ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খোঁজ মিললেও গুহা থেকে উদ্ধার করতে সময় লাগবে

থাইল্যান্ডে গুহার ভিতর আটকে পড়া ১৩ জনের দলটি একটি খাঁজের মধ্যে বসে আছে

৩ জুলাই, রয়টার্স : থাইল্যান্ডের একটি জলমগ্ন গুহায় দশ দিন ধরে আটকে থাকা কিশোর ফুটবল দলের ১২ সদস্য ও তাদের কোচকে উদ্ধারে আরও অপেক্ষা করতে হবে। উদ্ধার কর্মীরা এখন গুহাটি থেকে ১৩ জনকে নিরাপদে বের করে আনতে কাজ করছেন বলে গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছেন চিয়াং রাই প্রদেশের গভর্নর নারোংসাক ওসোত্তানাকোর্ন।

গুহা অভ্যন্তরের সঙ্কীর্ণ পথ ও বাড়তে থাকা পানির সঙ্গে সংগ্রাম করে ভিতরে ঢুকে সোমবার গভীর রাতে ডুবুরিরা গুহাটির প্রবেশমুখ থেকে চার কিলোমিটার দূরের উঁচু এক পাথরখ-ের ওপর কিশোর দল ও কোচের সন্ধান পান।

টর্চলাইটের ঝাপসা আলোয় উদ্ধারকর্মীদের করা ভিডিওতে শর্টস ও লাল-নীল রঙের জামা পরিহিত কিশোরদের বিশাল জলরাশির মধ্যে উঁচু পাথরখ-টির ওপর বসে ও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

“কতজন তোমরা এখানে- ১৩? অসাধারণ। ১০দিন ধরে তোমরা এখানে আছো, তোমরা খুবই শক্তিশালী,” বহুজাতিক উদ্ধারকারী দলের এক সদস্য ইংরেজিতে কিশোরদের উদ্দেশ্যে এমনটাই বলেন।

কিশোর দলটির এক সদস্য তখন উদ্ধারকারীদের ‘ধন্যবাদ’ দেন।

কখন বের হওয়া যাবে, আরেক কিশোরের এমন প্রশ্নের জবাবে উদ্ধারকর্মীটি বলেন, “আজ নয়, তোমাদের ডুব দিতে হবে।”

গুহায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিজ্ঞ যুক্তরাজ্যের দুই ডুবুরি জন ভোলান্থান ও রিক স্টেন্টন কিশোরদের কাছে প্রথম পৌঁছান বলে পরে জানিয়েছেন ব্রিটিশ কেভ রেসকিউ কাউন্সিলের (বিসিআরসি) ভাইস চেয়ারম্যান বিল হোয়াইটহাউস।

থাই নেভি সিলের ডুবুরিদের সঙ্গে ওই দুই ব্রিটিশ ডুবুরিই কিশোর দলটিকে খুঁজে পান, জানিয়েছে রয়টার্স।

বৃষ্টির কারণে বাড়তে থাকা পানিতে গুহাটির তৃতীয় প্রকোষ্ঠের ভেতরকার উঁচু ঢিবি ‘পাতায়া বিচ’-ই কিশোরদের আশ্রয় দিতে পারে ভেবে উদ্ধারকর্মীরা সেখানে অনুসন্ধানে মনোনিবেশ করার পর কোচসহ ১৩ সদস্যের ওই দলটির খোঁজ মেলে।

 “(নেভি) সিলের সদস্যরা পাতায়া বিচে পৌঁছানোর খবর দিয়েছে, যা প্লাবিত হয়ে গেছে। এ কারণে তারা সেখান থেকে আরও ৪০০ মিটার দূরে যান এবং ১৩ জনের খোঁজ পান, তারা এখন নিরাপদ,” সোমবার গভীর রাতে একদল উল্লসিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন চিয়াং রাই প্রদেশের গভর্নর নারোংসাক।

তাৎক্ষণিকভাবে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে থাইল্যান্ডজুড়ে উল্লাস শুরু হয়। ব্রেক থ্রুর আশায় গুহার কাছে অপেক্ষারত আটকে পড়া কিশোরদের আত্মীয় স্বজনদের উল্লাস করতে, হাসতে ও বিভিন্ন স্থান থেকে ফোন কল রিসিভ করতে দেখা যায়।

উদ্ধারকর্মীরাও আনন্দে একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাতে ও অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন।

ফুটবল প্রশিক্ষণের পর থাইল্যান্ডের উত্তরে মিয়ানমার সীমান্তের কাছে একটি ফরেস্ট পার্কের নিকটে থাকা থাম লুয়াং গুহাটি দেখতে গিয়ে গত ২৩ জুন ২৫ বছর বয়সী কোচের সঙ্গে ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোর দলটির ১২ সদস্য ভেতরে আটকা পড়ে।

বৃষ্টির কারণে বিঘিœত উদ্ধার তৎপরতার দশদিনের মাথায় তাদের জীবিত খোঁজ মিলল।

উদ্ধারকর্মীরা এখন শারিরীকভাবে দুর্বল কিশোরদের কোন উপায়ে বাইরে বের করা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা করছেন। যেসব উপায়ের কথা ভাবা হচ্ছে, তার মধ্যে পানি কমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা কিংবা আটকে পড়া দলটিকে ডাইভিং গিয়ার চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

নিরাপদে বের করে আনার আগ পর্যন্ত সবল থাকতে আটক কিশোরদের শক্তিবর্ধক জেল দেওয়া হয়েছে।

“আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি বলবো, আমরা এখনো সব দিক খতিয়ে দেখছি। যদিও আমার মনে হয় না, তারা দ্রুতই বাড়ি ফিরতে পারছে,” সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন চিয়াং রাই-র এ গভর্নর।

  সোমবার রাতেই ভেতরে আটকে পড়া কিশোর ও তাদের কোচের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে;মঙ্গলবারও আরেকদফা পরীক্ষা করা হবে। কিশোর ফুটবল দলের সদস্যরা হালকা আঘাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন বলেও জানান নারোংসাক।

“আমরা তাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছি। লাল, হলুদ ও সবুজ। লালের অর্থ হচ্ছে গুরুতর আঘাত, হলুদ মানে মাঝামাঝি আর সবুজ হচ্ছে সামান্য। গতকাল অনানুষ্ঠানিকভাবে আমরা দেখেছি, বেশিরভাগের পরিস্থিতিই সবুজ মাত্রার,” বলেছেন তিনি।

উদ্ধারকর্মীরা এখন ‘উদ্ধারের’ বিষয়েই সবচেয়ে বেশি মনোযোগী; গুহার বাইরে বের করে আনার পরই ১২ কিশোর ও তাদের কোচকে চিকিৎসক দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে, বলেছেন চিয়াং রাই প্রদেশের এ গভর্নর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ