ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 July 2018, ২১ আষাঢ় ১৪২৫, ২০ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে বিআরটিসি বাসের চাকায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহী ফুয়াদের

স্টাফ রিপোর্টার : পাঠাও রাইড শেয়ারিং-এর মোটরসাইকেলে চেপে প্রতিদিনের মতো রাজধানীর মহাখালীর কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন মো. নাজমুল হাসান ফুয়াদ (৩৫)। বিমানবন্দর সড়কের পূর্বপাশে মহাখালী যাওয়ার পথে পেছন থেকে বিআরটিসি’র একটি দোতলা বাসের ধাক্কায় মোটরসাকেলটি কাত হয়ে পড়ে যায়। পাঠাও চালক একপাশে পড়ে যান এবং যাত্রী ফুয়াদের মাথার ওপর দিয়ে বিআরটিসি’র বাসটি চলে যায়। চাকায় পিষ্ট হয়ে মাথা থেঁতলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে বিমানবন্দর গোলচত্বর ক্রসিং এর কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় নিভে যায় ফুয়াদের প্রাণপ্রদীপ। তার সাথে নিভে যায় একটি পরিবারের স্বপ্নদীপ।
বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শফিক বলেন, ‘পাঠাও এর বাইকে করে দুইজন যাচ্ছিলেন। বিমানবন্দর সড়কের গোলচত্বর ক্রসিং পার হয়ে সামনে যেতেই একটি বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি পড়ে যায়। এতে চালক একদিকে ছিটকে পড়েন। আর যাত্রী ফুয়াদ বাসের চাকায় পিষ্ট হন। তার মাথা চাকার নিচে পড়ে থেঁতলে যায়।’ এই ঘটনায় বিআরটিসি বাসটি জব্দসহ চালক আজিজুল হককে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজিগঞ্জের সোনাইমুড়িতে। নিহত মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ফুয়াদ (৩৫) তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ সেবা খাতের কোম্পানি এডিএন টেলিকমের রেভিনিউ অ্যাসুরেন্স বিভাগের সিনিয়র অফিসার ছিলেন।
সকালে দক্ষিণ খানের বাসা থেকে রাইড শেয়ারিং কোম্পানির মোটরসাইকেলে মহাখালীতে অফিসে যাওয়ার পথে নাজমুল দুর্ঘটনায় পড়েন বলে এডিএন টেলিকমের হেড অব অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইনান্স আবদুল আলীম জানান।
বিআরটিসির একটি দোতলা বাস পেছন থেকে ওই মোটর সাইকেলে ধাক্কা দিলে আরোহীরা ছিটকে পড়ে যান। বাসটির একটি চাকা নাজমুলের মাথার ওপর দিয়ে চলে গেল ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক মিরাজুল ইসলামও আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। চালক আজিজুল হক সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রয় চার বছর ধরে এডিএন গ্রুপে কাজ করছিলেন নাজমুল; গতবছর শেষ দিকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে বিয়ে করেছিলেন। তার স্ত্রী ময়না মাস্টার্সের শেষ বর্ষের ছাত্রী। নাজমুলের বাবা আবুল বাশার একসময় জীবন বীমার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। এক ভাই এক বোনের মধ্যে ফুয়াদ ছিল বড়।
তার ছোট ফুফু শিল্পী আক্তার জানান, সন্ধ্যায় ময়না তদন্ত শেষে ঢামেক থেকে ফুয়াদের লাশ দক্ষিণখানের বাসায় নেয়া হয়। সেখানে প্রথম দফায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাতেই তার লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন স্বজনরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সুনাইমুড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে ফুয়াদের লাশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ