ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 July 2018, ২১ আষাঢ় ১৪২৫, ২০ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিচারের ভয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে দূরে যেতে পারছেন না -আব্দুল্লাহ আল নোমান

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে কমল একাডেমি আয়োজিত ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বেগম জিয়ার মুক্তি ও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে সার্বিকভাবে নৈরাজ্য চালানো হচ্ছে। সারাদেশে কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে সরকারি বাহিনী। বিচারের ভয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে দূরে যেতে পারছেন না এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেই সরকারের পতন ঘটানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে কমল একাডেমি কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় নোমান এই মন্তব্য করেন।
সংগঠনের সভাপতি মইনুল আহসান মুন্নার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপির ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন, মিয়া মো. আনোয়ার, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সাহিদুর রহমান তামান্না, সাংবাদিক এম এ আজিজ বক্তব্য রাখেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ও জনবান্ধব  হলে কুশাসন থেকে সরে গণতান্ত্রিকভাবে একটি নির্বাচন দিতে পারতো। আমরা ভোট দিতে পারতাম। কিন্তু তা সম্ভব নয়। কারণ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে! তার যে অপকর্ম ও অপকীর্তি, সেগুলোর কারণে ক্ষমতা থেকে চলে গেলে এ দেশের মানুষ তার বিচার করবে। বিচারের ভয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে দূরে যেতে পারছেন না।’
আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আজ দেশের যে পরিস্থিতি, এই পরিস্থিতিতে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট আমরা চেষ্টা করছি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য। এই ঐক্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমরা লক্ষ করছি একটা আশার আলো। এই আশার আলো প্রজ্বলিত হয়েছে এবং এটা আরো বেশি ধীরে ধীরে আরো বেগবান হবে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে পারি, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা হলে এই সরকারের পতন অনিবার্য এবং নিশ্চিত।’
 গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে অভিযোগ করে ওই দুটি করপোরেশনে পুনরায় নির্বাচনের দাবিও জানান আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন‘আজকে (গতকাল) পত্রিকায় দেখলাম নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচন সুষ্ঠু হয় নাই, অনেক ভুল-ত্রুটি হয়েছে। কাজে নির্বাচন কমিশন যেখানে বলছে যে, ওই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয় নাই, কমিশনের উচিত পদত্যাগ করা।’ বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের জনগণের দাবি হবে খুলনা ও গাজীপুরে পুনরায় নির্বাচন করা। নির্বাচন কমিশনের উচিত জনগণের দাবি মেনে নিয়ে সেখানে আবারও নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।’
 কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের হামলার কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নোমান। বলেন, সরকারপ্রধান কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন সংসদে। কিন্তু দুই মাস পার হলেও এখনো প্রজ্ঞাপন হয়নি। ছাত্ররা যখন আন্দোলন করছে প্রজ্ঞাপনের জন্য, তখন সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন তাদের ওপর হামলা করছে।
 নোমানের অভিযোগ, দেশে সার্বিকভাবে নৈরাজ্য চালানো হচ্ছে। সারাদেশে কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে সরকারি বাহিনী। তার কথায়, ‘আমরা মনে করি, দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। আবারও সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিস্থাপন করবে বিএনপি। সংবিধানে অগণতান্ত্রিক কর্মকা- সন্নিবেশিত করে এককেন্দ্রিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর অভিলাষকে আমরা চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবো। এজন্য বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ঐক্য প্রয়োজন।’
বিএনপির এই শীর্ষপর্যায়ের নেতার মন্তব্য, ‘আইয়ুব খানের কামান, বন্দুক ও পুলিশ সবই ছিল। কিন্তু তাকে ঠিকই পালাতে হয়েছে। দেশে আবারও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একইভাবে ৯ বছর ঝাণ্ডা উড়িয়েছেন এরশাদ। কিন্তু রাইফেলের বন্দুক দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগও ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। বেশ কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন তারা জোর করে কেড়ে নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত জনতার ভোটে ২০০১ সালে পরাজিত হয়েছে। কোনও নির্যাতনকারী ও ফ্যাসিস্ট জনবিচ্ছিন্ন হলে কখনও টিকতে পারে না। আওয়ামী লীগ সরকারও টিকতে পারবে বলে আমরা মনে করি না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ