ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অদ্ভুত অনেক কিছুই ঘটছে

জাফর ইকবাল : অদ্ভুত অনেক কিছুই ঘটছে। যেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হচ্ছে। বিশেষ করে মানুষ শখ করে অনেক কিছুই করে থাকে। পরে সেগুলো তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। এবারের আয়োজনে সেরকম কিছু আয়োজন থাকছে।
দশ বছরের জেল : অ্যালেক্সি নভিকভ। রাশিয়ান এই ভদ্রলোকের হারবাল চা খুব প্রিয়। শখ করে তাই সুদূর পেরু থেকে এক প্যাকেট ভেষজ উপাদান মিশ্রিত চা আনিয়েছিলেন। কিন্তু শখ করে আনা এই চা এখন তার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার শুরু ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে। অ্যালেক্সি যাচ্ছিলেন রাশিয়ার সামারা প্রদেশে স্ত্রী-কন্যার কাছে। দীর্ঘ রাস্তা এড়িয়ে সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য তিনি পার্শ্ববর্তী দেশ কাজাখস্তান দিয়ে যাওয়ার চিন্তা করেন।  প্রায়োজনীয় কাগজপত্রসহ তিনি কাজাখস্তান সীমান্তে হাজির হন। সীমান্তরক্ষীরা তার তল্লাশি নেয়ার সময় ব্যাগের মধ্যে পান একটি চায়ের প্যাকেট। সন্দেহের চোখে তারা জানতে চান, এটা চায়ের প্যাকেট না নেশার দ্রব্য? কারণ ভেষজ ওই চায়ের প্যাকেটটি দেখতে অবিকল নেশা জাতীয় দ্রব্যের মতো।
অ্যালেক্সি তাদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন, এমনকি প্যাকেটের গায়ে স্প্যানিশ অক্ষরে লেখাও দেখান। কিন্তু সীমান্তরক্ষীরা তা মানতে নারাজ। তাঁরা পরীক্ষা করে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞ ডেকে আনেন। পরীক্ষা শেষে যখন কিছুই পাওয়া গেলো না তখন অ্যালেক্সি সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতি পেলেন। তবে ঘটনার শেষ এখানেই নয়। এটা ছিল মূলত ঘটনার শুরু।
ওই ঘটনার মাস তিনেক পরে অ্যালেক্সির নামে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে রাশিয়ান পুলিশ। মাদক চোরাচালানের দায়ে তাকে আটক করে জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে আদালতের রায়ে তাকে দশ বছর এক মাসের জেল দেওয়া হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহ্বল হয়ে পড়ে অ্যালেক্সি ও তার পরিবার। আইনজীবী ডেকে তারা এই মামলার পুনঃতদন্তের দাবি জানায়। তদন্তে বেরিয়ে আসে আসল সত্য।
ওই সময়ে কাজাখস্তান সীমান্তরক্ষীরা অ্যালেক্সিকে সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতি দিলেও কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির ওই চায়ের প্যাকেটের জন্য তার নাম মাদক চোরা কারবারীদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে। এই তালিকা তারা রাশিয়ান পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে এবং সেই তালিকা মোতাবেক রাশিয়ান পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তারপর থেকে অ্যালেক্সি জেলেই আছে।
চলতি মাসে অ্যালেক্সির অদ্ভুত সাজার বিষয়টি ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ভাইরাল হয়। তার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাছাড়া তার পরিবার ও আইনজীবীরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে বিষয়টি যেহেতু দুটি দেশের মধ্যে গড়িয়েছে সেহেতু এই অদ্ভুত সাজা থেকে অ্যালেক্সির কবে মুক্তি মিলবে তা নিশ্চিত নয়।      
কুকুরের আদরে বড় হচ্ছে হাঁসের বাচ্চা :  হাঁস ও কুকুরের মধ্যে সাধারণত বন্ধুত্ব হয় না। উল্টো কুকুর দেখলে ভয়ে দৌড়ে পালায় হাঁসের দল। কিন্তু এই চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে দিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি কুকুর, যার আদরে বড় হচ্ছে এক ঝাক হাঁসের বাচ্চা। অদ্ভুত এই দৃশ্য দেখা গেছে যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় কাউন্টি এসেক্সের স্ট্যানশেড শহরে। চলতি মে মাসের সতেরো তারিখে ওই শহরের একটি বাড়িতে সদ্য জন্ম নেওয়া কিছু হাঁসের বাচ্চা রেখে মা হাঁসটি হারিয়ে যায়। মা হাঁসের বাচ্চাগুলো যখন মৃতপ্রায় তখন ত্রাতার ভূমিকায় হাজির হয় ওই বাড়ির একটি কুকুর। লাব্রাডার জাতের কুকুরটি পরম মমতায় হাঁসের বাচ্চাগুলোকে কাছে টেনে নেয়। এরপর থেকে ওই কুকুরটিই তাদের মায়ের ভূমিকা পালন করছে। এখন বাচ্চাগুলোর সার্বক্ষণিক সঙ্গী কুকুরটি।   
অধ্যাপক থেকে পথের বাসিন্দা : আজ আমির তো কাল ফকির। চিরায়ত এই প্রবাদটি এখন রাজা সিংয়ের জীবনে বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। ছিলেন বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সেখানে অধ্যাপনা করেছেন বলে তার দাবি। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে পরবর্তী সময়ে তাকে বসবাস করতে হচ্ছে ভারতের দিল্লীর রাস্তায়। ১৯৬০ সালের গোড়ার দিকে ভাইয়ের ডাকে সাড়া দিয়ে ভারতে ফিরে আসেন রাজা সিং। দুই ভাই মিলে শুরু করেন মোটর গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ব্যবসা। ভালোভাবে ব্যবসা শুরু করলেও কিছুদিন পর তার ভাই মারা যান। ফলে ব্যবসা পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে দেউলিয়া হয়ে যান তিনি। এদিকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে সন্তানদের তিনি বিদেশে লেখাপড়া করতে পাঠিয়েছিলেন তারাও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অসহায় বাবার খোঁজখবর নেয়া বন্ধ করে দেয়।
সব হারিয়ে রাজা সিংয়ের ঠাঁই হয় দিল্লীর রাস্তায়। চলতে থাকে যাযাবরের জীবন। আজ বস্তিতে তো কাল রেল স্টেশনে। কখনো ভিক্ষা করে আবার কখনো মানুষের টুকিটাকি কাজ করে যা পান তাই দিয়ে গত চল্লিশ বছর তিনি টেনে চলেছেন ব্যর্থ জীবনের বোঝা। রাজা সিং এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। চলতি মাসের ২১ তারিখ তার এই অসহায় অবস্থার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেন দিল্লীতে বসবাসকারী অবিনাশ সিং। কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজারবার শেয়ার হয় ভিডিওটি। ফেসবুকে প্রচুর লোক তাকে সাহায্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বর্তমানে একটি বৃদ্ধাশ্রমে রয়েছেন ছিয়াত্তর বছর বয়সী এই ভাগ্যহত শিক্ষক।
নয় বছর ধরে বেগুন চুরির মামলা : সমাজে ঘটে যাওয়া নানা অন্যায়ের বিচার করা হয় আদালতে। সাধারণত বড় বড় অপরাধের বিচারের জন্য মানুষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে থাকেন। কিন্তু ইতালির একটি আদালতে নয় বছর ধরে চলেছে বেগুন চুরির মামলা। বেগুন চুরির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বসবাস ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় লিস শহরের উপকণ্ঠে। স্ত্রী এবং এক সন্তান নিয়ে অত্যন্ত টানাটানির সংসার তার। একবেলা খাবার জোটে তো অন্য বেলা উপোস। ক্ষুধার তাড়নায় একদিন সাত পাঁচ না ভেবে একজনের বেগুনের জমিতে ঢুকে পড়েন। মালিকের অগোচরে কিছু বেগুন নিয়ে সটকেও পড়েন। তবে মালিকের কাছে ধরা না খেলেও পুলিশের কাছে ঠিকই ধরা খায় ওই ব্যক্তি।
ঘটনাটি ঘটেছিল আজ থেকে প্রায় নয় বছর আগে। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে ওই ব্যক্তির নামে নিম্ন আদালতে মামলা করে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এই ব্যক্তি তার কষ্টের জীবনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। পাশাপাশি জানিয়েছিলেন, কর্মহীন হওয়ায় ও তার ঘরে কোনো খাবার না থাকায় তিনি সবজি চুরি করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগুন চুরি করেননি। এই ব্যক্তির দুঃখের কথা শুনে মন গলে নিম্ন আদালতের বিচারকের। যদিও একশ বিশ ইউরো (১ ইউরো=১০৫ টাকা) জরিমানা করা হয় তাকে সঙ্গে দেয়া হয় দুই মাসের জেল। তবে এই শাস্তিতে খুশি হয়নি স্থানীয় লিগ্যাল কাউন্সিল। তারা উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে আপিল করে। এরপর নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটি গড়িয়েছে নয় বছর। অবশেষে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিটি চুরির কথা স্বীকার করে নেওয়ার ফলে উচ্চ আদালত তার সাজা মওকুফ করে দিয়েছে। এছাড়া তার মানবিক দিকের কথা বিবেচনা না করে জনগণের করের টাকায় দীর্ঘদিন ধরে মামলা পরিচালনা করার জন্য নিম্ন আদালতকে তীব্র ভৎর্সনা করেছে।
অবসর নিতে লিঙ্গ পরিবর্তন? : বর্তমান বিশ্বে লিঙ্গ পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। এমন ঘটনা ঘটছে অহরহ। কিন্তু এবার আর্জেন্টিনায় ঘটেছে এক অদ্ভুত কাণ্ড। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে এক ব্যক্তি সরকারি চাকরি থেকে তাড়াতাড়ি অবসর নিতে লিঙ্গ পরিবর্তন করে নারীতে রূপান্তরিত হয়েছেন। ওই ব্যক্তির নাম সার্জিও লাজারোভিচ। লিঙ্গ পরিবর্তনের পর নাম রেখেছেন সার্জিয়া লাজারোভিচ। আর্জেন্টিনায় সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে লিঙ্গ পরিবর্তন আইনগতভাবে বৈধ।
জানা গেছে, আর্জেন্টিনায় চাকরিজীবী পুরুষদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর। আর নারীদের জন্য তা ৬০ বছর। পাঁচ বছর আগে অবসর নিতেই লিঙ্গ পরিবর্তন করেছেন এই ব্যক্তি, যা দেশটিতে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে।
বিষয়টি গণমাধ্যমের নজরে এনেছেন সার্জিয়ার একজন আত্মীয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক পত্রিকায় এই আত্মীয় বলেন, ‘লিঙ্গ পরিবর্তনের আগে কখনই সে (সার্জিয়া) পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট ছিল না। তার জীবনে অনেকের সঙ্গেই সম্পর্কে জড়িয়েছে সে। এগুলোর সবই ছিল নারী। এমন কি স্ত্রীর সঙ্গে ২৫ বছরের সংসার জীবনের ইতি টানার আগে তাদের কোলজুড়ে এসেছে দুটি কন্যা সন্তান। বিচ্ছেদের পরও সে অনেকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। এরাও সবাই নারী ছিল। তাছাড়া জীবনে সে বহুবার সমকামী ও তৃতীয় লিঙ্গের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কটুক্তিও করেছে।
তিনি বলেন, ‘সার্জিয়ার মতে নারীরা পুরুষদের চেয়ে ৫ বছর আগে অবসর পাবে, এটা অন্যায়। সে সব সময়ই বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছে এমন অভিযোগ করে আসছিল। এটি এক ধরনের বৈষম্য। এর বিরুদ্ধে আইনজীবীর পরামর্শে আদালতে মামলাও করেছে। কিন্তু মামলায় জয়ী হবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে এই সুবিধা নিতে সে নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করেছে। তবে অবসরে সুবিধার নেয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন সার্জিয়া। তিনি বলেছেন, ‘চাকরি থেকে তাড়াতাড়ি অবসর নেয়ার জন্য তিনি লিঙ্গ পরিবর্তন করেননি। এটি করেছেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে, যা তিনি প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না।
শখ করে কারাবাস : অপরাধের শাস্তি হিসেবে মানুষকে পাঠানো হয় কারাগারে। সেখানে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দুঃসহ ও মানবেতর জীবন কাটাতে হয় বন্দীদের। ফলে কেউই কারাগারে বন্দি জীবন কাটাতে চায় না। কিন্তু মালয়েশিয়ার দুই নাগরিক স্বেচ্ছায় কারাবরণ করেছেন! তাও আবার নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে! শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে এমনটাই ঘটেছে। নং ইন উ এবং অন বং তেক নামের মালয়েশিয়ার দুই পর্যটক এক দিনে ৫০০ রুপি দিয়ে তেলেঙ্গানার ওই কারাগারে বন্দী হিসেবে কাটিয়েছেন।
১৭৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারাগারটি ভারতের সবচেয়ে পুরাতন কারাগার। দুইশত বছরের পুরাতন এই কারাগারটিতে সাধারণ মানুষকে জেলের বন্দী জীবনের অনুভূতি পাইয়ে দিতে ‘ফিল দ্য জেল’ অর্থাৎ কারাগারের অভিজ্ঞতা নামক একটি উদ্যোগ নিয়েছে তেলেঙ্গানা জেলার কারা বিভাগ। অর্থাৎ পুরো একটা দিন কারাগারে অন্য কয়েদির মতোই সব অনুশাসন মেনে কাটাতে হবে আপনাকে। এক দিন কারাগারে থাকার জন্য ফি হিসেবে দিতে হয় ৫০০ রুপি। স্বেচ্ছায় কারাবরণ করা ব্যক্তিদের কয়েদির পোশাক পরেই কাটাতে হয় কারাগারে। সেখানে কয়েদিদের জন্য বরাদ্দ খাবারই দেওয়া হয়। এ ছাড়া কেউ চাইলে জেলে বন্দী থাকা অন্য কয়েদীর সঙ্গে একই সেলে থাকার অভিজ্ঞতাও পেতে পারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ