ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফিলিস্তিনীদের কল্যাণ তহবিল আটকে দিলো ইসরাইল

৩ জুলাই, মিডল ইস্ট আই :  কারাবন্দী ও ইসরাইলী বাহিনীর আগ্রাসনে হতাহত ফিলিস্তিনীদের পরিবারের কল্যাণের জন্য বরাদ্দকৃত লাখ লাখ ডলারের একটি তহবিল আটকে দিয়েছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনীদের কাছ থেকে সংগৃহীত করের অর্থ দিয়েই তহবিলটি চালানো হতো। গত সোমবার ওই তহবিল আটকে দিতে ইসরাইলের পার্লামেন্টে একটি আইন পাস হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

এতোদিন ইসরাইলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দি ও ইসরাইলি বাহিনীর হাতে নিহতদের পরিবারের সুরক্ষার জন্য একটি তহবিল বরাদ্দ করা ছিল। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হয়ে ইসরাইলি বাহিনী যেসব কর সংগ্রহ করতো সেগুলো দিয়েই তহবিলটি চালানো হতো। গাজা সীমান্তে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে হতাহতদের ৩৫ হাজার পরিবারকে এ তহবিল থেকে দেওয়া হতো সহায়তা। এবার সে তহবিলটি বন্ধে আইন পাস করেছে ইসরাইল।

গত সোমবার ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে আইনটি পাস হয়। ১২০ জন পার্লামেন্ট সদস্যের মধ্যে ৮৭ জন বিলটি পাসের পক্ষে ভোট দিয়েছে। আর বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১৫টি। বিলটির পক্ষে থাকা ইসরাইলি পার্লামেন্ট সদস্যদের দাবি, এ তহবিল থেকে সহজেই অর্থ পেতো ফিলিস্তিনি বন্দিরা। পশ্চিম তীরে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে কর সংগ্রহ করে তা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতো ইসরাইল। তবে নতুন আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ইসরাইল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সে করের টাকা আর পাঠাবে না। 

পার্লামেন্টে ভোটাভুটিকে সামনে রেখে আরব আইনপ্রণেতারা বিলটির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। জয়েন্ট লিস্ট অব আরব পার্টিজ-এর সদস্য জামাল জাহালকা বলেন, বিলটি ‘জঘন্য’। তিনি চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘আপনারা ফিলিস্তিনি জনগণের কাছ থেকে চুরি করছেন।’

২০১৮ সালের জন্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) ঘোষিত বাজেটের সাত শতাংশ হলো ওই তহবিলের পরিমাণ। এ বছর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বাজেটের পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলার। আর তহবিলের পরিমাণ ৩৩ কোটি ডলার।

ফিলিস্তিনী বন্দীদের জন্য সহায়তা কমাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইসরাইল। দেশটির দাবি, এর মধ্য দিয়ে ‘সহিংসতা’য় উস্কানি দেওয়া হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্র অনুদান কমিয়ে দেওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনায় সংস্থাটি যখন বিপাকে রয়েছে, তখনই কল্যাণ তহবির বন্ধে আইন পাস করলো ইসরাইল। গত বছরের শেষ দিকে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সরিয়ে নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিলে শান্তি প্রক্রিয়ায় দেশটির একক মধ্যস্থতা মানতে অস্বীকার করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। পাল্টা পদক্ষেপে চলতি বছরের শুরুতে এই সংস্থা থেকে নিজেদের দেওয়া বার্ষিক তহবিলের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনে যুক্তরাষ্ট্র। ১২৫ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা কমিয়ে ৬৫ মিলিয়ন ডলারে নিয়ে আসা হয়। গত মাসে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা (ইউএনডাব্লিউআরএ)’র জন্য সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখার আবেদন জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সংস্থাটিতে বৈশ্বিক সহায়তা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেছেন,বিশ্ব অবশ্যই এই শরণার্থী সংস্থাকে পরিত্যাগ করবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ