ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 July 2018, ২১ আষাঢ় ১৪২৫, ২০ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছাত্রদের ওপর জুলুম-নির্যাতন মেনে নেয়া যায় না -এরশাদ

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারী এখন সংসদেই আছে। তারাই সংসদে দাঁড়িয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেন। চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর সরকার জুলুম-নির্যাতন করছে। সরকারের এই জুলুম-অত্যাচার মেনে নেয়া যায় না। শুধু ছাত্র নয়, অভিভাবকদের ওপর হামলা করা হচ্ছে।’
গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন। এদিন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব মেজর (অব.) আশরাফ উদ দৌলা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। যোগদান অনুষ্ঠানে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ‘সাধারণ মানুষ এখন রাজনীতিবিদদের ঘৃণা করে। আমরা ক্ষমতায় গিয়ে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনবো।’
 তিনি বলেন, ‘শুধু ছাত্র নয়, হামলা ও গ্রেফতার করা হচ্ছে অভিভাবকদের ওপরও। মত প্রকাশের ও দাবি আদায়ের জন্য কথা বলার অধিকার সবারই আছে। কোনও নাগরিক অধিকারের দাবি তুলতে পারবে না-এটা হতে পারে না।’ ‘শিক্ষকরা আজ রাস্তায় শুয়ে আমরণ অনশন করছেন। তাদের সঙ্গে কেউ কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছে না। অথচ শিক্ষকরাই জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মাদক ও চোরাকারবারী এখন সংসদেই আছেন। মাদকের ছোবলে দেশের সংস্কৃতি ও সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সুনীল শুভ রায়, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
কোটা সংস্কার আন্দোলন সম্পর্কে জাতীয় পার্টির এ নেতা বলেন, ‘চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর সরকার জুলুম-নির্যাতন করছে। সরকারের এই জুলুম-অত্যাচার মেনে নেয়া যায় না। শুধু ছাত্র নয়, অভিভাবকদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। অভিভাবকদের পুলিশ খুঁজে বের করে গ্রেফতার করছে।’ এরশাদ আরও বলেন, ‘শিক্ষকরা আজ রাস্তায় শুয়ে আমরণ অনশন করছে। তাদের সাথে কেউ কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছে না। অথচ শিক্ষকরাই জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।’
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে এলো কি এলো না তাতে কিছু এসে যায় না। বিএনপি নির্বাচনে এলে এক ধরনের প্রস্তুতি আর নির্বাচনে না এলে অন্য কৌশলে নির্বাচন করবে জাতীয় পার্টি। আমরা নির্বাচন করবো, জাতীয় পার্টি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। ৩০০ আসনেই আমাদের প্রস্তুতি আছে, আমরা নির্বাচনে জয়ের স্বপ্ন দেখছি। ক্ষমতায় থাকাটাই বড় কথা নয়, মানুষের ভালোবাসা অর্জনই রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অশনি সংকেত আছে। এ অবস্থায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা জাতীয় পার্টিতে যোগদান করছে, এটা অবশ্যই আমাদের জন্য ইতিবাচক। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষ জাতীয় পার্টিকেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায়।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ