ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 July 2018, ২১ আষাঢ় ১৪২৫, ২০ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্ব আজ বিষ্মিত -প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  বলেছেন, বাংলাদেশ গত ৯ বছরে যে উন্নয়ন করেছে তাতে বিশ্ব আজ বিস্মিত। কিন্তু এর ম্যাজিকটা কি..? আর কিছু নয়, আমি দেশকে ভালবাসি, দেশের উন্নয়ন করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। যার ফলে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। আর এ উন্নয়ন দেখতেই আজ জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য  ফকরুল ইমামের সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে উত্থাপিত সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্বগ্রহণের পর শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সারাদেশে ১ হাজার ৬২৪টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। 
রোহিঙ্গাদের ফেরৎ যাওয়া বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে মারা মারি কাটাকাটি নয়- আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহকে চাপ সৃষ্টির অনুরোধ জানাচ্ছি।
বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের দেশে অনেকেই আসছে। এর একটা কারণ হল-বাংলাদেশ মাত্র ৯ বছরের মধ্যে যে উন্নয়ন করেছে সেই উন্নয়নে বিশ্ব আজ বিস্মিত। যেহেতু উন্নয়নের ধারাটা এতো দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেছে। আমাকে অনেকে জিজ্ঞেস করেন এর ম্যাজিকটা কি? ম্যাজিক কিছুই না। আমি দেশকে ভালবাসি, মানুষকে ভালবাসি, মানুষের কল্যাণে কাজ করি। সেটাই কারণ। জাতির পিতা যে স্বপ্ন নিয়ে দেশটাকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন সেটাই বাস্তবায়ন করা আমার উদ্দেশ্যে। আর এটাই আমার একমাত্র কর্তব্য বলে আমি মনে করি, সেকারণে এতো কাজ করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ১১ লাখ  রোহিঙ্গা স্মরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছি। পৃথিবীর বহু দেশ আশ্রয় দিতে চাইনি। আমরা দিয়েছি। আশ্রয় শুধু দেওয়াই না, তাদের থাকা, চিকিৎসা, তাদের খাদ্যের ব্যবস্থাসহ সবরকম ব্যবস্থা করেছি। এতো সুশৃঙ্খলভাবে এসব করেছি এটাও তাদের কাছে বিষ্ময়ের কারণ। তাছাড়া আমরা প্রতিবেশী দেশের সাথে আলোচনাও করে যাচ্ছি। আমরা কিন্তু  মারামারি কাটাকাটি করছি না, আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করে এদের ফেরত দিতে পারি সেই চেষ্টা করছি। সেকারণে এখনো এখানে সবাই আসছেন এসব দেখতে। রোহিঙ্গাদের মাতৃভ’মিতে ফেরৎ যেতে আমরা তাদেরকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টির অনুরোধ জানিয়েছি।
সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের বাংলাদেশ সফরের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তা এবং রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের উপর সংঘটিত জঘন্যতম অপরাধের দায় নিরুপণ এবং জবাবদিহীতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মিয়ামনার সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করছে।
এমপি নুরজাহান বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি যে, রোহিঙ্গা সমস্যার শুরু মিয়ানমারে এবং সমাধানও মিয়ানমারকেই করতে হবে। তাই রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য আমরা মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছি। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসকল উদ্যোগের পাশাপাশি আমরা দ্বিপাপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এ বছর জুন মাসে রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবর্তনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইউএনডিপি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন হলে রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবর্তন করা সম্ভব হবে।
সংসদ নেতা বলেন, আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উপনীত হয়েছি। আমরা সমুদ্র  থেকে মহাকাশে যাচ্ছি। সেটার জন্য এখন সবার দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে। এই বাংলাদেশকে এক সময় মানুষ মনেই করতো বাংলাদেশ মানে ভিক্ষার ঝুঁড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো। এখন আর বাংলাদেশের মানুষ ভিক্ষার ঝুঁড়ি নিয়ে ঘুড়ে বেড়ায় না, ভবিষতেও আর ভিক্ষার ঝুঁড়ি নিয়ে ঘুড়ে বেড়াবে না। ভিক্ষার ঝুড়ি নিয়ে দাঁড়াবেও না। আমরা সেই ব্যবস্থা করার জন্যই কাজ করে যাচ্ছি। তবে এদেশে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস, মাদক এগুলো কারা সৃষ্টি করে গেছে। দুর্নীতিকে কারা নীতি করেছে? দেশকে ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন কারা করেছে? বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তারাই এসব করেছে। এখন আর সেই বাংলাদেশ নাই। এখন আমরা গর্বের সাথে মাথা উচু করে চলতে পারি। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার করার পর বাংলাদেশকে যেভাবে পেছনে ঠেলে দিয়েছিল সেখান থেকে আজ আমরা মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।  ‘দুই চোখে মোর জলের ধারা মেঘণা, যমুনা’। মেঘনা যমুনাও বয়ে যাচ্ছে পদ্মাও বয়ে যাচ্ছে। অশ্রুধারা সংবরণ করেই পিতা-মাতা ভাই বোন সব হারানোর বেদনাকে বুকে নিয়ে দুই চোখের অশ্রু সংবরণ করে আমি এগিয়ে যাচ্ছি। একটাই লক্ষ্য। বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়া।
সংসদ নেতা বলেন, ভিক্ষা অনুদান এ শব্দগুলো আমি বদলে ফেলতে চাই। বাংলাদেশ এখন আর সাহায্য চায় না, বিনিয়োগ চায়। এটি দেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিফলন ও স্বীকৃতি। জাতি হিসেবে আমাদের একটি বড় অর্জন। আশা করছি অচিরেই আমরা উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হবো। সমৃদ্ধির আগামীর পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদী প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ’রূপকল্প ২০৪১’ প্রণয়নের কাজ আমরা শুরু করেছি। ২০৪১ সালে আমরা হবো সুখী, সমৃদ্ধ একটি উন্নত দেশ।
তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ে, সেখানে কয় টাকা খরচ করে? সিট ভাড়া ২৫ টাকা, খাবার ৩০ টাকা। এখন এক কাপা চা কিনতে গেলেও ২০ টাকা লাগে। তারপরেও আমরা লেখাপড়ার খরচ  চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই আমাদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে। দারিদ্র্য মুক্ত করতে হলে শিক্ষাই একমাত্র হাতিয়ার।
এমপিওভুক্তি কার্যক্রম দ্রুত গ্রহণ করা হবে
প্রধানমন্ত্রী এমপিওভুক্তি বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্বগ্রহণের পর শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সারাদেশে ১ হাজার ৬২৪টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। অবশিষ্ট ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করার জন্য ইতোমধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারি করা হয়েছে। এই নীতিমালা অনুসরণ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে অনলাইন অ্যাপলিকেশন গ্রহণ  এবং ব্যবস্থাপনা ও  বিধি মতে প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের জন্য পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে
সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত এটি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০২১ সাল নাগাদ এই খাতের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ লক্ষ্য মাত্রার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৈরি পোশাক রপ্তানির ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ২০১৫-১৮ মেয়াদের জন্য গৃহীত রপ্তানি-আমদানি নীতির ধারাবাহিকতায় ২০১৮-২০২১ মেয়াদের জন্য অনুরূপ নীতি প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ