ঢাকা, বুধবার 4 July 2018, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আমতলী উপজেলায় ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা: আমতলী উপজেলায় ১৫২ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮০ টি বিদ্যালয়ের ৮০ জন প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে।  দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক  প্রধান শিক্ষকের পদ খালি থাকায়  আমতলী  উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষায় চলছে বেহাল দশা।
আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলায় ১৫১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১৫২ জন প্রধান শিক্ষক ও ৬২৬ জন সহকারী শিক্ষক সহ মোট শিক্ষক থাকার কথা ৭৭৭ জন।  আছে ৬৭৯ জন।  এর মধ্যে ৮০ জন প্রধান শিক্ষক ও ১৮ জন সহকারী শিক্ষক সহ ৯৮ জন শিক্ষকের পদ খালী দীর্ঘদিন ধরে। যে সকল বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই ওই সকল বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে বিদ্যালয়গুলো।
এতে সংকটের সমাধান না হয়ে দ্বিমুখী সংকট তৈরী হচ্ছে। একদিকে ক্লাশে পাঠদানে শিক্ষক সংকট অন্যদিকে ভারপ্রাপ্তরা সঠিক ভাবে তাদের সহকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। ফলে ধীরে ধীরে এসকল বিদ্যালয়গুলোতে লেখা পড়ার মান নি¤œমুখী হচ্ছে।
 উপজেলার পূর্ব তক্তাবুনিয়া  সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষকের বিপরীতে মাত্র ২ জন শিক্ষক রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ একজন সহকারীর পদ খালী দীর্ঘদিন ধরে।
১ জন পিটিআইতে থাকায় বর্তমানে ২ জন শিক্ষক রয়েছে। ১ জন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায়ই তাকে অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এসময় ১ জন শিক্ষকের ক্লাশ নিতে হয়। ১জন শিক্ষক ক্লাশ পরিচালনা করেন। ১জন শিক্ষক ৫টি ক্লাশে লেখাপড়া করাতে গিয়ে কোন লেখাপড়াই হয় না।
অন্যদিকে আমতলী উপজেলায় রয়েছে ভবন সংকট।  প্রায় অর্ধশতাধিক ভবন রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। দীর্ঘ দিন ধরে এসকল ভবনের কোন সংস্কার না করায় ভবনগুলো এতই ঝুঁকিপূর্ণ যে এর ভিতরে এখন ক্লাশ করা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরুপায় হয়ে খোলা আকাশ কিংবা অন্য বাড়ির বারান্দায় ক্লাশ নিচ্ছেন। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আমতলীর মধ্য টেপুরা ও হরিদ্রা বাড়িয়া,গাজীপু বন্দর, বেগম নূরজাহান, উত্তর সোনাখালী, মধ্য চন্দ্রা মাঝেদিয়া  চর চিলা, পূর্ব তারিকাটা এসটি, মধ্য আরপাঙ্গাশিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনগুলো জরাজীর্ণ।
এসকল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভবনের অভাবে খোলা আকাশের নীচে ক্লাশ করছে। বৃষ্টি আসলে গাছ তলা কিংবা অন্যবাড়ির বারান্দায় আশ্রয় নেন বলে জানালেন কয়েকজন প্রধান শিক্ষক।
আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মজিবুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। খুব দ্রুত তাদের পদায়নের মধ্যে দিয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করা হবে। অন্যদিকে যে সকল ভবন জরাজীর্ণ রয়েছে সে গুলোর ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। টাকা পাওয়া গেলে ভবনগুলো দ্রুত নির্মাণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ