ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মংলা সমুদ্রবন্দরে নির্মিত হচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল স্টেশন

খুলনা অফিস : মংলা সমুদ্রবন্দরে নির্মিত হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল স্টেশন কেন্দ্র। এখানে মজুদ রাখা হবে সকল প্রকার জ্বালানি তেল। দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজসহ সকল প্রকার নৌযানে এই তেল সরবরাহ করা যাবে। এ ছাড়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠান পাবে জ্বালানি তেলের সুবিধা। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাণিজ্যিক জাহাজসমূহের জ্বালানি তেলের সঙ্কট নিয়ে চলমান বিড়ম্বনা দূর হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্র জানায়, চালনা পোর্ট নামে ১৯৫০ সালে মংলা সমুদ্রবন্দরের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতেই আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সুবিধার পাশাপাশি দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজসমূহের জন্য জ্বালানি তেল সরবরাহের (বাঙ্কারিং) কোনো সুবিধা না থাকায় এ বন্দরে জ্বালানি তেল ডিপো স্থাপনের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি ওঠে। শিপিং কোম্পানি ও শিপিং এজেন্টসহ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মহলে এ দাবির মুখে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ১৯৯৫ সালে মংলা বন্দরে ২৫ একর জমি বরাদ্দ নেয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভূমি বরাদ্দ নেয়ার পর টানা বছরের পর বছর সময় ধরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের জায়গা ফাঁকা পড়ে থাকে। পরবর্তীতে শুধুমাত্র একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয় এখানে। নানা জটিলতায় আটকে পড়ে এ প্রকল্পের কাজ। আর এতে হতাশা দেখা দেয় বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত সরকারের জনগুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় গুরুত্ব দেয়া হয় এ প্রকল্পটিকে। অনুমোদন পাওয়ার পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ২০১৩ সালে শুরু করে মংলায় তেল ডিপো স্থাপনের কাজ। মংলা অয়েল ইনস্টলেশন নামের এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২শ’ কোটি টাকা। বিপিসির তত্ত্বাবধানে এ প্রকল্পের অধীনে ১ লাখ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ১৪টি ট্যাংক, পাইপলাইন ও পাম্প হাউজ, ফায়ার ফাইটিংস, অটোগেজিং, সাব স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ ছাড়া দেশী-বিদেশী জাহাজসহ নৌযানসমূহে সরাসরি জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য ডলফিন অয়েল জেটি নির্মাণের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের ৯৫ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে আর বাকী ৫ ভাগ কাজ খুব শিগগিরই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এ প্রকল্পটির উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর এখানে সংরক্ষণ ও মজুদ করা হবে কেরোসিন, মবিল, লুবয়েল, পেট্রোলসহ সকল প্রকার জ্বালানি তেল।
নির্মাণাধীন এ জ্বালানি তেল ডিপো প্রসঙ্গে মংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সদস্য এইচ এম দুলাল জানান, বিশ্বের সকল বন্দরে রয়েছে বাঙ্কারিং সুবিধা। আর এ সুবিধা না থাকলে যে কোনো বন্দর মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়।
তিনি আরও জানান, এ বন্দর প্রতিষ্ঠার ৬৭ বছরেও জ্বালানি তেলের সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এতে মংলা বন্দরে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় মাদার ভ্যাসেল (জাহাজ) কোম্পানি, শিপিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায়ীকে। জ্বালানি তেলের অভাবে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ এ বন্দরে দিনের পর দিন আটকে থাকার ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া মাদার ভ্যাসেলের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হয়েছে। এতে যেমন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয় তেমনি সময় অপচয়সহ নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। তাই নির্মাণাধীন তেল ডিপোটি এ বন্দরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী তিনি।
মংলা অয়েল ইনস্টলেশন (বিপিসি) প্রকল্প কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন জানান, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নসহ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত হলে মংলা বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন ও কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এ জ্বালানি তেল স্টেশন থেকে দেশের সর্বত্র সকল প্রকার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এ কে এম ফারুক হাসান (বিএন) জানান, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাণিজ্যিক জাহাজে তেল সরবরাহ নিশ্চিত হবে। দূর হবে দীর্ঘদিনের চলমান ভোগান্তি। জ্বালানি তেলের অভাবে বাণিজ্যিক জাহাজসমূহকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এ সমস্যার সমাধান হবে এবং বিদেশীদের কাছে এ বন্দরের গুরুত্ব বাড়বে। সকল প্রকার জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত হলে বন্দরে জাহাজের আগমন বৃদ্ধি ও আমদানি রপ্তানি পণ্যের চাপ বৃদ্ধিসহ বাড়বে কাজের গতি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ