ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এই ইসিকে দেখে মনে পড়ছে ‘নিপাত যাক’ স্লোগান

ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী : সত্তরের দশকে যখন আমরা বামপন্থী ছাত্র রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আমাদের প্রধান স্লোগান ছিল, সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আমাদের স্লোগান ছিল, সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক। আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আমাদের স্লোগান ছিল, আইয়ুব শাহী নিপাত যাক। সে স্লোগান এখন গত হয়েছে। অনেক দিন ‘নিপাত যাক’ এমন স্লোগান শুনি না। এমন কি কম্যুনিস্ট পার্টি পর্যন্ত আজকাল আর এমন স্লোগান দেয় না। কিন্তু কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন দেশের নির্বাচন নিয়ে যে ইতর কান্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে, তা দেখে পুরানো স্লোগান মনে পড়ে গেল, এই নির্বাচন কমিশন নিপাত যাক, নিপাত যাক। এই  লফসগন সরকারের একজন সাচ্চা সেবাদাস।
অথচ দেশের সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে অপরিমেয় ক্ষমতা দিয়েছে। কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু  নির্বাচন কমিশন সেই মর্যাদার উপযুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত হয়নি। তথাকথিত এক সার্চ কমিটি গঠন করে নূরুল হুদার নেতৃত্বে গঠন করা হয় বশংবদ এই নির্বাচন কমিশন। আর এই কমিশন গঠনের পর থেকেই তারা সরকারের দেখানো পথেই চলতে শুরু করেছে। এবং সেই পথচলা কেবলই নির্লজ্জতায় ভরা। সরকার যখন যেভাবে তাদের কাছে যা কিছু দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন ঠিক ঠিক সেভাবেই তাদের সে দাবি পূরণ করেছে। সেই কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে শুরু করে জেলা উপজেলা, সিটি করপোরেশন কোথাও নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। কেউ কেউ কুমিল্লার উদাহরণ টানে নির্বাচন কমিশন সরকারের দেখানে পথে ধাতস্থ হয়ে উঠতে পারেনি। আর সে কারণেই কুমিল্লায় একমাত্র ব্যতিক্রম। কিন্তু কুমিল্লায় বিএনপি প্রার্থির জয়লাভের পর সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগসাজশে কতকগুলো কূটকৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করেন। জন্মান্ধ নির্বাচন কমিশন তাতে শুধু সাড়াই দেয় না নিজেরা বরং আরও দশ হাত এগিয়ে এগিয়ে সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়ন করে।
সরকারের লক্ষ্য ছিলো নির্বাচনে রক্তপাত হবে না। কিন্তু রক্তপাত ছাড়াই সরকার যা চায় নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে তারা তা আদায় করে নিয়েছে। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমরা সে রকমটাই দেখলাম। রক্তপাত হয়নি। সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও প্রশাসন মিলে এমন এক ট্রিক্সের আশ্রয় নিলো যে বিএনপি ও অন্যান্য প্রার্থী আগে থেকে তা আঁচ করতে পারেনি। এই ট্রিক্সটা প্রধানত হলো প্রশাসনের সাহায্যে ছাত্রলীগের সহায়তার পুলিশের দৌড়ানিতে এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করা হলো যে, যাতে নির্বাচনী কেন্দ্রে বিএনপির কোনো নির্বাচনী এজেন্ট উপস্থিত থাকতে না পারেন। তা সত্ত্বেও যারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাদা পোশাকের পুলিশ আলগোছে বের করে দিয়েছে। নইলে গ্রেফতার করা হবে বলে শাসিয়ে গিয়েছে। আগের রাতে এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাদা পোশাকের পুলিশ বলে এসেছিল যে, এলাকা ছেড়ে চলে যেতে, অন্যথায় জেলে যেতে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই সাদা পোশাকের পুলিশ ভোরে গিয়েও এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি হাজির হয়েছে। কেন্দ্রে যাওয়া চলবে না। ফলে অনেক কেন্দ্রেই বিএনপির কোনো এজেন্ট ছিলো না। এদিকে নির্বাচনে একেবারে শেষ দিকে নির্বাচন কমিশন এক কান্ড করে বসলো। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বলে বসলেন যে, রিটার্নিং অফিসারের উপর তাদের আস্থা নেই। ফলে তার উপর একজন অভিভাবক বসানো হোক। কাল বিলম্ব না করে নির্বাচন কমিশন সঙ্গে সঙ্গে একজন যুগ্মসচিবকে রিটার্নিং অফিসারের উপরে খবরদারি করার জন্য বসিয়ে দিলেন। এটা নির্বাচনী বিধির সম্পূর্ণ ব্যত্যয়। নির্বাচনের ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তার পদমার্যাদা উপসচিবের এবং তিনি জেলা প্রশাসক। এই কান্ড করে নির্বাচন কমিশন আরও একবার প্রমাণ করল যে, তারা সরকারের হুকুমবরদার মাত্র।
স্বাধীন কমিশন নয়। অথচ বিএনপির তরফ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠ করার জন্য যেসব দাবি করা হয়েছিল, কমিশন সেগুলোকে কোনো পাত্তাই দেয়নি। ফলে আরেক বার বোঝা গেল, নির্বাচন কমিশন সরকারের দাস মাত্র।
এই পরিস্থিতি সামনে রেখে গাজীপুরের ইলেকশনে নতুন কৌশল নেয়ার চেষ্টা করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেখানে আর এক ধাপ এগিয়ে সরকার নতুন কৌশলের আশ্রয় নেয়। আর এই কৌশলের মূল লক্ষ্য ছিল বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্র ছাড়া করা। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশকে সরকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, মূলত বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্র ছাড়া করার পরপরই বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালটে সীল মেরে বাক্স ভর্তি করার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটা অংশের বড় ভূমিকা ছিল। খুলনার নির্বাচনে বিএনপিকে মাঠ ছাড়া করার জন্য পুলিশ যেভাবে বাসাবাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল, গাজীপুরের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। তফসিল ঘোষণার পর থেকে সব নির্বাচনের দিন পর্যন্ত গ্রেফতার দেখানো হয়েছে শ’ খানেক। বিএনপির প্রার্থী আশা করেছিলেন যে, কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দিলেই প্রতিরোধ শুরু হয়ে যাবে। কিন্তু সেরকম কিছুই হয়নি। সে চেষ্টাও জোরদার ছিলো না।
বিএনপির নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান কাজী মাহাবুবুল হক একটি সংবাদপত্রকে জানান যে, খুলনায় এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিজ্ঞতা হতে গাজীপুরে তিন সেট এজেন্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। প্রথম সেট আটক বা দুর্ঘটনার শিকার হলে দ্বিতীয় সেট, তাতেও কাজ না হলে তৃতীয় সেট দিয়ে কাজ করা হবে। জনাব হকের দাবি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সবাইকে বের করে দেয়া হয়েছে। ভোটের পরদিন বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ খবর করে বিএনপির নেতা ও উধাও হয়ে যাওয়া এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাউকে ভোটের আগের রাতে, ভোটের দিন ভোরে বাড়ি থেকে, সকালে কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। এমন অনেকের সঙ্গেই কথা বলে জানা গেছে বেশির ভাগ এজেন্টই এখন আতঙ্কে আছেন। তারা গণমাধ্যমে তাদের নাম প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন। বিএনপি প্রার্থীর মিডিয়া সেলের প্রধান মাজহারুল আলম বলেন, গ্রেফতার এড়াতেও এজেন্টদের বাড়িতে না থাকতেও পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তাতেও লাভ হয়নি। অনেককে কেন্দ্রের ভেতর ও বুথ থেকেও সাদা পোশাকের পুলিশ বা ডিবি তুলে নিয়ে গেছে। তুলে নিয়ে গোপন স্থানে রেখে ভোট শেষ হয়ে যাওয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এক সহযোগী জানিয়েছেন, এমন ৪২ জন সম্পর্কে জানা গেছে যারা বিএনপির নির্বাচনী এজেন্ট বা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আঞ্জুমান হেদায়েতুল উম্মুল কেন্দ্রের এজেন্ট হাবিবুর রহমান, টিডিএইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের এজেন্ট ফারুক হোসেন, ধীরাশ্রম জি কে আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এজেন্ট সেলিম রেজা, সাহারা খাতুন কিন্ডারগার্টেন কেন্দ্রের এজেন্ট মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম, ধূমকেতু স্কুল কেন্দ্রের এজেন্ট আবদুল হামিদ, শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র থেকে সাবেক পৌর কমিশনার শহীদ মিঞা, শরীফপুর সরকারি প্রাথমিক কেন্দ্র থেকে মনির হোসেন, টঙ্গী থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাহা বুদ্দিন, আমবাগ সরকারি প্রাথমিক কেন্দ্র থেকে শ্রমিক দলের নেতা বজলুর রহমান, পূবাইল রোমানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে খোরশেদ মিঞা, সাবেক কাশিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ মাস্টার, ধূমকেতু কেন্দ্র থেকে সাহাবুদ্দিন, কেরিয়ার লাইফ স্কুল কেন্দ্রের আব্দুর কাদির, ৪৭ নং ওয়ার্ডের আহম্মদ, ১৫ নং ভোগরা মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে গিয়াসউদ্দিন, টঙ্গী কিন্ডারগার্টেন কেন্দ্রে থেকে সোহাগ প্রমুখ।
ভোটের দিন সকালে টঙ্গীর নোয়ারগাঁও এম এ মজিদ মিঞা উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে প্রবেশের সময় আটক করা হয় বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট আলমগীর হোসেনকে। একই ভাবে আরিচকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র কমিটির কাজী শাহীন, বনমালা ছাত্রদলের নেতা রাজন, বিএনপির কর্মী জাকির এবং ৪৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কাজী নজরুলকে আটক করা হয়। টঙ্গী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম ও শিমুলতলী কেন্দ্রর প্রধান এজেন্ট মোতালেব। মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা কেন্দ্রের এজেন্ট মোঃ মুন্নাকে ভোটের আগের সন্ধ্যায় বিলাসপুর বটতলা থেকে আটক করা হয়। ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘন্টা পর মুন্নাসহ ৬ জনকে কাপাসিয়া রোডের এক জায়গায় নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। ৩১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আইনজীবী হাসানুজ্জামান, ২৯ নং ওয়ার্ডের আমির হোসেন, তোজিউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এজেন্ট আবুবক্কর সিদ্দিকীকে কেন্দ্র থেকে ডেকে নিয়ে আটক করা হয়। পরে অনেক রাতে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।
৩৪ নং ওয়ার্ডের গাছা কলমেশ্বর আর্দশ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভেতর থেকে ভোটের দিন দুপর পৌনে বারটার দিকে ধানের শীষের এজেন্ট মোঃ ইদ্রিস খানকে তুলে নিয়ে যান সাদা পোশাকের পুলিশ। ইদ্রিস খান বলেন, বিডি পুলিশ পরিচয় দিয়ে চার ব্যক্তি কথা আছে বলে তাকে ঘরের বাইরে আসতে বলেন। তিনি বাইরে গেলে একজন এসে তার বা হাত ধরেন, আর একজন কাঁধে ধরে হাঁটতে বলেন। এসময় তিনি জানতে চায়, ‘ভাই কোনো সমস্যা’ জবাবে ঐ ব্যক্তি বলেন, ‘সমস্যা না আপনাকে হেল্প করছ্ নিরাপদে সরিয়ে দিচ্ছি।’ পরে  রাস্তার পাশে দাঁড়ানো একটি হাইএচ মাইক্রোবাসে তাকে তোলা হয় এবং একটি লাঠি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করা হয়। চান্দনার পুলিশ বক্সের কাছে এলে তাকে নামিয়ে একই ধরনের আরেকটি গাড়িতে তোলা হয়। পরে জেলা পুলিশ লাইনের একটি কক্ষে রাখা হয়। ইদ্রিসের ভাষ্য, সেখানে তার আগে নিয়ে যাওয়া হয় ৩৬ জনকে, তিনি ৩৭ নম্বর। তারপর আরও ৫ জনকে সেখানে নেয়া হয়। ঐ কক্ষে মোট ৪২ জন ছিলেন বলে ইদ্রিস জানান। অবশ্য গাজীপুর পুলিশ লাইনের আবাসিক পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, পুলিশ লাইনে এমন কাউকে আটক করে রাখা হয়েছিল কিনা তার জানা নাই। তিনি ভোটের দায়িত্ব পালনে বাইরে ছিলেন। ইদ্রিস খান বলেন, বিকেল সাড়ে ৪ টায় একজন এসে বললেন, ‘আপনারা চিন্তা করবেন না। সবাইকে একটু দূরে নিয়ে ছেড়ে দেব।’ ইদ্রিস বলেন, এর মধ্যে ৭-৮টি মাইক্রোবাস গাড়ি নিয়ে আসা হলো। একটা গাড়িতে ছিলাম আমরা ছয় জন এবং ডিবি পুলিশ ছিলো চার জন। আমাদের গাড়ির পেছনের ছিটে বসানো হলো। গাড়িটা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সালনা ব্রিজ অতিক্রম করার পর বাম পাশে একটি সিএনজি স্টেশনে নিয়ে গাড়িতে গ্যাস নেয়া হচ্ছিল। ডিবি পুলিশ চালককে সাত শ’ টাকার গ্যাস নিতে বললো, কিন্তু দূরের যাত্রা হওয়ায় চালক গ্যাস নিলো ১২ শ’ টাকার। অতিরিক্ত ৫০০ টাকার গ্যাস নেয়ায় চালকের সাথে দুর্ব্যবহার করে পুলিশ এবং ৫০০ টাকা চালককে দিতে বলে। কিন্তু চালক জানায় তার কাছে কোনো টাকা নেই। পরে পেছনে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে গ্যাস বিল দেয়া হলো।
ইদ্রিস জানায়, সন্ধ্যায় তাদের তিনজনকে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের বাঘমারা এলাকায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। সেখান থেকে রাতে বাসায় ফেরেন। কাশিমপুরের আব্দুল আজিজ মাস্টারসহ বাকি তিনজনকে নিয়ে গাড়িটি ভালুকার দিকে চলে যায়। ব্যাপারে জানতে চাইলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনর রশিদ বলেন, বিএপির কোনো এজেন্টকে আটক বা তুলে নেয়ার কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। কারো বিরুদ্ধে স্পষ্ট অভিযোগ থাকলে তো পুলিশ গ্রেফতার করতে পা্ের। আসামী ধরে নিয়ে ছেড়ে দেবে কেন? 
ভোটের দিন সকাল ৭টার দিকে উত্তর ধীরাশ্রমের বাসা থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় তরুণ আইনজীবী সেলিম রেজাকে। তিনি ধানের শীষের একজন এজেন্ট ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এমন সময় পুলিশ এসে তাকে তুলে নিয়ে যান। তড়িঘড়ি করে তাকে একটি মাইক্রোবাসে করে পুলিশ লাইনে নেয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে তিনিসহ ৯ জনকে একটি গাড়িতে তুলে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া রোডে ছেড়ে দেয়া হয়। তখন তার কাছে টাকা ছিলো না। বাসায় ফোন করে বিকাশে এক হাজার নিয়ে তারপর তিনি রাতে বাড়ি ফেরেন। ভোটের আগের দিন সন্ধ্যায় শহরের ধীরাশ্রম এলাকা থেকে ছয়জনকে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোশাকের পুলিশ। তারা হলেন, আনোয়ার হোসেন, কবীর হোসেন, মজিবুর হেলেন বাদশা, আলমগীর ও মোশররফ বাদশা। একই সময় সামন্তপুর এলাকা থেকে আমির ইকবালসহ চারজনকে তুলে নেয়া হয়। বুধবার তাদের সন্ধান পাওয়া যায়। তারা ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
বহু মামলার ভারে আমাদের আদালত অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। গত ৩১শে মে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকার হাইকোর্টে এই মর্মে আবেদন করেছিলেন যে, যেন তার কর্মী-সমর্থকদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার বা হয়রানি না করে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট কেন গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধের আদেশ দেয়া হবে না সেটা জানাতে পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। অবশেষে নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে আদালত ২৫ শে জুন বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার না করার নির্দেশ দেন। এই আদেশ কি আরও আগে দেয়া যেত?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ