ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 July 2018, ২১ আষাঢ় ১৪২৫, ২০ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনে ১৫ শতাংশ সুন্দরী ও পশুর গাছ বিলুপ্ত

খুলনা অফিস : সুন্দরবনের সৌন্দর্য সুন্দরী গাছে টপডাইং, গলরোগ, পশুরের হাটরট, ডাইব্যাক, কেওড়ার ডাইব্যাক রোগের কারণে ১৫ শতাংশ গাছ বিলুপ্ত হয়েছে। এসব শূন্য স্থান পূরণ করেছে গেওয়া ও গরান। পঞ্চাশ শতাংশ নতুন স্থানে গেওয়া ও গরান জন্ম নিচ্ছে। গত ৩০ বছরে টপডাইং এ আক্রান্ত সুন্দরবনে এক দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ঘনমিটার সুন্দরী গাছ বিনষ্ট হয়েছে। বিনষ্টকৃত কাঠের মূল্য আনুমানিক ২ হাজার কোটি টাকা। উল্লেখ্য, সুন্দরবনে ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকার ৪ হাজার ১৪৩ বর্গকিলোমিটার স্থলভাগে ৩৩৪ প্রজাতির গাছ-গাছড়া জন্ম নেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি হয়-এমন একটি বিশেষ প্রাকৃতিক পরিবেশে যেখানে লোনা ও মিষ্টি পানি প্রবাহের একটি নির্দিষ্ট মাত্রার সম্মিলন ঘটে। লোনা ও মিঠা পানির এই মাত্রার হেরফের ঘটলে ম্যানগ্রোভ বনের ক্ষতি হয়। লোনা পানির আধিক্য সুন্দরী গাছের জন্য প্রাণঘাতি। দুর্ভাগ্যবশত সুন্দরবনে তাই হয়েছে। সুন্দরী গাছে টপডাইং, গলরোগ, পশুরের হাটরট, ডাইব্যাক, কেওড়ার ডাইব্যাক রোগ ছাড়াও কাকড়া, আমুর, শিংড়া, ধুন্দল গাছ লবণাক্ততার কারণে কমে যাচ্ছে। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লম্বা সুন্দরী ও পশুর গাছ মারা যাওয়ায় নতুন করে এসব বৃক্ষ জন্ম নিচ্ছে না।

সূত্র মতে, এসব রোগের কারণগুলো হচ্ছে-মিষ্টি পানির প্রবাহ হ্রাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বনের অভ্যন্তরে নদ-নদীতে পলির আধিক্য, স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা বাধা, পুষ্টি সরবরাহ হ্রাস, গাছের ডগায় ও শিকড়ে কীটপতঙ্গ ও ছত্রাকের আক্রমণ, জলাবদ্ধতা এবং নানাবিধ প্রাকৃতিক পরিবর্তন। টপডাইং ও হাটরটে আক্রান্ত কম্পার্টমেন্টগুলো হচ্ছে- ৬, ১৪, ১৯, ২০, ২১, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ৩২, ৩৩, ৩৬, ৩৭, ৩৮ ও ৩৯। পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাতের মতে, ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব এবং মিঠা পানির অভাবে সুন্দরবনে সুন্দরী গাছ মারা যাচ্ছে। এখানে সুন্দরী গাছের সংখ্যা ৮৫ কোটি ৬৭ লাখ। লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সুন্দরী ও পশুর গাছ মারা যাওয়ার সংখ্যা বাড়ছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল-আল-মামুন জানান, ২০০৭ সাল থেকে আগামরা গাছ কাটা বন্ধ রয়েছে। মরা সুন্দরী গাছ বনের অভ্যন্তরেই নষ্ট হচ্ছে। এ অঞ্চলের নদ-নদীতে লবণাক্ততা ৩০ পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। শিবসা, পশুর ও কপোতাক্ষ নদের প্রবাহ কমে গেছে। সুন্দরবনে দৃশ্যমান বড় সুন্দরী গাছ বিলুপ্তির পথে।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. স্বপন সরকার তার নিজের গবেষণার কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সুন্দরবনের বৈচিত্র কমে গেছে। সুন্দরী, পশুর, শিংড়া, আমুর, ধুন্দুল ও কাকড়া গাছের সংখ্যা কমে গেছে। বনে উৎপাদিত ১৫ শতাংশ সুন্দরী ও পশুর গাছ মারা গেছে। পাটকোষ্টা, নীলকমল, গেওয়াখালি, আদাচাই, হরিণটানা, তাম্বুলবুনিয়া ইত্যাদি স্থানে রোগাক্রান্ত গাছের সংখ্যা বাড়ছে। ৫০ শতাংশ নতুন স্থানে গেওয়া ও গরান জন্ম নিচ্ছে। গোলপাতার প্রসারও কমেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ