দেখতে বাংলাদেশ সফরে আসেন জাতিসংঘের মহাসচিব, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও রেড ক্রসের প্রেসিডেন্ট। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ব নেতাদের এ সফরকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন সরকার। তারা এ সফরকে বাংলাদেশের জন্য বিরল ঘটনা হিসাবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্বনেতাদের এ সফরের মাধ্যমে রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য আশায় বুক বাঁধছেন। তারা জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানান বিশ্বনেতাদের কাছে। একইসাথে তাদের ওপর চালানো নির্মম অত্যাচারের বিচারও চেয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সফরের মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গাদের প্রকৃত দূর্ভোগের একটা চিত্র ফুটে উঠবে। ফলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের কাজ দ্রুত করার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করা বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে। একইসাথে তারা এই মুহুর্তে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রতিবেশী বৃহৎ দু’টি দেশ ভারত ও চীনকে কাছে না পাওয়া সরকারের রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসাবে উল্লেখ করেছেন।
এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের প্রশ্নে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের বাংলাদেশ সফর খুবই ইতিবাচক। গুতেরেস ও কিমের এই সফর মূলত রোহিঙ্গা সমস্যা সরেজমিন দেখার জন্য। এ জন্য আমরা এ দুই সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞ। গুতেরেস ও কিমের সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্বকে বোঝানো গেছে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা কতটা প্রকট। এই দু’জনের বাংলাদেশের সফর মিয়ানমারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
গত শনিবার রোহিঙ্গাদের চরম দূর্দশা নিজ চোখে দেখার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বাংলাদেশ সফরে আসেন। তারা প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এরপর গত সোমবার তারা যান কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে। সেখানে বসবাসরত মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের হত্যাযজ্ঞের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছে নিষ্ঠুর নিপীড়নের বর্ণনা শুনেন। জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উখিয়ার কুতুপালংয়ে বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবির সরেজমিন প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় তাদের সাথে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপো গ্রান্ডি, আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের প্রেসিডেন্ট পিটার মাউরা, জাতিসঙ্ঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) নির্বাহী পরিচালক ড. নাতালিয়া কানিম। ব্রিটেনের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড ও মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ার ইয়াংহি লিসহ দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার নেতৃবৃন্দ।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর শেষে সফররত জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক সমাধান ও দায়বদ্ধতা দুটোরই প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, রোহিঙ্গাদের পূর্ণ মর্যাদা নিয়ে ফেরত যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক সমাধান ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক সমাধান খুব পরিষ্কার। মিয়ানমার সরকার এবং তাদের সামারিক বাহিনীকে রাখাইনে একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে পারে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। রোহিঙ্গারা যাতে দেশে ফেরত যেতে পারে সেজন্য মিয়ানমার সরকারের ওপর দৃঢ়ভাবে চাপ প্রয়োগ করতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের শরীরে এখনো মিয়ানমারের সেনাদের চালানো নির্যাতনের ভয়াবহ চিহ্ন আছে। হত্যা আর ধর্ষণের যে বিবরণ শুনেছি তা অকল্পনীয়। গ্রামে গ্রামে নির্বিচারে হত্যা, গণধর্ষণ, জ্বালাও- পোড়াওয়ের ভয়াবহ বিবরণ পাওয়া গেছে। গত ১১ মাস ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমারের চালানো নিপীড়নের কথা শুনছিলাম। আজ (সোমবার) নিজে সরাসরি শুনলাম। রোহিঙ্গারা তাদের উপর চালানো নির্যাতনের যেই বর্ননা দিয়েছে তা শুনে আমার হৃদয় ভেঙ্গে গেছে। রোহিঙ্গারা তাদের ওপর চালানো নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চায়, তারা নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে চায়। সব অধিকার দিয়েই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। এ জন্য বিশ্বসম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমি রাখাতে হবে। তবে রোহিঙ্গাদের সহসাই ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, রোহিঙ্গাদের কষ্ট আর তাদের অসহায়ত্ব দেখে নিজেকেই একজন রোহিঙ্গা মনে হয়েছে। রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সহায়তা দেয়ার জন্য বিশ্ব ব্যাংক সব সময় প্রস্তুত। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে ৪৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদানের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এই অর্থ শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যবহার হবে না যারা কক্সবাজারের অধিবাসী তাদের উন্নয়নেও ব্যবহৃত হবে। এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, মিয়ানমারে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই। মিয়ানমারকে বিশ্বব্যাংকের কিছু বাজেট সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেটি আমরা পিছিয়ে দিয়েছি। এখন সেখানে শুধু নিয়মিত প্রকল্প সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
একই প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিব জানান, মিয়ানমার যাওয়ার তার কোনও পরিকল্পনা এখনও নেই। যখন মনে করব আমার যাওয়াটা ফলপ্রসূ হবে তখনই যাবো।
মিয়ানমারের রাখাইনে সংকট শুরুর পর সেখানকার পরিস্থিতি দেখার সুযোগ তেমন মেলেনি আন্তর্জাতিক মহলের। সেকারণে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়েও আগ্রহ রয়েছে অনেকের। সম্প্রতি রাখাইনের উত্তর অংশে যেখানে সহিংসতার কারণে রোহিঙ্গা মুসলমানর পালাতে হয়েছে সেই এলাকা পরিদর্শন করেছেন ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্যা রেডক্রসের (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট পিটার মাউরা। একইসাথে তিনি কক্সবাজারে শরণার্থী ক্যাম্পগুলো ঘুরে দেখেছেন। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফরের পর দেয়া এক বিবৃতিতে পিটার মাউরা বলেন, রাখাইনে এখনো বিপুল সংখ্যক মানুষের ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতির কাছে প্রায় দশ লাখ মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। তিনি বলেন, আমি সব সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে কথা বলেছি- মুসলিম, রাখাইন ও হিন্দু। তাদের মুখেই শোনা গেলো কীভাবে সামাজিক ব্যবস্থা আর স্থানীয় অর্থনীতিকে ধ্বংস করা হয়েছে। স্কুল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মানুষের দুর্দশা লাঘবে আমরা মানবিক সংস্থাগুলো নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু এত কিছুর পরেও সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। বাংলাদেশে শরণার্থী হয়ে থাকা ১১ লাখ রোহিঙ্গার নিজ বাসভূমিতে ফেরাতে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ দি রেড ক্রস সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে পিটার মাউরা বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের ‘ইতিবাচক’ মনোভাব দেখে এসেছি। বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মধ্যে শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে মিয়ানমার। মিয়ানমারের দিক থেকে নানা প্রশ্ন তুলে শরণার্থী প্রত্যাবাসন এখনও শুরু না হওয়ার মধ্যে দেশটির সেনাপ্রধানের ‘ইতিবাচক’ মনোভাব দেখার কথা বললেন রেড ক্রস প্রেসিডেন্ট।
জাতিসংঘ ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বলে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ রোহিঙ্গা সঙ্কটকে এশিয়ার এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার যাইদ বিন রাআদ আল হুসাইন এক বিবৃতিতে বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ চালিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী যে কাজ করেছে, তা ফেরার সম্ভাবনা না রেখে বিপুল সংখ্যক মানুষকে জোর করে স্থানান্তরের কৌশল বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রোহিঙ্গাদের সম্পদ ধ্বংস, তাদের বসত বাড়ি এবং উত্তর রাখাইনের সব গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। এটা শুধু তাদের তাড়ানোর জন্য নয়, পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা যাতে তাদের বাড়িতে ফিরতে না পারে সেজন্য এটা করা হয়েছে। লক্ষ্য অর্জনে ‘পরিকল্পিত, সমন্বিত ও যথাযথ পদ্ধতি’ অনুসরণ করে মিয়ানমারের নিরাপত্তা এই অভিযান চালিয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা বলে মনে করেন শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক গবেষণা সংস্থা রামরুর চেয়ারপার্সন তাসনিম সিদ্দিকী। জাতিসঙ্ঘের অনেক সদস্য দেশ এই সমস্যাকে বড় করে না দেখলেও বৈশ্বিক পরিসরে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের পক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সমর্থন গড়ে ওঠাকেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করেন তিনি। এই সমর্থনের কারণে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের সহায়তায় যে কোনো পদক্ষেপ নিলে ঐসব বৈশ্বিক সংস্থা বা সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সহায়তা পাবে। জাতিসংঘ মহাসচিবের এ সফর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সাথে বৈশ্বিক সহায়তা সংস্থাগুলোর একসাথে কাজ করারও অনেক বড় একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত, চীনের মত শক্তিশালী দেশকে পাশে না পাওয়ার কারণ বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা। এই কারণে এই বিষয়ে মানবিক দিক থেকে যে সহায়তা দেয়া দরকার সেদিকে নিয়ে যেতে পেরেছে জাতিসঙ্ঘ। কিন্তু এর কোনো রাজনৈতিক সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে পারেনি। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের সাথে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনও এই ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনতে পারে।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। উগ্র বৌদ্ধবাদকে ব্যবহার করে সেখানকার সেনাবাহিনী ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে স্থাপন করেছে সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসের চিহ্ন। ছড়িয়েছে বিদ্বেষ। ৮২-তে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনে পরিচয়হীনতার কাল শুরু হয় রোহিঙ্গাদের। এরপর কখনও মলিন হয়ে যাওয়া কোনও নিবন্ধনপত্র, কখনও নীলচে সবুজ রঙের রসিদ, কখনও ভোটার স্বীকৃতির হোয়াইট কার্ড, কখনও আবার ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড’ কিংবা এনভিসি নামের রংবেরঙের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষকে। ধাপে ধাপে মলিন হয়েছে তাদের পরিচয়। ক্রমশ তাদের রূপান্তরিত করা হয়েছে রাষ্ট্রহীন বেনাগরিকে।
২০১৭ সালের আগস্টের পর থেকে সংঘটিত নিধনযজ্ঞের ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হওয়ার পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তিতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কথিত বৈধ কাগজপত্রের অজুহাতসহ নানা কারণে প্রক্রিয়াটি এখনও বিলম্বিত করে যাচ্ছে মিয়ানমার। ওই চুক্তির আওতায় এখনো পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও রাখাইনে ফিরতে পারেনি।
সর্বশেষ নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দূর্ভোগ দেখার জন্য জানিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরে আসেন। এ সময় তারা কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে সর্ববৃহৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। রোহিঙ্গারা এ সময় বিশ্বনেতাদের কাছে তাদের ওপর নির্মম নির্যাতনের কথা জানান। রোহিঙ্গারা জানান, তারা নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যেতে চায়। বিশ্ব নেতারাও তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। বিশ্বনেতাদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যাবার জন্য আবারও নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন মায়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা মুসলমানরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ