ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বান্দরবানে পাহাড় ধসে নিহত ৪

চট্টগ্রামে দুইদিনের টানা বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন এলাকায় পানিবদ্ধতা। বান্দরবানে পাহাড় ধসে ৪ জন নিহত, লোহগাড়ায় বন্যা

চট্টগ্রাম ব্যুরো : মৌসুমী বায়ুর প্রবাহের কারণে গত দুইদিনে চট্টগ্রামে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় মংগলবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ২৬৯   মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রাম ও আশেপাশের এলাকায়। এর ফলে চট্টগ্রামের বেশীরভাগ নীচু এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এর সাথে যোগ হয়েছে কর্ণফুলী নদী ও বংগোপসাগরের জোয়ারের পানি। ফলে চট্টগ্রামের মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।
এদিকে প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে বান্দরবানের লামায় একই পরিবারের ৩ জনসহ ৪ জন নিহত হযেছে। বান্দরবান থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, বান্দরবানে দু'দিনের ভারীবর্ষণে পাহাড় ধসের পৃথক ঘটনায় এক পরিবারের তিন জনসহ মোট চারজন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড এলাকা কালাইয়া পাড়ায় পাহাড় ধসে তিনজন নিহত হন। তারা হলেন- মো. হানিফ (৩৫), তার স্ত্রী রেজিয়া বেগম (২৫), তাদের শিশুকন্যা হালিমা আক্তার (৩)। এদিকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বান্দরবানের কালাঘাটা বীর বাহাদুর নগর এলাকায় পাহাড় ধসে প্রতিমা রানী দে (৪৫) নামের এক নারী নিহত হন। লামার সরই ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম জানান, সোমবার থেকে জেলায় টানা বর্ষণ চলছিল। এতে মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড এলাকা কালাইয়া পাড়ায় পাহাড় ধসে একটি বসতঘরের উপরে পড়ে। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা তিনজন চাপা পড়ে নিহত হন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা এসে তাদের লাশ উদ্ধার করে। সরই পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আবুল কাশেম জানান, ঘটনাস্থলে রয়েছেন তিনি। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় ঘটনাস্থল পৌঁছাতে একটু দেরি হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে বান্দরবান পাহাড় ধসে নিহত প্রতিমা রানী দে'র স্বামী মিলন দাশ জানান, মঙ্গলবার সকালে রান্না করছিলেন প্রতিমা। এ সময় পাহাড় ধসে মাটি এসে ঘরের উপরে পড়লে তার স্ত্রী নীচে চাপা পড়ে মারা যান। দমকল বাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ চালায়। তারা আধা ঘন্টার চেষ্টায় মাটির নীচ থেকে লাশ উদ্ধার করে। বান্দরবান সদর থানার ওসি গোলাম সরোয়ার জানান, বান্দরবানে রাত থেকে ভারিবর্ষণ হচ্ছিল। বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে এ ধসের ঘটনা ঘটে। ওই পরিবার পাহাড়ের ঢালে ঘর তুলেছিল। পাহাড় ধসের সময় প্রতিমা ছাড়া ঘরে আর কেউ ছিল না। লাশটি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে দুইদিনের টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া,মুরাদপুর,চকবাজার,কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক, বেপারি পাড়া,  হালিশহর, পুরো দক্ষিণ ,মধ্যম হালিশহর, বহদ্দারহাট,ইপিজেড বন্দর-পতেঙ্গা থানাধীন বন্দরটিলা, সিমেন্টক্রসিং, নারিকেলতলা, রুবি সিমেন্ট গেইট, নুরগনি পাড়া, স্টিল মিল-(মহাজন)হিন্দু পাড়া, খালপাড়, বন্দরটিলার নয়াহাট, নিউমুরিং, সিমেন্ট ক্রসিং-আকমল আলী রোড এলাকা,প্রবর্তক এলাকা,কাতাল গন্জ,চাক্তাই,পাথরঘাটা,এয়াকুবনগর সহ বিভিন্ন এলাকায় পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।কোথাও হাটু,কোথাও কোমড় সমান পানি ছিল। রাস্তা, বাসাবাড়ী,  ঘর, দোকান-পাট,পথঘাট সবই পানিতে সয়লাভ হয়ে যায়।এতে চরম জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।  রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সকাল থেকে স্কুল-কলেজ ও অফিসগামী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় ড্রেনের পানিতে আটকা পড়া ১৩ বছরের এক কিশোরকে একঘন্টা পর ফায়ার সার্ভিস জীবিত উদ্ধার করেছে।উদ্ধার হওয়া কিশোর মোশারফ হোসেন (১৩) কুমিল্লা জেলার আব্দুর রউফের পুত্র। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় এ ঘটনা ঘটেছে আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোড়ের লংকাবাংলা সিকিউরিটি লিঃ এর সামনে।ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার ফজলুল হক বলেন, সকাল থেকে প্রবল বৃষ্টির কারণে জমে যাওয়া পানিতে খেলা করার সময় কিশোর মোশারফ হোসেন ড্রেনের পানিতে তলিয়ে যায়। সে কিছুর গিয়ে আটকে গেলে সেখানে চিৎকার করতে থাকে।আশেপাশের পথচারীরা চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে বেলা আড়াইটার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। অসুস্থবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।
এদিকে সোমবার রাত থেকে ভারি বৃষ্টির কারণে রুমা উপজেলা ১২ মাইল নামক এলাকায় পাহাড় ধসে জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছড়া স্বর্ণ মন্দির এলাকায় একটি ব্রিজ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলার সঙ্গে রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ী ঢলে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান এলাকায় সড়কের উপর পানি উঠে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।  হাইওয়ে পুলিশ রাউজান থানার ওসি আব্দুল করিম  জানান, পাহাড়ী ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে রাউজানের কয়েকটি এলাকায় সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।  একারণে আপাততে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ