ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে বিপদজনক বাঁশেরহাট ৬ মাসে দুর্ঘটনা ১৩

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : রংপুর মহানগরীর পর্যটন এলাকায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের উপর একাধিক স্থানে গড়ে উঠেছে বিপদ জনক বাঁশেরহাট। 

এর ফলে গত ৬ মাসে একই এলাকায় ১৩টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়ে বেশ কয়েকজন পঙ্গুত্বের জীবন যাপন করছেন। মহাসড়কের ওপর থেকে বাঁশের হাট সরানোর দাবিতে ইতোপূর্বে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মানববন্ধন করা হয়েছ। সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক না নড়ায় এই দুর্গতির কোন সমাধান হয়নি।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, প্রতিদিন এই সড়কে বাস, ট্রাক, কোচ, কাভার্ডভ্যান, কার মাইক্রোবাস, অটো, রিক্সা, ভ্যান, সহ হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে। বাঁশ কেনা-বেচার সময় তিন স্থানে যানজট লেগে যায়। আর দুর্ঘটনাতো নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঐ এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রংপুর নগরীর মেডিকেল মোড় থেকে পর্যটন মোড় পর্যন্ত সড়কের ১ কিলোমিটারের মধ্যে ৩ স্থানে বাঁশেরহাট গড়ে উঠেছে। বছর খানেক আগে গড়ে উঠা এসব বাঁশের হাটের কারণে যানবাহন চলাচল বিঘ্ন ঘটছে। এই সড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৫০ টিরও বেশী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি নিসবেতগঞ্জ, সাতগড়া, কটকিপাড়া, রামপুড়া, পার্বতীপুর, ইসলামবাগ, ভগিবালাপাড়া, দোলাপাড়া, নাপিতপাড়া, নয়াপাড়া, বউ বাজার এলাকার হজারো মানুষ এই মহাসড়ক পারাপার হয়ে থাকেন। গাড়ি চালকরা জানান, মহাসড়কের উপর বাঁশের হাট মরনফাঁদে পরিণত হয়েছে। বাস-ট্রাক নিয়ে এ পথে চলাচর করা তাদের দারুন সমস্যা হচ্ছে। বাঁশের হাটের কারনে এই তিন স্থানে গত ৬ মাসে ১৩ টি দুঘটনা ঘটেছে। স্কুল শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, এই মহাসড়কের উভয় পার্শ্বে দুই ওয়ার্ডের ৩৫ হাজার মানুষের বসবাস। ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল গাফফার জানান, মহাসড়কের ওপর থেকে বাঁশের হাট সরানোর বিষয়ে রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাথে কথা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হাট সরানোর ব্যাবস্থা হবে বলে তিনি অশ্বাষ দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে সে আশ্বাষের বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযুক্তদের একজন বাঁশ ব্যবসায়ী মোহন মন্ডল জানান, মহসড়কের ধারে র্দীঘদিন ধরে তারা ব্যবসা করে আসছেন। কেউ কোন দিন বাঁধা দেয় নি। রংপুর সিটি করর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হয়েছে। রংপুরের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে দীর্ঘদিনেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ