ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 July 2018, ২১ আষাঢ় ১৪২৫, ২০ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আর চিকিৎসা নিবেন না আন্দোলনকারী শিক্ষকরা

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে আমরণ অনশন চলছে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের। ছবিটি গতকাল বুধবারের -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দাবি আদায় না হওয়ায় আর চিকিৎসা না নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তারা জানিয়েছেন, স্বীকৃতি প্রাপ্ত সকল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে গত দশ দিনের আমরণ অনশনরত শিক্ষকরা এখন থেকে আর স্যালাইন না নেয়া এবং হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে অবশ্য তারা জানিয়েছিলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও আলোচনা দুটোই অব্যাহত রাখা হবে।
 নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা অনশনস্থলেই বৈঠক করি এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন থেকে আমরা অনশনরত শিক্ষকরা কোন ধরনের চিকিৎসা নেব না। অসুস্থ হলেও হাসপাতালে যাব না। শিক্ষকদের অনেকেই অনশনস্থলেও স্যালাইন নিতে রাজী হচ্ছে না গত কয়েকদিন থেকেই।
অনশনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন ১০/১২ বা ১৫ বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছি। কিন্তু এখন স্বীকৃতির পরীক্ষা দিতে হবে। যখন আমাদের অনেকেরই ভিন্ন চাকরিতে যোগ দেয়ার বয়স ও শেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ফুটপাতেই মৃত্যুই শ্রেয়।
প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার দশম দিনের মতো আমরণ অনশন পালন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। দাবি পূরণে দ্বিতীয় দফায় শুরু করা এ আন্দোলনে দুই শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে ২৩ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদ্ন্নুবী ডলার জানিয়েছেন, অনশনে শিক্ষকদের কেউ কেউ শুয়ে পড়েছেন। অর্ধ-শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীকে অনশনের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ায় স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতাল থেকে আন্দোলনে ফিরেছেন ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদ্ন্নুবী ডলার। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলনের ২৫ দিন। আমরণ অনশনের দশম দিন চলছে আজ। আমি নিজেই গুরুতর অসুস্থ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম।
তিনি বলেন, আমাদের দাবি তো ন্যায্য। এই দাবি প্রধানমন্ত্রী মেনে নেয়ায় এর আগের আন্দোলন আমরা ইস্তফা দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের আশাহত করা হয়েছে। বাজেটে আমাদের আশার প্রতিফলন ঘটেনি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা ফের আন্দোলনে নেমেছি। আশায় আছি। দাবি সরকার মেনে নেবে।
নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায় আরও বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দুটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
দাবি দুটি হলো-সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আওতায় এনে আংশিক বেতন চালু করে পরবর্তী অর্থবছরে তা সমন্বয় করা। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত না হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য এমপিওভুক্তির পর ৪ বছর সময় দেয়া। অনশনে অংশ নেয়া শিক্ষকরা বলেন, গত ১২ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারি করা হয়েছে। এই নীতিমালা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঠদান অনুমতি ও স্বীকৃতির সময় আরোপিত শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ রায়  বলেন, দাবি আদায়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে। এবার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন থামাবেন না।
এদিন জাতীয় প্রেস ক্লাবে আমরণ অনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন ঠাকুরগাঁও- ৩ (পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈল) আসনের সংসদ সদস্য ওয়র্কার্স পার্টির অধ্যাপক ইয়াসিন আলী। বেলা পৌনে ২টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে উপস্থিত হন তিনি। পরে সেখানে সংহতি প্রকাশ ও দাবি বাস্তবায়নে জোরালো ভূমিকা রাখার কথাও বলেন তিনি। তিনি বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি ন্যায্য তারা বছরের পর বছর বিনা বেতনে চাকরি করছেন যা অমানবিক। সরকারের উচিত দাবি মেনে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া। এর আগে ২ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন লেখক, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ