ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 July 2018, ২১ আষাঢ় ১৪২৫, ২০ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় নাসিরনগরে বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৮ জন জেল হাজতে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়ি-ঘর ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিংযোগের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এম.এ হান্নান, বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য আজদু মিয়াসহ বিএনপির ২১  নেতা-কর্মীসহ ৩৮জনকে জেলা হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত।
গত রবিবার দুপুরে মামলার আসামীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফ উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিনবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাস-(৩০) নামক এক যুবক তার ফেসবুক আইডি থেকে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি পোস্ট করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়রা ঐ যুবককে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
পর দিন ৩০ অক্টোবর এলাকায় মাইকিং করে নাসিরনগর উপজেলা সদরে প্রতিবাদ সমাবেশ আহবান করা হয়। ৩০ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে নাসিরনগর উপজেলা সদরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এবং হেফাজত ইসলামের ব্যানারে পৃথক দু’টি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই সমাবেশ দুটিতে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন আহলে সুন্নাতওয়াল জামাত এবং হেফাজত ইসলামের নেতারা। পরে সমাবেশ থেকে একদল লোক হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়ি-ঘর ও মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর করে। হামলাকারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৫টি মন্দিরসহ শতাধিক বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। পরে ৪ নভেম্বর আবারো হিন্দু পরিবারের একটি মন্দিরসহ ৫টি বাড়ির রান্নাঘর, গোয়াল ঘর, ১৩ নভেম্বর সকালে হিন্দু পরিবারের একটি পরিত্যক্ত ঘরে এবং ১৬  নভেম্বর রাতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অঞ্জন কুমার দেব এর একটি গোয়াল ঘরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার পর নাসিরনগর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কাদেরকে জেলা পুলিশ লাইনে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও প্রত্যাহার করা হয়।
এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় পৃথক ৮টি মামলা দায়ের করা হয়।  পুলিশ বিভিন্ন সময়ে ঘটনারভিডিও ফুটেজ দেখে ১২৪ জনকে পুলিশ  গ্রেপ্তার করে। এদিকে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায় রসরাজ দাস ও মামলার অন্যতম আসামী হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আখিঁ। ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আটক হওয়া সকল আসামীই জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসে।
এ সব ঘটনায় পুলিশসহ ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে থানায় ৮টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় প্রায় ৩০০০ হাজার লোককে আসামী করা হয়।
এর মধ্যে গত ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর একটি মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করে পুলিশ। আদালত অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এ ব্যাপারে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবু জাফরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, নাসিরনগরে তান্ডবের ঘটনায় ৮টি মামলার মধ্যে ইতিমধ্যেই একটি মামলার চার্জশীট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাকী ৭টি মামলার চার্জশীট পর্যায়ক্রমে আদালতে জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, মামলার আসামীদের মধ্যে ৩৮জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অনেকেই আদালত থেকে জামিন পেয়ে বেরিয়ে এসেছেন, বাকীরা এখনো পলাতক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ