ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মহেশখালী-চালিয়াতলী মাতারবাড়ী সংযোগ সড়ক বিধ্বস্ত : ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

সরওয়ার কামাল (মহেশখালী) থেকে: মহেশখালী উপজেলার চালিয়াতলী মাতারবাড়ী সংযোগ সড়কটি বেহাল দশায় পতিত হয়েছে। একের পর এক ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যাওয়ায় চালিয়াতলী মাতারবাড়ী সড়কের একাধিক পয়েন্টে সড়কটি বিশাল অংশ কূহলিয়া নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এরপরেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সাগরের ভাংগন থেকে সড়কটির রক্ষার কোন উদ্যোগ না নেয়ায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে শতশত যানবাহন। মাতারবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহ জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত সড়ক ও চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়া কালভার্টটি নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কালারমারছড়া চালিয়াতলী সংযোগ সড়কের চিতাখোলার রাস্তার মাথা থেকে মাতারবাড়ী ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট, কংক্রিট উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সড়কটির এখন কাহিল অবস্থা। অপর দিকে চালিয়াতলী মাতারবাড়ী সংযোগ সড়কের কিশোলয় (ঢাকাইয়া) ঘোনা লাঘোয়া কালভার্টটির মাঝখানে দেখা দিয়েছে ফাটল। এতে যে কোন মুহূর্তে কালভার্টটি ধসে পড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশংকা করেছেন পথচারী লোকজন। তবে এ ভাঙ্গন ঠেকাতে লোক দেখানো নামে মাত্র মহেশখালী উপজেলা প্রকৌশলী দায় এড়াতে ৪টি পাটাতন ধারা জোড়া তালি দিয়ে যানবাহন যাতায়তের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কিন্তু ভারী যানবাহন যাতায়াতের কারণে পাটাতনের আশে-পাশে কালভার্টের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। পাশা-পাশি দায়সারা ভাবে বসানো পাটাতন ও গাড়ী চলাচল করতে গিয়ে সরে যাচ্ছে। এতে যে কোন মুহূর্তে কালভার্টটি ধসে প্রাণহানি সহ যানবাহন ক্ষতি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। পথচারী লোকজন জানান, এ সড়কটি কয়েকদিন আগেও ভাল ছিল। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সড়কটি নিঁচু হওয়ায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে এই সড়কে। মাতারবাড়ীর আওয়ামীলীগ নেতা মাষ্টার মনজুরুল আলম জানান, বিকল্প সড়ক না থাকায় দেশের সর্ববৃহৎ কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারী যানবাহনে মালামাল নিয়ে যাওয়া হয় এই সড়ক দিয়ে। মাতারবাড়ী বাসিন্দা ডাঃ ইয়াকুব আক্ষেপ করে বলেন, প্রতি বছর সামুদ্রিক অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির তোড়ে সড়কটি বার বার ক্ষত-বিক্ষত হয়ে আস্ছে। তিনি আরো বলেন কোন প্রকল্প শুরু করার পূর্বে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা দরকার। কিন্তু এখন দেখলাম রাস্তার উন্নয়ন দূরে থাকুক আমাদের ছোট খাটো যোগাযোগ ব্যবস্থার বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে। এর চেয়ে ভেঙ্গে যাওয়াটাই ভাল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই।
মহেশখালী উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ জাকের হোছাইন বলেন, একের পর এক বন্যায় বিধ্বস্ত হয় সড়ক ও কালভার্ট। তবে বিধ্বস্ত সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দরপত্র আহবান করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ