ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 July 2018, ২১ আষাঢ় ১৪২৫, ২০ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে

কুয়ালালামপুরের একটি আদালতে হাজির করা হয় নাজিব রাজাককে

৪ জুলাই, রয়টার্স : ব্যাপক দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় তহবিল অপব্যবহারজনিত তদন্তের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

গতকাল বুধবার কুয়ালালামপুরের একটি আদালতে হাজির করে তার বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে ফৌজদারি আইনে তিনটি ও ক্ষমতার অপব্যবহারজনিত কারণে আনা আরেকটি অভিযোগের শুনানি হয়।

অভিযোগের শুনানিকালে নাজিব নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।

রাষ্ট্রায়াত্ত বিনিয়োগ তহবিল ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের (ওয়ানএমডিবি)সাবেক ইউনিট এসআরসি ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে রহস্যজনক লেনদেনের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাৎ, তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বে থাকা টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার বিকালে নাজিবকে তার কুয়ালালামপুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

কয়েদখানায় রাত কাটানো নাজিবকে বুধবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে কুয়ালালামপুরের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তার পরনে ছিল গাঢ় নীল রংয়ের স্যুট ও ম্যাজেন্টা টাই।

তার বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদ- হতে পারে। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগটিতে ‘যে পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ’ করা হয়েছে কমপক্ষে তার পাঁচগুণ জরিমানার বিধান রয়েছে।

 “প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে সরকারি কর্মকর্তার পদ ব্যবহার করে আপনি নিজের পরিতোষণ বাবদ ৪২ মিলিয়ন রিঙ্গিত হাতিয়ে নিয়েছেন,” আদালতে নাজিবের ক্ষমতার অপব্যবহারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল টমি থমাস।

অভিযোগগুলোর সঙ্গে এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল থেকে নাজিবের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসেবে ওয়ান এমডিবির অর্থ স্থানান্তরের যোগ আছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। যদিও এই অর্থ ওয়ানএমডিবি তহবিলের তছরূপ করা মোট অর্থের সামান্য একটি অংশ।

ওই তহবিল থেকে সাড়ে চার বিলিয়ন অর্থ পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ। নাজিব শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা এ ধরনের সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। 

বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে মালয়েশিয়াকে শীর্ষ অর্থনীতির দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে নাজিবই প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ওয়ানএমডিবি তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় মালয়েশিয়ার আদালত নাজিবকে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছিল। কিন্তু গত মে মাসের নির্বাচনে সরকার বদলের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী মাহথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় এসে নতুন করে ওই দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দেন।

এরপর মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারা নাজিব রাজাকের বাসায় কয়েক দফা তল্লাশি চালিয়ে বিদেশি মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ বিলাসপণ্য জব্দ করে।

প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যালয় থেকে কুয়ালালামপুরের আদালত চত্বরে নাজিবকে নিয়ে আসার পুরো চিত্র সরাসরি সম্প্রচার করে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা।

সেশন আদালতে অভিযোগের শুনানিতে হাজির সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে আদালত চত্বরে গণমাধ্যম ও জনসাধারণের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। নাজিবের ইউএমএনও দলের নেতাকর্মীরা সেখানে তাদের দলের শীর্ষ নেতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বেশ কিছু প্ল্যাকার্ডও প্রদর্শন করেন।

নাজিবের জামিন: দুর্নীতির মামলায় মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গতকাল বুধবার বিচারক মুহাম্মদ সুফিয়ান আবদুল রাজাক দুই লাখ ৪৭ হাজার ডলারের মুচলেকায় নাজিবের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

এ ছাড়া আদালত তাকে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের জামিন আদেশের পর নিজেকে অভিযোগ থেকে মুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নাজিব আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

আদালতে নাজিবের পক্ষে ছিল সাত সদস্যের একটি আইনজীবী দল। এতে নেতৃত্ব দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শাফি আবদুল্লাহ। অন্যদিকে ছিল নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টমি টমাসের নেতৃত্বে একটি ১২ সদস্যের প্রসিকিউটর দল।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ তহবিল ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের (ওয়ানএমডিবি) অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বে থাকা টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার বিকালে কুয়ালালামপুরের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ