ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বেনাপোল কাস্টমসে ১৭৯ কোটি  ৬৪ লাখ টাকার রাজস্ব ঘাটতি

খুলনা অফিস : বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বেনাপোল কাস্টমস হাউসের জন্য ৪ হাজার ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকার রাজস্ব আদোয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। তার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪ হাজার ১৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বন্দরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন সমস্যা, পণ্যের নিরাপত্তা শঙ্কা ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অযৌক্তিক হারে দিন দিন আমদানি পণ্যের উপর শুল্ককর বৃদ্ধিতে পাচার কার্যক্রম বেড়ে যাওয়া রাজস্ব সংকটের কারণ। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ১৮ লাখ ২ হাজার ২৮৪ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে ।  বেনাপোল কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার জাকির হোসেন জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৭শ’ ৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আদায় হয়েছিল ৩ হাজার ৮০৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সেবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশী রাজস্ব আদায় হয়েছে। 

এদিকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ১৪৩ কোটি। রাজস্ব বোর্ড বছরের শেষ মুহূর্তে আবার তা কমিয়ে ২ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করে। পরে ২ হাজার ৯৪০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয় ঐ বছরে।এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি ছিল ১৩৪ কোটি ৭৩ লাখ। আর ২০১২-১৩ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ৪৫২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, বর্তমান সরকার বন্দর উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। যদিও প্রয়োজনের তুলনায় উন্নয়ন অনেক কম হয়েছে। বন্দরে শেড এর অভাবে মালামাল সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। বন্দরের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন হলে রাজস্ব আদায় দ্বিগুণ করা সম্ভব। 

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি পণ্যের উপর অযৌতিক মূল্য বৃদ্ধি ও মন মতো শুল্ক হার বৃদ্ধি করায় রাজস্ব আদায়ে ধস নেমেছে। তিনি আরো বলেন, বেনাপোল বন্দরে যে কটি ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে তার ক্ষতিপূরণ না পেয়ে অনেক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে।  বেনাপোল বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম জানান, বন্দরের নতুন করে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। আমদানি পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্দরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। বন্দরের এসব উন্নয়ন সম্পন্ন হলে রাজস্ব আয় বাড়বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ