ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 July 2018, ২১ আষাঢ় ১৪২৫, ২০ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কথা ও কর্মের দ্বারা নিজেকে প্রমাণ করতে হবে আনোয়ারকে

৪ জুলাই, দ্য অনলাইনসিটিজেন ডটকম : মালয়েশিয়ার আরো ভালোর জন্য আনোয়ার ইব্রাহিম একজন পরিবর্তিত মানুষ হতে পারতেন। যাইহোক, তাকে তার কথা এবং কর্মের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। লিম গুয়ান ইন্জি’র দুর্নীতি প্রকাশ নিয়ে আনোয়ারের সাম্প্রতিক সমালোচনা এবং তার মুক্তির পর তার কয়েকটি বিবৃতি ও কার্যক্রম ভাল লক্ষণ প্রকাশ করে না।

আমাদের ঈগলের চোখ দিয়ে আনোয়ারকে দেখতে হবে এবং ওয়াল স্ট্রিট ও ইউএসএ’র মতো সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে মালয়েশিয়াকে বিক্রির এবং সংস্কারের ব্যাপারে তার কমিটমেন্টের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সামান্য সুযোগ আমরা তাকে দেব না।

সম্প্রতি বিবিসির সাংবাদিক লিসে ডুসেটকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আনোয়ার মালয়েশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর ব্যাপারে অজ্ঞতা দেখিয়েছেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত আনোয়ারকে জেলে রেখেছিলেন তুন মহাথির মোহাম্মদ। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও উমনো নেতা নাজিব রাজাক ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর ছাড়া পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে জেলে আটকে রেখেছিলেন। তবুও এপর্যন্ত সব সাক্ষাতকারে তিনি ১৯৯৯ সালে মাহাথির কর্তৃক কারারুদ্ধের বিষয়টি বারবার উল্লেখ করেছেন।

আনোয়ারের পার্টি ‘পার্তি কুদিলান রাকিয়াত’ (পিকেআর) মাহাথিরের জোটের অংশ। তার পার্টি ২০০৮ এবং ২০১৩ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আনোয়ার দাবি করেছেন, ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি উমনো পার্টির ৩০ জন এমপিকে হারানোর পাশাপাশি উমনো নেতৃত্বাধীন সরকারকে বিরোধীদলে পাঠাতে পারতেন। যদিও তার এই দাবির কোনো ভিত্তি নেই।

মাহাথিরের সম্পৃক্ততা ছাড়া ২০১৮ সালের নির্বাচনে পিকেআর ও মিত্ররা জয় লাভ করতেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে। তার সাক্ষাৎ্কার জুড়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের কোনো রেফারেন্স ছিল না। সাক্ষাৎকারের সুরটি ছিল এমন- পারস্পরিক সমর্থনের চেয়ে বরং মাহাথিরের জন্য আনোয়ারের সমর্থন প্রয়োজন ছিল।

মাহাথিরের সাথে আনোয়ারের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার প্রধান কারণ ছিল আনোয়ার নিজেই। আনোয়ার বিশ্বব্যাংকের ডেভেলপমেন্ট কমিটির এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের চেয়ারম্যান ছিলেন। দুটি সংস্থায় মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় চলে।

অনেক প্রগতিশীল বিশ্বমানের অর্থনীতিবিদ লিখেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশের সম্পদের বিপরীত প্রবাহের জন্য আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক দায়ী।

পল ওলফোভিত্জের মতো বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গন্ধময় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আনোয়ারের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগিতা ছিল। পল ওলফোভিত্জ ছিলেন বিশ্বব্যাংকের দশম প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক মার্কিন উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী; যিনি ছিলেন ইরাক যুদ্ধের প্রধান কারিগর।

টাইম ম্যাগাজিনে আনোয়ার সম্পর্কে উইলফোভিত্জ বলেছিলেন, ‘এই সাহসী নেতা বিশ্ব পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’ 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ