ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আরো কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে হবে -মাহমুদুর রহমান

চট্টগ্রামে সাংবাদিক পেশাজীবী সমাবেশ। মঞ্চে উপবিষ্ট নেতৃবৃন্দ

চট্টগ্রাম ব্যুরো : পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একে অপরের পরিপূরক। ফ্যাসিবাদি রাষ্ট্রে গণমাধ্যম এবং জনগণের স্বাধীনতা থাকে না। যা এখন বাংলাদেশে চলছে। তিনি বলেন, অবৈধ দখলদার, নতজানু বিদেশী তাঁবেদার সরকারের তাবেদারী করছে এক শ্রেণীর সাংবাদিক নেতা। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক পেশাজীবী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে বাংলাদেশ থেকে  প্রতি বছর ৮৫ হাজার কোটি টাকা  ভারতে পাচার হচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমার দেশ স্বাধীনতার কথা বলে বিধায় তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
মাহমুদুর বলেন, রক্ত পিপাসু ফ্যাসিবাদী শাসককে সরাতে হলে দক্ষ মানুষ লাগবে। অহিংস কার্যকরী আন্দোলন বিএনপি এখনো গড়ে তুলতে পারেনি। সহিংস বা অহিংস হউক, আন্দোলন ছাড়া কিভাবে বেগম জিয়াকে মুক্ত করবেন।
সবাইকে কারাবরণ করতে প্রস্তুত থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আরো কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি  দিতে হবে। অবৈধ সরকারের কোন মেয়াদ থাকে না মন্তব্য করে এ সরকারের অধীনে বিএনপি'র নির্বাচনে যাওয়াটা উচিত হবে না বলে মত ব্যক্ত করেন তিনি। এ সরকারের পাতানো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার জন্য বিএনপি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ সরকারকে হটাতে হলে হাসিনা বিরোধী পেশাজীবী ঐক্য পরিষদ গঠন করতে হবে।
বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে সিএমইউজে'র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ নওয়াজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএফইউজে'র সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে বিদেশী রাষ্ট্রদূতরাই কথা বলতে পারেন না।  জিয়া পরিবারের সাথে মুজিব পরিবারের পার্থক্য রয়েছে। জিয়া পরিবার বন্ধ মিডিয়া খুলে দেন আর মুজিব পরিবার মিডিয়া বন্ধ করে দেন। তিনি বলেন, এক শ্রেণীর ফ্যাসিবাদী সুশীল সমাজ তৈরি হয়েছে দেশে।  সংবাদ মাধ্যমের কন্ঠরোধ করতে ৫৭ ধারার পরিবর্তে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে সরকার।
সভাপতির বক্তব্যে সমাবেশে  বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, বাংলাদেশকে ভালবাসাই কি মাহমুদুর রহমানের অপরাধ ? ১/১১ এর সময় মাহমুদুর রহমান সাহস করে কলম ধরেছিলেন বলেই আজকের প্রধানমন্ত্রীসহ সকল রাজবন্দী মুক্তি পেয়েছিল। তিনি বলেন, আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামী টিভি, চ্যানেল ওয়ানসহ সকল বন্ধ মিডিয়া খুলে দিতে হবে। সাগররুনীসহ ৩২ সাংবাদিক হত্যার বিচার করতে হবে। সকল কালা কানুন বাতিলসহ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে হবে।  মাহমুদুর রহমানসহ সকল সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।  কোটা আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগের বর্বর হামলার নিন্দা জানান তিনি।
সভায় অন্য বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার সারাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করেছে। হিটলারী আদলে দেশ চালাচ্ছে বর্তমান সরকার। ফ্যাসিবাদ কবলিত এ দেশে বিগত সময়ে বন্ধ করে দেয়া গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবি জানান তারা। 
বক্তারা বলেন, দেশে গত ১০ বছরে ৩১ জন সাংবাদিক খুন হয়েছে।  ২ হাজারেরও বেশী সংবাদ কর্মী পঙ্গুত্ব বরন করেছে। দেশ আজ পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। মাহমুদুর রহমানকে এত ভয় কেন?  তিনি তো কোন রাজনৈতিক নেতা বা ব্যক্তি নন। বেগম জিয়ার পর বর্তমান সরকারের জন্য বড় আতংক হচ্ছেন মাহমুদুর রহমান। সরকারের চাপের মুখে সংবাদ কর্মীরা আজ সত্য তুলে ধরতে পারছেন না।
মহানগর বিএনপি সভাপতি ডা.শাহাদাত হোসেন বলেন,  ১/১১ থেকে সংগ্রাম শুরু হয়েছে। স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে যতদিন দেশকে মুক্ত করা যাবে না ততদিন পেশাজীবীরা রাজপথে থাকবে। সাংবাদিকদের চিকিৎসা করবে না বলে ফ্যাসিবাদি বক্তব্য দিচ্ছেন আওয়ামী ডাক্তাররা। রাজপথে জীবন বাজি রেখে বেগম জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ আয়োজনে সাংবাদিক পেশাজীবী সমাবেশে  বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক নেতা বিএফইউজে'র মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ  আবদাল আহমেদ, বিএনপি নেতা  ডা.খুরশিদ জামিল চৌধুরী, আবু সুফিয়ান, সাংবাদিক নেতা ইস্কান্দার আলী চৌধুরী, জাহিদুল করিম কচি, এড.নাজিম উদ্দিন, নুরুল্লাহ বাহার প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ