ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অনশনরত নন-এমপিও শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিন

বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক পরিষদ ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক এ.বি.এম. ফজলুল করীম এক বিবৃতিতে অনশনরত নন এমপিও শিক্ষকদের যুক্তিযুক্ত দাবি সরকার ও সংশ্লিষ্টদের মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এমপিও ভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীগণ ২৫ মে  থেকে খোলা আকাশের নিচে আমরণ অনশন করছেন। এতে অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং অনেকে অসুস্থতা নিয়ে অনশনস্থলে অবস্থান করছেন।
গতকাল মঙ্গলবার দেয়া বিবৃতিতে অধ্যাপক ফজলুল করীম বলেন, চলতি অর্থবছরে বাজেটেও এমপিও ভুক্তির ব্যাপারে সুস্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তারপরও ৫০০ কোটি টাকা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নন এমপিও ৫,২৪২ (পাঁচ হাজার দুইশত বিয়াল্লিশ)টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তির দাবি থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় জনবল কাঠামো ও এমপিও ভুক্তির কৌশলী নীতিমালা জারি করায় শিক্ষকরা চরম হতাশায় আছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির সময় ছয় বছর বেতন দেবো না এ শর্ত দিলেও, দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় পার হওয়ার পরও বেতন দেয়া হচ্ছে না। যা মেনে নেয়া যায় না বলে আন্দোলনরত শিক্ষকগণ জানিয়েছেন।
ফজলুল করীম বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা দিতে হবে। ১৯৯৪ সালেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীগলীয় নেত্রী-তখন আন্দোলনরত শিক্ষকদের হাতে শরবত তুলে দিয়ে বলেছিলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে শিক্ষকদের দাবি আদায় করার জন্য আর কোনো আন্দোলন করতে হবে না। অথচ তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী থাকার পরও শিক্ষকরা দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় আমরণ অনশন করছেন। পুলিশ শিক্ষকদের নির্যাতন করছেন, যা জাতির জন্য যেমন কলংকের তেমনি বেদনাদায়ক।
ফজলুল করীম আরো বলেন, ইতোপূর্বেও বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত শিক্ষকগণ তাদের দাবি দাওয়া আদায়ের জন্য অবস্থান ধর্মঘটসহ, আমরণ অনশনের মতো কর্মসূচী পালন করতে বাধ্য হয়েছেন। শিক্ষকদের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। কারণ শিক্ষকরাই আগামী দিনের সুনাগরিক তৈরি করে থাকেন। সুতরাং দাবি দাওয়া আদায়ের জন্য তাদেরকে আর যাতে রাস্তায় নামতে না হয়, সে জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্টদের সব সময় খেয়াল রাখা উচিত।
বিৃবতিতে তিনি বলেন, শিক্ষকগণ আদর্শ মানুষ গড়ার কারীগর। তারা দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাই তাদের বৈধ ও ন্যায়সঙ্গত দাবি দাওয়া মেনে নিয়ে তাদেরকে সমাজের অন্যান্য শিক্ষকদের মতো মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি অধ্যাপক এ.বি.এম. ফজলুল করীম উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ