ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 July 2018, ২১ আষাঢ় ১৪২৫, ২০ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভরা মওসুমেও মিলছে না ইলিশ কাউখালীর কচা সন্ধ্যা ও কালী গঙ্গায় ॥ খালি হাতে নীড়ে ফিরছে জেলেরা

মোঃ তারিকুল ইসলাম পান্নু, কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা: পিরোজপুরের কাউখালীর কচা সন্ধ্যা ও কালিগঙ্গা নদীতে ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। জেলেরা নদীতে দিন রাত জাল ফেলে আপ্রান চেষ্টা করলেও তাদের জালে মাছ ধরা পড়ছে না। ফলে জেলেদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।

কাউখালীতে ৭ হাজারেরও বেশী ইলিশ জেলে পরিবার রয়েছে, এসব জেলে বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নৌকা ও জাল গড়ে নদীতে নেমেছে। কিন্তু সারাদিন জাল ফেলেও মাছ না পাওয়ায় তারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে। এখন অনেক জেলে নদীতে যাচ্ছেনা। নদীর তীরে নৌকায় বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। অন্য কোনো আয়ের উৎস না থাকায় বেকার হয়ে পরেছেন উপজেলার হাজার হাজার জেলে। বেশীরভাগ জেলে আবার ব্যাংক ও এনজিও ঋণের কিস্তির ভয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন না। তাদের পরিবারের সদস্যরা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।

সরেজমিনে জেলেপাড়ায় গিয়ে এক করুন চিত্র দেখা যায়, জেলেদের স্ত্রীরা অভাবের তাড়নায় দিশেহারা হয়ে পরেছেন। তারা জানান, বিভিন্ন এনজিও ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, বিআরডিবি থেকে আনা ঋণের টাকা প্রতি সপ্তাহে পরিশোধ করতে হয়। তারা সংসার চালাতে পারছেন না কিস্তি দেবে কিভাবে- এই দুঃশ্চিন্তায় তাদের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে। কাউখালীর ৭২৮টি জেলে পরিবার সরকারি সাহায্য পেলেও তা জেলেদের সংখ্যার তুলনায় যৎসামান্য। কাউখালীর এলাকার ইলিশ জেলে বাবু ফরাজী, ফোরকান হোসেন, চানু জানান, তাদের একমাত্র পেশা ইলিশ ধরে বিক্রি করা এবং তা দিয়ে সংসার চালানো। ইলিশ মাছ নদীতে না পেয়ে তারা হতাশ। বর্তমানে সরকার সহজ শর্তে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে লোন দিলে আমরা এই করুন অবস্থা থেকে রেহাই পাব।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, উপজেলার জেলেদেরকে পূর্ণবাসনের জন্য চার মাসের জন্য প্রতি মাসে ৪০ কেজি চাল দেয়া হচ্ছে। উল্লেুখ্য কাউখালীর কচা নদীর সু-স্বাদু ইলিশ কাউখালীরের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি করা হতো। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের ধারনা জলবায়ূ পরিবর্তন এবং স্থান পরিবর্তনের ফলে এ সমস্ত নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ মিলছেনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ