ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে আপিল শুনানি পিছিয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের পাঁচ বছরের সাজার বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির দিন পিছিয়ে আগামী ৮ জুলাই (রোববার) পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। খালেদা জিয়া ছাড়াও এ দুর্নীতি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদের করা পৃথক তিনটি আপিল এবং খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুদকের করা আপিলের ওপর গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টে শুনানির জন্য ছিল। এখন ওই সকল আবেদনও মুলতবি হয়েছে বলে জানান আইনজীবীরা।
আদালতে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের ওপর গতকাল (৩ জুলাই) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে শুরু হয়ে ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত শুনানি চলে। আদালতে রাষ্ট্র, দুদক ও খালেদার পক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন। তবে আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে আমাগী ৮ জুলাই দিন ধার্য করেন।
খালেদা জিয়ার পক্ষে দায়ের করা সময় আবেদন নিষ্পত্তি করে গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে গতকাল খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। অপর দিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যার্টনি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশিদ আলম খান। উপস্থিত ছিলেন মোশাররফ হোসেন কাজল।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে গতকাল উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুর রেজাক খান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বদরোদ্দোজা বাদল, কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান খান, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান, ফাইয়াজ জিবরান প্রমুখ।
শুনানিতে বেগম খালেদার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, এ মামলায় ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে আপিল বিভাগের আদেশ পুনঃবিবেচনা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত দেয়া পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করার আর্জি জানাচ্ছি।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, শুনানি মুলতবি করার সুযোগ নেই। রিভিউ আবেদন করলেও চেম্বারে শুনানি করতে যায়নি। রাষ্ট্রপক্ষ সময় না দিয়ে শুনানি শুরু করার জন্য আবেদন করেন।
এরপর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন। তিন পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৮ জুলাই পর্যন্ত আপিল শুনানি মুলতবি করেন।
গত ২৭ জুন দুদকের আবেদনে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার আপিলের ওপর এবং পরবর্তীতে তিনটি আপিলের ওপর শুনানির জন্য ৩ জুলাই ধার্য করেন। সে অনুযায়ী গতকাল শুনানি শুরু হয়।
এর আগে গত ১৬ মে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া চার মাসের জামিন বহাল রাখেন। রায়ে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পাঁচ বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়। খালেদাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বাতিলে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা আপিল খারিজ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটিতে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদ- দেয়া হয়। রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রায়ের অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি এ আবেদন দায়ের করা হয়।
বিদেশী আইনজীবীর চরম ধৃষ্টতা - অ্যাটর্নি জেনারেল
একজন বিদেশী আইনজীবী হয়ে খালেদা জিয়ার বিষয়ে কথা বলা চরম ধৃষ্টতা বলে মন্তব্য করেছেন অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলা বা হস্তক্ষেপ করা যে কোনো আইনজীবীর চরম বেয়াদবি।
খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর আপিলসহ পৃথক তিনটি আপিলের ওপর শুনানির জন্য আগামী ৮ জুলাই হাইকোর্ট দিন ঠিক করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গতকাল মঙ্গলবার এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্রিটিশ আইনজীবী ও লর্ড কার্লাইলের বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তাদের পক্ষে আইনি লড়াই করবেন এমন খবর প্রকাশিত হয়।
এতে বলা হয়, দিল্লীতে এসে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে লবিং করবেন প্রবীণ ব্রিটিশ আইনজীবী ও হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কার্লাইল। ঢাকা থেকে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীর সেখানে তার সঙ্গে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। দিল্লির সাউথ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
খালেদা জিয়াকে যে অভিযোগে কারাদ- দেয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরতে লর্ড কার্লাইল বেছে নিয়েছেন এফসিসিকে।
শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে আছি : জয়নুল আবেদীন
দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে সরকার খুব ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেছে। খালেদা জিয়ার জামিন হলে সেই জামিনকে কিভাবে রোধ করবে সেটা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ১/১১-এর কথা আপনাদের মনে আছে? সেই সময় যে অবস্থায় চলতো, আমরা তার চাইতে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে আছি।’
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর জন্য দুদকের করা আপিলসহ পৃথক তিনটি আপিলের ওপর শুনানির জন্য হাইকোর্ট আগামী ৮ জুলাই দিন ঠিক করার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
জয়নুল আবেদীন বলেন, একটি রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত মামলা, সেই মামলায় পাঁচ বছরের কারাদ- দিয়েছিল। সেই মামলাটি শুনানি করার জন্য সরকার ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেছে। আমরা আগেও বলেছি এখনো বলছি, যেখানে লাখ লাখ আপিল পেন্ডিং, যেখানে ডেথ রেফারেন্স পেন্ডিং, সমস্ত মামলা রেখে সরকার এ মামলাটি শুনানি করতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কত উৎসুক। এ রকম যদি সরকারের পক্ষে উনি সব আপিল, ডেথ রেফারেন্সে শুনানির জন্য উপস্থিত থাকতেন, তাহলে আমরা বুঝতাম তিনি প্রকৃতপক্ষে দেশের মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন এবং কাজ করতে চান। এখনে তিনি শুধুমাত্র বেগম খালেদা জিয়ার মামলা শুনানি করার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে যান।
খালেদার এ আইনজীবী বলেন, মামলাটি শুনানির জন্য আজ (মঙ্গলবার) দিন ধার্য ছিল, গতকাল আমরা একটি লিখিত আবেদন করে মামলাটি শুনানি মুলতবির জন্য আবেদন করেছি।
মুলতবি চাওয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, যে আদেশটি আপিল বিভাগ দিয়েছে সেই আদেশের একটি অংশ নিয়ে আমরা একটি রিভিউ আবেদন করেছি। সেটি হচ্ছে এই যে, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপনি নিষ্পত্তি করতে বলছেন সেটা যথাযথ হয়নি।
এ বিষয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, এ আদেশটা যদি থাকে তাহলে অরাজকতা  তৈরি হবে। এ জন্য আমরা রিভিউ আবেদনটি করেছি। সেই আবেদনের শুনানি পর্যন্ত আমরা মুলতবি চেয়েছি। আদালত আমাদের আবেদন শুনেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কতগুলো অবাস্তব আরগুমেন্ট করেছেন। একটি খুব আপত্তিকর কথা বলেছেন যে, আমরা এ মামলাটি শুনানি করতে চাই না। এটা আমরা আপত্তি দিয়েছি। আদালত সব কিছু পর্যবেক্ষণ করেছেন। উভয় পক্ষের আরগুমেন্ট শুনেছেন। আমাদের আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। এটা খারিজ করে দেননি। আগামী রোববার (৮ জুলাই) ২টা পর্যন্ত এ মামলাটি স্থগিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এই সময়ের (৮ জুলাই) মধ্যে আপিল বিভাগ যদি কোনো আদেশ দেন, পরবর্তীতে আদালতে আমরা দেব। ওই দিন যদি নতুন কোনো কারণ উদ্ভাব হয় তখন সেটা দেখা যাবে। আজকে কোনো শুনানি হয়নি, আগামী রোববার আবার শুনানি।
জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার নিয়ে এক দিকে জামিনের আদেশ দেন। সেটা আবার উনারা স্থগিত করেন। এটা কোন দেশে কোন যুগে আছি আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। ১/১১ এর কথা আপনাদের মনে আছে? সেই সময় যে অবস্থায় চলতো, আমরা তার চাইতে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে আছি। এটাও ইনশা-আল্লাহ কেটে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ