ঢাকা, শুক্রবার 6 July 2018, ২২ আষাঢ় ১৪২৫, ২১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কবিতা

মহাবিস্ময়ের ভেতর দিয়ে 

মোশাররফ হোসেন খান

 

মহাবিস্ময়ের ভেতর দিয়ে এক সময় এসেছি একা!

 

জাগতিক সকল বিত্ত-বৈভব মহাশূন্যে তোলপাড় করছিল।  

যে সম্পর্কে আমি ছিলাম সম্পূর্ণ  বেওয়াকিফহাল।

 

আমি তো ভূ-পৃষ্ঠে আসার পর থেকেই কেবল 

আগুনের দরিয়া সাঁতরে চলেছি!

জন-মানব নির্বিঘেœ  চলাচলপথ হিসাবে 

আমাকে  ব্যবহার করে আসছে।

 

আমি নিরুত্তাপ, উদ্বেগহীন মৃত্তিকার মতো ! 

 

 

অথচ মানুষ তো বটেই ...

 নদী- সমুদ্র কষ্ট পায় যদি

পাহাড় - পর্বত দুঃখ পায় যদি

লতা - গুল্ম কাঁদে যদি...

এই ভেবে সতর্ক থেকেছি সচকিত  হরিণের মতো !

 

অথচ আমাকে ভূপৃষ্ঠ বা পথ হিসাবে ব্যবহার করতে 

একটি বুদবুদও ওঠে না!

 

আজ চারপাশে তাকিয়ে দেখি...

জন-মানবহীন এক উত্তপ্ত ধূসর মরুভূমিতে 

বালুর ভেতর মুখ লুকিয়ে পড়ে আছি একা,

                                    কেবলই একা!

 

মানুষ এখন আর কোথায় যাবে, কার কাছে?

জানিনা আরও কতোটা  বিস্ময়  অপেক্ষায় আছে?

 

সেদিন প্রত্যুষে দেখি ...

রেল লাইনের পাশে পড়ে আছে তিনটি দ্বিখন্ডিত লাশ!

যাদের  খবর জানে না কেউ।

যে যার মতো ছুটছে নিজের কাজে,

        তখন সকাল ছয়টা বাজে!

 

আমি বিস্ময়ে নির্বাক!

এ কেমন মৃত্যু?

এ কেমন জীবন?

এ যেন এশিয়া নয়, সিরিয়া কিম্বা ফিলিস্তিন,

অকস্মাৎ ফেটে দু 'ভাগ হয়ে  যায় আমার বুকের আস্তিন!

 

একটি কাকের বিপদেও শত শত কাক ছুটে আসে নি:স্বার্থে!

 

হায়রে হতভাগ্য মনুষ্য -জীবন! 

ঘৃণা ও হতাশায় আমি মহাশূন্যের দিকে চেয়ে থাকি,

ভাবি... এ পৃথিবী ধ্বংস হতে আর কতো বাকি?  

                                                  কতোটা বাকি!

৩০.৬.১৮

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ