ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চরম ঝুঁকি জেনেও পারাপার হচ্ছে লোকজন

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফটিকছড়ি থেকে : উত্তর চট্টগ্রামের নাজিরহাট বাজারের পাশে হালদা নদীর উপর নির্মিত পুরাতন ব্রিজটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে।
জানা যায়,ফটিকছড়ি উপজেলার প্রবেশদ্বার নাজিরহাট পৌরসেভার অন্তর্গত নাজিরহাট বাজারের পাশে হালদার উপর নির্মিত পুরাতন ব্রিজটি কবে নির্মিত হয়েছে তার সঠিক সময় কারো জানা নেই। তবে স্থানীয়দের ধারনা কমপক্ষে ২০০ বছর পূর্বে নির্মিত হয়েছে ব্রিজটি। প্রায় তিনশ ফুট দৈর্ঘ ও দশ ফুট প্রস্থের ব্রিজটির উপর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মাইন বিস্ফোরণ ঘটানো হলে ব্রিজটির মধ্যাংশ পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ে। ১৯৯২ সালের দিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ব্রিজটির সংস্কার কাজ করলেও অল্প সময়ে ব্রিজটি মারাত্মক ঝুকিঁর রূপ নেয়। বর্তমান ব্রিজটির দু’পাশ রেলিং ভেঙ্গে গেছে,নষ্ট হয়ে পড়েছে মানুষ দাঁড়ানোর বক্সগুলো। ব্রিজটি দিয়ে যানবাহন চলাচল নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও চরম ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শত শত বিভিন্ন যানবাহন হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে পারপার হয়ে আসছিল। গত ১১ জুন’র বন্যায় ব্রিজের মধ্যভাগ কয়েক ফুট নিচের দিকে দেবে গিয়ে ব্রিজটি ঢালু হয়ে যায়। এতে চলাচল আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। যে কোন সময়ে ব্রিজটি ধ্বসে পড়ার আশংকা দেখা দেয়। ফলে নাজিরহাট পৌরসভার পক্ষে ব্রিজের উভয় দিকে লম্বালম্বিভাবে বাঁশ দিয়ে নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেয়। এর আগে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল ঠিক একই ভাবে ব্রিজের উপর যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। ঠিক এক বছর যেতে না যেতে ব্রিজ দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলও বন্ধ করা হল। সরেজমিনে দেখা যায় তারপরও মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। কারণ হিসেবে জানা যায় এ ব্রিজ ছাড়া বাজারে আসতে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়। তাছাড়া গাড়ি করে ৩০/৪০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। যার ফলে বাধ্য হয়ে মানুষ চরম ঝুঁকি জেনেও পারাপার হচ্ছে। স্কুল কলেজ মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীসহ বাজারে আসা প্রতিদিন হাজার হাজার জনসাধারণের পারাপারের অন্যতম মাধ্যম এ ব্রিজটি দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। পথচারীরা অভিযোগ করে বলেন, ধ্বংসের একেবারে শেষ প্রান্তে ব্রিজটি তারপরও যেন কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙ্গছেনা। হয়ত ব্যাপক প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটলে তাদের ঘুম ভাঙ্গবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণলায় সুত্রে জানা যায়, ব্রিজটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায়, তাদের নয়। সড়ক ও জনপদ বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ব্রিজটি আগে তাদের আওতায় থাকলেও এখন পৌরসভার আওতাধীন। এমন দোলাচলের টানাপোড়নে ব্রিজটির উন্নয়ন কাজ এগুচ্ছেনা বলে সচেতন মহল মনে করেন। তবুও আশার কথা হচ্ছে– স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বর্তমান ব্রিজস্থল হতে প্রায় ৩’শ ফুট উত্তর প্রান্ত থেকে নতুন করে ব্রিজ করার পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। ইতোমধ্যে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ স্থান পরিদর্শন করে দ্রুততার সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। সওজের চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ বলেন, ব্রিজটি এক সময় আমাদের বিভাগের আওতায় ছিল, এখন পৌরসভার আওতায় রয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ শাহ আলম বলেন, নতুন করে ব্রিজ করার লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে দেখে গেছেন। খুব দ্রুততার সাথে কাজ চলছে। ফটিকছড়ি সাংসদ  নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ব্রিজটি আমি দেখে এসেছি। আমার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা নাজিরহাট বাজারের উপর দিয়ে নতুন একটি ব্রিজ করার। এটি একটি প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। খুব দ্রুত ব্রিজের কাজ শুরু করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ