ঢাকা, শুক্রবার 6 July 2018, ২২ আষাঢ় ১৪২৫, ২১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফিলিস্তিনীদের ওপর ইসরাইলের হামলা

ফিলিস্তিনী এক তরুণীকে টেনে-হেঁচড়ে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলী সৈন্যরা

৫ জুলাই, আল জাজিরা : কয়েক ডজন ফিলিস্তিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরাইলী বাহিনী। তাদের হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। এর মধ্যে চার জনের অবস্থা গুরুত্বর। ইসরাইলী সেনারা দখলীকৃত পূর্ব জেরুজালেমে একটি বেদুইন গ্রাম ধ্বংস করতে চাইলে তার প্রতিবাদ করে গ্রামবাসীরা। তখনই তাদের ওপর নির্মম হামলা চালানো হয়। খবরে বলা হয়, বুধবার পূর্ব জেরুজালেমের খান আল-আহমার গ্রাম ধ্বংস ও গ্রামবাসীদের পুরো সম্প্রদায়কে জোরপূর্বক অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায় ইসরাইলী সেনারা। গ্রামবাসীরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

ফিলিস্তিনী রেড ক্রিসেন্ট অনুসারে, ইসরাইলী বাহিনীর হামলায় অন্তত ৩৫ ফিলিস্তিনী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুত্বর। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরাইলী বাহিনীর সদস্যরা পুরুষ, নারী ও শিশুদের মারধোর ও গ্রেফতার করছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেনারা সহিংসভাবে এক ফিলিস্তিনী নারীকে মাটিতে টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার মাথার হিজাব খুলে নেওয়া হয়েছে।

সেনারা গ্রামটি ধ্বংস করার জন্য প্রচুর যন্ত্রপাতি ও একটি বুলোডোজার নিয়ে হাজির হয় 

ইসরাইলী সেনারা বুধবার সকালের দিকে গ্রামটি ধ্বংস করার জন্য প্রচুর যন্ত্রপাতি ও একটি বুলোডোজার নিয়ে হাজির হয়। বহুদিন ধরে এই গ্রামটি ধ্বংস করার বিষয়ে গ্রামটির ১৮০ জন বাসিন্দা ও ইসরাইলী সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে আইনি লড়াই চলছিল।

খান আল-আহমার দখলীকৃত পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’তে অবস্থিত। সেখানে ইসরাইলের প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে।

ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট গ্রামটি ধ্বংসের অনুমতি দিয়েছে। কেননা এটি নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। কিন্তু ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ খুব কম সময়ই এরিয়া সি’তে গ্রাম নির্মাণের অনুমতি দিয়ে থাকে। সাধারণত, সেখানে কেবল ইহুদিদের জন্য ইসরাইল সরকার অবৈধ বসতি স্থাপন করে থাকে।

জাতিসংঘ অনুসারে, ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ফিলিস্তিনীদের নির্মাণ সংশ্লিষ্ট আবেদনের মাত্র ১.৫ শতাংশ আবেদনের গ্রহণ করেছে। 

খান আল-আহমার গ্রামে বসবাসরত জাহালিন বেদুইন সম্প্রদায় এই অঞ্চলে ১৯৫৩ সালের দিকে বসতি গড়ে। সেখানকার বাসিন্দাদের দাবি, তাদেরকে এখান থেকে জোর করে সরানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপন করা। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ