ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে সরকারের আচরণ দেখে লজ্জা হয় -ডা. জাফরুল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার : গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যে অত্যাচার চলছে, আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার মাথা নত হয়ে যায়। তিনি বলেন, এ জন্য কী মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, কথা বলার অধিকার নাই। এ লজ্জা রাখবো কোথায়।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ গণসংস্কৃতি দলের (বাগসদ) উদ্যোগে গণপরিবহন খাতে বিরাজমান চরম  নৈরাজ্য এবং দেশজুড়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যাপক ভোট লুটের প্রতিবাদে নাগরিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
 আয়োজক কমিটির সভাপতি এস আল মামুনের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্পধারার সহসভাপতি শাহ আহমেদ বাদলসহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, জিনাফ সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, দেশ বাঁচাও  মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রকিব প্রমুখ।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটা নিয়ে চাকরি হবে কেন? যারা যুদ্ধে আহত হয়েছে তাদের সাহায্য করুন। আর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির কোটা চালু করুন তাহলে তারা ভালো শিক্ষা পেলে নিজেরাই ভালো অবস্থানে যেতে পারবে।
গাজীপুর ও খুলনায় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন পদ্ধতির এতো সূক্ষ্ম দুর্নীতি ছিল, নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা পুলিশ দিয়ে বিএনপি নেতা ও নির্বাচনী এজেন্টদের গ্রেপ্তার করিয়েছে। তাদের এসব দুর্নীতির উত্তর একদিন না একদিন দিতে হবে।
এদিকে বিকেলে কোটা আন্দোলনের অভিভাবকদের এক মানববন্ধনে তিনি বলেন, আন্দোলনকারিরা কোন নাগরিক অধিকার পাচ্ছে না। তারা কোথাও দাঁড়িয়ে প্রতিবাদও করতে পারছে না। তাদের চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে না। তাদের সাথে এবং তাদের পরিবারের সাথে সরকার খারাপ আচরণ করছে। এটি কোনভাবেই কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, আমার আজ আফসোস হয়, কেন যুদ্ধ করেছিলাম। স্বাধীন এই দেশে আজ স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার নেই। তাহলে কিসের স্বাধীনতা। কোটার নামে আজ যা করা হচ্ছে তা মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা যারা সেদিন যুদ্ধ করেছিলাম তারা কেউ কোটার জন্য যুদ্ধ করেনি, কেউ নিশ্চয়ই চাকরির জন্য যুদ্ধ করেনি। তাহলে আজ কোটার নামে কেন ছাত্রদের রক্তাক্ত করা হচ্ছে। ছাত্ররা তাদের দাবির কথা বলতে পারছে নাÑ এ কেমন স্বাধীন দেশ আমার বুঝে আসে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ