ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এভারেস্ট পরিষ্কার করছে চীন

এভারেস্টের চূড়া-একদিকে শিখর জয়ের জন্য পর্বতারোহীদের কাছে তা স্বপ্নের স্থান ঠিকই। কিন্তু এই পর্বতারোহণ করতে গিয়েই সেই চূড়ায় যে কত আবর্জনা জমে, তার কোনও হিসাব নেই। দীর্ঘদিন ধরে পর্বতারোহণ করতে করতে পর্বতারোহীদের ব্যবহৃত জিনিস থেকে শুরু করে, খাবার প্যাকেট, পানির বোতল, সানগ্লাস কী কী না জড়ো হয়। সম্প্রতি পর্বত চূড়ায় সেই বর্জ্য জমে জমে একদিকে যেমন বিশাল আকার নিয়েছিল, তেমনি তা থেকে পরিবেশ দূষণও হচ্ছিল। আর সেই বর্জ্য পরিষ্কারের কাজে এগিয়ে এলো চীন। সম্প্রতি সে দেশ এভারেস্টের চূড়া থেকে প্রায় সাড়ে আট টন আবর্জনা পরিষ্কার করেছে। অনেকদিন ধরেই বিষয়টা চীনের সরকারকে ভাবাচ্ছিল। অবশেষে গত এপ্রিল মাস থেকে সেই কাজে সরকারিভাবে হাত দেয় চীন। এই কাজের জন্য তিরিশেক সদস্য নিয়ে একটা টিমও তৈরি করা হয়েছে। আর সেই টিমের প্রতিটি সদস্যই একটাই বক্তব্য, অত উঁচুতে ওই ঠা-ায় চ’ড়া থেকে রাজ্যের আবর্জনা পরিষ্কারের কাজটা নিঃসন্দেহে ভীষণই পরিশ্রমের, কষ্টসাধ্য তো বটেই। চীনের করা একটি তথ্য জানাচ্ছে যে, ২০১৭ সালে তিব্বতের দিক থেকে ২০২১ জন অভিযাত্রী মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানের জন্য পর্বতারোহণ করেছিলেন। সে বরই নেপাল থেকে গিয়েছিলেন ৬৪৪ জন। এভারেস্ট অভিযানের তো একাধিক রুট রয়েছে, অন্যান্য দিক থেকে উঠেছিলেন আরও প্রায় হাজারখানেকের মত অভিযাত্রী। তাদের প্রতিদিনের ব্যবহার করা জিনিস পর্বতচূড়ায় ফেল্পেি ক্রমশ তা নোংরা হতে থাকে। তিব্বত এক্ষেত্রে একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছিল। ২০১৫ সালে প্রতিটি অভিযাত্রী পিছু ৮ কিলোগ্রাম নোংরা পদার্থ আনার জন্য দুটি করে ব্যাগ দেয়। ২০১৪ সালে নেপাল সরকারও একই নীতি নিয়েছিল। তাদের দেখেই তিব্বত অনুরূপ সিদ্ধান্ত নেয়।
এতে নিঃসন্দেহে দূষণের পরিমাণ কিছুটা কমেছে তো বটেই, পাশাপাশি এভারেস্ট যাওয়ার রাস্তায় পরিবেশবান্ধব শৌচাগার নির্মাণের প্রস্তাত দিয়েছে বেইজিং এবং কাজটি করতে চীন ভীষণই আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়, কতদিনে এই কাজ শেষ হয়, তাহলে এভারেস্টের পথে বর্জ্যরে পরিমাণ অনেকটা কমিয়ে আনা যাবে বলে সকলেই একমত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ