ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অভিবাসী বিতর্কে মার্কেল ও সেহোফারের মধ্যে চুক্তি

৩ জুলাই, ইন্টারনেট : জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেহোফার পদত্যাগ করছেন না। ফলে দেশটির ক্ষমতাসীন পার্টি সরকারে টিকে গেল। পাশাপাশি ম্যার্কেলই চ্যান্সেলর থাকছেন। দীর্ঘ সংকটের পর গত সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে আপোশ মীমাংসা হয়েছে। তবে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।

আপাতত জার্মানির জোট সরকার ও দুই রক্ষণশীল দলের জোট অস্তিত্বের সংকট থেকে রক্ষা পেল। সোমবার রাতে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফার তাঁদের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলেন। জার্মানির সীমান্তে অবৈধ শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর দাবিতে অটল থাকার পর বাভেরিয়ার সিএসইউ দলের নেতা সেহোফার শেষ পর্যন্ত এক আপোশ মীমাংসা মেনে নিলেন। তবে ‘ঐকমত্য' সত্ত্বেও ম্যার্কেল ও সেহোফার একসঙ্গে সাংবাদিকদের সামনে আসেন নি। সেহোফার বলেন, তিনি পদত্যাগ করছেন না।

গত সোমবারের সমঝোতার মধ্যে বাভেরিয়া-অস্ট্রিয়া সীমান্তে অবৈধ শরণার্থীদের কিছু অন্তর্র্বতীকালীন কেন্দ্রে আটক রাখা হবে। তারপর অস্ট্রিয়ার সম্মতি পেলে তাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, অস্ট্রিয়া আগেই জার্মানির সীমান্ত থেকে বিতাড়িত শরণার্থীদের গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। জার্মানিতে সোমবারের সমঝোতার পরেও অস্ট্রিয়া সীমান্তে সুরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। তবে অবৈধ শরণার্থীদের শনাক্ত করে সীমান্তে এমন কেন্দ্রে আটক রাখলেও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ছাড়া তাদের সেই দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না, যেখানে তারা নিজেদের নথিভুক্ত করেছিল।

এমন ‘সমাধানসূত্র' গত কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক অস্থিরতা এই মুহূর্তে দূর করলেও আরও কিছু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। প্রথমত জার্মানির বর্তমান জোট সরকারে ৩টি শরিক দল রয়েছে। গত দুই সপ্তাহে ম্যার্কেল-সোহোফার সংঘাতের সময়ে এসপিডি দল প্রায় নীরব ছিল। এবার সেই ‘সমাধানসূত্র' কার্যকর করতে হলে এসপিডি দলেরও সম্মতির প্রয়োজন। অথচ ২০১৫ সালে ঠিক একই প্রস্তাব নস্যাৎ করে দিয়েছিল এসপিডি। বর্তমান কোয়ালিশন চুক্তির মধ্যে এমন কোনো কর্মসূচির উল্লেখ না থাকায় তারা এই প্রস্তাব কার্যকর করতে বাধ্য নয়। গত সোমবার রাতে তিন দলের বৈঠকের পরে এসপিডি নেত্রী আন্দ্রেয়া নালেস বলেন, এখনো বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। দলের মধ্যে ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এসপিডি দল আগামিকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরকারি জোটের বৈঠকে যোগ দেবে।

 

তাছাড়া সেহোফার এ যাত্রা নিজের মুখরক্ষা করতে পারলেও তাঁর সঙ্গে চ্যান্সেলর ম্যার্কেল-এর ব্যক্তিগত সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। সোমবার দুপুরেও সেহোফার বলেছিলেন, ‘‘যাকে আমি চ্যান্সেলর বানিয়েছি, সেই আমাকে বরখাস্ত করবে!'' 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ