ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে বিকল্প রাশিয়া-চীনের

শি জিংপিন ও পুতিন

৩ জুলাই, ডেইলি সাবাহ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থেকে বেরিয়ে নিজেদের ব্যবহারের জন্য বিকল্প ইন্টারনেট তৈরি করতে যাচ্ছে রাশিয়া ও চীন। রাশিয়া সরকার ও চীন সরকারের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে বলে সোমবার একটি রাশিয়ান গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়া নিজস্ব রুট নেম সার্ভার তৈরি করছে; যেটিকে চূড়ান্তভাবে বিকল্প ইন্টারনেট বলা হয়। আর এ জন্য চীন সব রকম সহায়তা করছে।

রাশিয়া কর্তৃপক্ষ মূলত চীনের বিখ্যাত ফায়ারওয়ালের জনক ফ্যান বিংজিংয়ের উদ্ভাবনীতে প্রভাবিত হয়ে এ উদ্যোগ নিয়েছে। ফ্যান বিংজিং 'সাইবার সভেরিনটি' (সাইবার সার্বভৌমত্ব) উদ্ভাবনীর জন্য বিখ্যাত।

তবে নিজস্ব এ ইন্টারনেট ব্যবস্থা রাশিয়া একা ব্যবহার করবে না। তারা ব্রিক্সভুক্ত দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকেও ব্যবহার করতে দেবে। রাশিয়ার মতে, বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেটের সব রকম নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। তারা চাইলে যে কোনো দেশের ইন্টার ব্যবস্থা বন্ধ করে দিতে পারে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে এ চেষ্টা করছে রাশিয়া।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শুক্রবার বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের চলমান সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া দুই বৃহৎ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের এ সাক্ষাৎ বিশ্ব-রাজনীতিতে নতুন বাঁকের সূচনা করতে পারে। 

দ্য গ্রেট হলে দুই নেতার সাক্ষাতের আগে রুশ নেতাকে গার্ড অব অনার ও শিশুদের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বরণ করে নেয়া হয়। সাক্ষাতে পুতিনকে শি বলেন, আন্তর্জাতিক অবস্থার যত পরিবর্তনই হোক না কেন, চীন ও রাশিয়া সব সময়ই পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। এ ছাড়া দু’টি দেশ সব সময়ই পরস্পরের মূল আগ্রহগুলোকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছে, বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করেছে এবং ‘অভিন্ন উদ্দেশ্যে একটি সম্প্রদায়’ গঠনের জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছে।

চীন ও রাশিয়ায় গত কয়েক দশকের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই নেতা শি ও পুতিন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, দেশ দু’টি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও নীতিকে আঘাত করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই নেতার সম্পর্ক আরো জোরদার হয়েছে। পুতিন জানান, দুই নেতার মধ্যে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক মৈত্রীর, প্রতিবেশীসুলভ এবং তারা কৌশলগত অংশীদারিত্বের চেতনায় সম্পর্কোন্নয়ন করছে।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, দুই নেতাই একই ধরনের নেতৃত্বশৈলী অনুসরণ করেন। কার্নেগি মস্কো সেন্টারের সিনিয়র ফেলো আলেক্সান্ডার গাবুয়েভ বলেন, শি ও পুতিন আত্মার বন্ধু, যারা তাদের নিজ নিজ দেশকে আবার মহান করতে চান। দু’জনই মার্কিন আধিপত্যবাদের প্রতি অবিশ্বাসী, দু’জনই মার্কিন মনোভাবগুলোকে সন্দেহ করেন এবং দু’জনই কর্তৃত্বপরায়ণ ব্যক্তিত্বের শাসক। মার্চে পুতিন চতুর্থ মেয়াদে পুনর্র্নিবাচিত হন। একই মাসে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি শিকে আজীবন ক্ষমতায় রাখতে যে আইনি বাধা ছিল তা তুলে নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যযুদ্ধ এড়ানোর জন্য বর্তমানে চীন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, অপর দিকে সিরিয়া ও ইউক্রেনসহ বেশ কিছু ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সাথে মস্কোর গভীর মতানৈক্য চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ