ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেসিসির ভাঙাচোরা সড়ক মেরামতে ৬০৮ কোটি টাকার আরও এক প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে

খুলনা অফিস : নিয়মিত সংস্কারের অভাবে খুলনা মহানগরীর অধিকাংশ সড়কই ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এসব সড়ক মেরামতের জন্য পাঠানো একটি প্রকল্পও গত ৫ বছরে অনুমোদন পায়নি। ফলে অর্থের অভাবে পুরাতন সড়ক সংস্কার এবং নতুন সড়ক নির্মাণ কাজও গতি পায়নি। এ অবস্থায় মহানগরীর ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক মেরামতে ৬০৮ কোটি টাকার প্রকল্প তৈরি করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন। প্রকল্পের ৩১টি ওয়ার্ডে ৫১৩টি এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ৬০টিসহ মোট ৫৭৩টি সড়ক সংস্কার করা হবে। ইতোমধ্যে কেসিসির কর্মকর্তারা প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমাও দিয়েছেন। এ সময় নবনির্বাচিত মেয়রও উপস্থিত ছিলেন। এনিয়ে গত এক সপ্তাহে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮৪৩ কোটি এবং সড়ক মেরামতের ৬০৮ কোটি টাকার পৃথক দু’টি প্রকল্প জমা দেয়া হলো।
কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে তালিকাভুক্ত সড়ক রয়েছে ১ হাজার ২১৫টি। এসব সড়কের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২০৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে কতটি সড়ক ভাঙচোরা সেই তথ্য কেসিসির কাছে নেই। তবে অর্ধেক সড়কই ভাঙাচোরা বলে তাদের দাবি।
সূত্রটি জানায়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির থোক বরাদ্দ থেকে প্রতিবছরই ছোট ছোট সড়ক সংস্কার করা হয়। কিন্তু বড় সড়ক সংস্কারের জন্য প্রকল্পের সাহায্য নিতে হয়। ২০১৪ সালে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু প্রকল্পটি অনুমোদন হয়নি। পরে আরও কয়েকটি প্রকল্প পাঠানো হলেও সেগুলোও অনুমোদন পায়নি। ফলে সার্বিক কাজ একরকম মুখথুবড়ে ছিলো।
কেসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবিরুল জব্বার জানান, নির্বাচনের কয়েকদিন পরই নবনির্বাচিত মেয়র নগরীর ধ্বংসপ্রাপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মেরামতের জন্য প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের ৫১৩টি এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ৬০টিসহ মোট ৫৭৩টি সড়কের তালিকা তৈরি করা হয়। পরে ব্যয় নির্ধারণ করে ৬০৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে ‘খুলনা সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন’।
কেসিসির সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেন জানান, মুজগুন্নী মহাসড়ক (সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে নতুন রাস্তা), জলিল স্মরণী (বয়রা কলেজ মোড় থেকে রায়েরমহল হয়ে সিটি বাইপাস), মজিদ স্মরণি (শিববাড়ি মোড় থেকে বাস টার্মিনাল), এম এ বারী সড়ক (গল্লামারী থেকে বাস টার্মিনাল), বিআইডিসি রোড, পুরাতন যশোর রোড (ডাকবাংলো মোড় থেকে কাস্টমঘাট)সহ গুরুত্বপূর্ণ সব সড়ক এই প্রকল্প রয়েছে। সুতরাং প্রকল্প অনুমোদন পেলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সড়ক আর ভাঙাচোরা থাকবে না।
প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী খান বলেন, প্রকল্পের আওতায় ৭৮ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং, ১৫১ দশমিক ৯২ কিলোমিটার সড়ক আরসিসি ঢালাই এবং ৩৩ কিলোমিটার সড়ক সিসি ঢালাই দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে কার্পেটিং সড়ক মেরামতে ২৩৮ কোটি, আরসিসি রাস্তা ৩০৩ কোটি এবং সিসি রাস্তার জন্য ৩৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
তিনি জানান, রাস্তা সংস্কার ছাড়াও ১০কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড় উন্নয়ন, দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের ৫টি স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের ও কিছু যানবাহন কেনার প্রস্তাব রয়েছে প্রকল্পে। আগামী ৩ জুলাই মন্ত্রণালয়ে সভার পর প্রকল্পের প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।
কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় ৫৭৩টি সড়ক সংস্কার হবে। এছাড়া বিএমডিএফের অর্থায়নে কেডিএ এভিনিউসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু সড়ক সংস্কার হবে। এদু’টি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সড়কে ভাঙাচোরা অবস্থা আর থাকবে না।
কেসিসির নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, গত ৫ বছরে খুলনায় রাস্তাঘাটের তেমন কাজ হয়নি। এসব সড়ক মেরামত এবং জলাবদ্ধতা নিরসনই হবে আমার প্রথম কাজ। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর দায়িত্বগ্রহণের আগেই প্রকল্প দু’টি যাতে অনুমোদন হয়- সেই চেষ্টা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ