ঢাকা, শুক্রবার 6 July 2018, ২২ আষাঢ় ১৪২৫, ২১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দল ও তালাক

মোহাম্মদ অয়েজুল হক : মাঝ রাতে চিৎকার শুনে ফ্ল্যাটের লোকগুলো একে একে জড়ো হয়। উপরের দিক থেকে তীব্র মাত্রার শব্দ আসছে। শব্দ করছে মানুষ, তবে কি শব্দ সেটা বোঝা যাচ্ছেনা। একটু পর ধুপধাপ শব্দের সাথে চিৎকার শুনে লিটন দৌড়ে উপরে শব্দের দিকে ছোটে। সে পাঁচতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার এক ফ্ল্যাটের ভাড়াটে। লিটনের সাথে যোগ দেন আরও কিছু কৌতূহলী মানুষ। চারতলায় গিয়ে শব্দের উৎস খুঁজে পায়। ভেতর থেকে শব্দ আসছে।

- কাল সকালে খুলবি কিনা বল?

- আমি পারবো না। তোমাদের দল তোমরা খুলবে।

আবার ধুপধাপ। আবার চিৎকার, ওরে বাবারে খুলবো, টানাবো সব করবো। 

- কালই ?

- কালই খুলবো। কিছুটা হতাশা ভেসে আসে।

এ ফ্ল্যাটে হায়দার তার বউ আর এক ছোট ছেলে নিয়ে বাস করে। শিক্ষিত চাকুরীজীবী মানুষ। কে তাকে মারছে আর কি খুলতে বলছে! লোকটা খুলতে চাইছে না কেন!বুঝে আসেনা। পুরুষ কন্ঠ কার! কে বলে টানাবি! অনেক কৌতূহল নিয়ে একজন আরেকজনের দিকে তাকায়। শেষমেশ লিটন দরজায় নক করে। হায়দার ভাই দরজা খুলুন। হায়দার সাহেব সামান্য পরেই দরজা খুলে দেন।

- কি হয়েছে ভাই? 

- কই কিছু না তো। ভাবখানা এমন যেন ঘুম থেকে ওনাকে জাগানো হয়েছে। হায়দারের জবাব শুনে সবাই অবাক হয়।

- চিৎকার, পুরুষ কন্ঠ, মারপিটের শব্দ শুনলাম।

- ও, হায়দারের স্ত্রী হা হা করে গাল ভরা হাসি দেয়। আমার ভাই এসেছে। ও আবার একটু অভিনয় করে তো। দুলাভাইয়ের সাথে প্রাকটিস করছিলো। সরি, আপনাদের ডিস্টার্ব হয়েছে মনে হয়?

- না না। আপনারা অভিনয় করুন। ডিস্টার্ব হবে কেন! দেখেন না কতো মানুষ মজা নিয়ে ছুটে এসেছে। 

লিটনের জবাব শুনে একজন প্রতিবেশী মিনমিন করে বলেন, অভিনয় ভাল, মাঝরাতে শব্দের মাত্রাটা..... 

হায়দারের বউ শান্তনার ভাষায় বলেন, চিন্তা করবেন না। দরকার হলে মুখে টেপ মেরে দেবো। 

কথা শুনে সবাই যারযার মতো চলে যায়।

 পরদিন প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে লিটন দেখে ব্রাজিলের জার্সি পরিহিত হায়দার সাহেব ছাদে। লম্বা বাশ, আর্জেন্টিনার বিরাট পতাকা তড়িঘড়ি করে নামাচ্ছেন। লিটনের বুঝতে বাকি থাকেনা টানাবি নামাবির ঘটনা! নিরিবিলি দেখা হলে কৌতূহল মেটাবে। বিকালের দিকে হায়দার সাহেবকে পেয়ে যায়। রাস্তায় দেখা।

- কিরে ভাই কাহিনী বুঝলাম না!

- কি কাহিনী?

- গায়ে ব্রাজিলের জার্সি পতাকা নামালেন আর্জেন্টেনার।

- মানুষ অনেক বিয়ে করেনা? তালাক ডির্ভোস কি সমাজ থেকে উঠে গেছে নাকি! 

- না। 

- আমিও খেলা আর দলের ব্যাপারে তালাক ডিভোর্সের নীতি অবলম্বন করছি।

- ভাল..... তা আপনার চোখমুখ ফোলা কেন?

- চোখমুখ থাকলে ফোলে, না থাকলে ফোলে না।

লিটন হায়দারের একটা হাত ধরে। নির্ভয়ে সত্যটা বলুন। আমি কাউকে বলবো না।

হায়দার সাহেব এদিক ওদিক দেখেন। কন্ঠে জড়তা নিয়ে বলেন, কাল চিৎকার, ধুপধাপ শুনলেন না?

- হ্যা, গভীর রাতে শালার সাথে অভিনয় করছিলেন।

- আরে না। 

- তাহলে?

- বউ আর তার ভাই মিলে আমাকে পেটাচ্ছিল। দল হেরে যাওয়ার পর বউয়ের মন মেজাজ খারাপ। আমাকে বলে কাল খুব ভোরে পতাকা খুলে ফেলতে।

- হ্যা।

- আমি বলি আমি খুলবো কেন। আমি তো ব্রাজিল। এ নিয়ে র্বিতক। না পেরে শালাকে ভাড়া করে এনেছে।

- রাতে বললেই তো পারতেন।

- ভাই মান ইজ্জত থাকে বলেন, এমনিতেই তো গেছে।

লিটন চুপ করে থাকে। হায়দার বলে, কিল ঘুষি খাওয়ার চেয়ে দল না করাটাই বেটার। রাতের পর থেকে আমি জেতা দল হয়ে গেছি। হারা দল তালাক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ