ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এমপিওভুক্তি একটি খারাপ কার্যক্রম -সংসদে অর্থমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার : বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) জন্য নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, এখানে আমি একটি কথা বলতে চাই, এমপিওভুক্তি একটি খারাপ কার্যক্রম। আমরা এটি গ্রহণ করেছিলাম এবং চালিয়ে যাচ্ছি।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর এ সম্পর্কিত সম্পূরক প্রশ্নের তিনি এই মন্তব্য করেন।
এর আগে মাইজভান্ডারীর তার সম্পূরক প্রশ্নে এই বছরকে নির্বাচনী বছর উল্লেখ করে বর্তমান অর্থবছরে এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চান।
এমপিওভুক্তি শিক্ষায় খুব একটা লাগে না বলে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এতে শুধু কিছু শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার উন্নয়নের জন্য এটা কোনও ভালো কার্যক্রম নয়। উপবৃত্তিতে অর্থ দেওয়া যায়, সেটা অনেক ভালো কাজ করে। শিক্ষার উন্নয়নের জন্য যদি আমরা স্কুল ফিডিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারি, অনেক ভালো হবে। কেন আপনারা (সংসদ সদস্য) সেগুলোর দিকে নজর দেন না? বারবার এমপিওভুক্তি করতে চেষ্টা করেন?’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এমপিওভুক্তিতে যথেষ্ট জালিয়াতি ছিল। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী অনেক কমাচ্ছেন। কিন্তু এটা খুব ভালো প্রোগ্রাম নয়। আমার এই অপিনিয়নটা আপনাদের কাছে উপস্থাপন করলাম। আপনারা এখন নিজেরা চিন্তা করে দেখুন।’
উল্লেখ্য, এর আগে  অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে কয়েকটি শর্ত দিয়ে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে আলাদা বরাদ্দ রাখা হবে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের শেষ বাজেটে এমপিও নিয়ে কোনও ঘোষণা না থাকায় ঢাকায় আন্দোলনে নেমেছেন নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা।
মে পর্যন্ত রাজস্ব আদায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা  ছিল, উক্ত লক্ষ্যমাত্রার আদায় হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬২৭.২৫ কোটি টাকা। গতকাল জাতীয় সংসদে  সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩ এর  এমপি হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়ার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের (চট্টগ্রাম-১১) এর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা এবং উক্ত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত সাফল্য ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৫৬.৪৪ কোটি টাকা।
এমপি মামুনুর রশীদ কিরনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মোবাইল ফিনানসিয়াল সার্ভিসের(এমএফএস) আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ২৩৪ কোটি টাকা আয় হলেও ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে তা বেড়ে দাড়ায় ৩৬৭ কোট টাকা। অর্থাৎ গত অর্থ বছরে ১৩৩ কোটি টাকা বেশী আয় হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
ভোলা-৩ আসনের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান,  ২০০৮-০৯ অর্থ বছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থ বছর পর্যন্ত দেশের উন্নয়নের কাজে বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ ২৪ হাজার ১৫৭.৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তন্মধ্যে ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৫৫৯.৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অনুদানের পরিমাণ ৫ হাজার ৫৯৭.৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থমন্ত্রীর দেয়া তথ্যমতে এসব দাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সাহায্যের পরিমাণ (ডিসবাসমেন্ট) ৬ হাজার ১৮৩.২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বিশ্বব্যাংকের (আইডিএ) ৭ হাজার ৩৬১.৬৮  মিলিয়ন, চীন ৯৯৩.২৭ মিলিয়ন, রাশিয়া ৪১৬.৬৫ মিলিয়ন, ইউএন সংস্থাসমুহের ১ হাজার ৮৩০.০৪ মিলিয়ন, আইডিবি ৪৫৫.২২ মিলিয়ন, জাপান ২ হাজার ৯৫৭.৫৯ মিলিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া ৩৫০.৭৩ মিলিয়ন এবং অন্যান্য ৩ হাজার ৮০১.১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, মোট ২৪ হাজার ৩৪৯.৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।
এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর এক প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বিগত ৯ বছরে দেশে মোট ৬৪ টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৯ টি প্রকল্প সফলভাবে শেষ হয়েছে, বাকি ৪৫ টি প্রকল্প চলমান ।
এ কে এম রহমতুল্লাহ্ এর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুদ্রানীতির কারণে  বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ কমে যাচ্ছে এটা ঠিক নয়, বরং বেড়েছে। তিনি জানান, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ২০১৩ সালে শতকরা ১০.৮৫ ভাগ হতে পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে চলতি বছরের এপ্রিলের শেষে শতকরা ১৭.৬৫ ভাগে উন্নীত হয়েছে।
তিনি জানান, মূলত বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে ২০১৭ অর্থ বছরে জিডিপির উচ্চপ্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। উক্ত বছরের মোট বিনিয়োগের শতকরা ৭৫.৭০ ভাগই বেসরকারি বিনিয়োগ। জিডিপির শতকরা অংশ হিসেবে মোট বিনিয়োগ ২০১৬ অর্থ বছরে শতকরা ২৯.৭ ভাগ হতে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭ তে ৩০.৫ ভাগে দাড়িয়েছে। একই সাথে সরকারি বিনিয়োগও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৩ সালে শতকরা ৬.৬ ভাগ হতে ২০১৭ সালে জিডিপির শতকরা ৭.৪ ভাগে দাড়িয়েছে। কাজেই মুদ্রানীতির কারণে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ কমে বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে না বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ