ঢাকা, শুক্রবার 6 July 2018, ২২ আষাঢ় ১৪২৫, ২১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কোটা সিদ্ধান্তে এত দেরী কেন?

মো. তোফাজ্জল বিন আমীন : সরকারি চাকরির পরীক্ষায় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়ে আবারও সংবাদের শিরোনামে ছাত্রলীগ। তবে ছাত্রলীগের অতীত ইতিহাস আজকের মতো এত নাজুক ছিল না। কিন্তু এখন ছাত্রলীগ ক্ষমতার দাপটে এতটাই বেসামাল হয়ে পড়েছে যে কোনটা যৌক্তিক আর কোনটা অযৌক্তিক দাবি তাও অনুধাবন করতে পারছে না। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগের একটি গৌরবোজ্জ¦ল সোনালি অতীত ছিল। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬২-শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা ও ১১ দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রামে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখা সংগঠন কি এখন সকল অপকর্মের হোতা হিসেবে সংবাদের শিরোনাম। প্রতিনিয়ত তাদের নানা ধরনের আপত্তিকর কর্মকান্ড ছাত্র রাজনীতির সুনামকে নস্যাৎ করে দিলেও প্রতিরোধে ক্ষমতাসীন দলের তেমন কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যে পৈশাচিক বর্বরোচিত কায়দায় ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে তা আমাদেরকে আবারও ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে। ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকার যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিক সেসময় রাজধানীর পল্টন ময়দানে বর্তমান সরকারের কর্মীবাহিনী লগি-বৈঠা দিয়ে পল্টনের রাজপথে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। এরা শুধু হত্যা করেই তৃপ্ত হতে পারেনি বিধায় লাশের উপর নৃত্য পর্যন্ত করেছে। আর তা দেখে বিস্মিত হয়েছিল দেশবাসী। পত্রিকার পাতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার দৃশ্য দেখে দ্রুত পাতা উল্টিয়ে দিয়েছি। কারণ তাদেরই উত্তরসূরীরা বিশ্বজিতকে প্রকাশ্যে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। ঠিক একই কায়দায় সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। বিশ্বজিত হয়তো বেঁচে থাকলে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে বলতেন ভাই কোটার দরকার নেই, আগে জীবন বাঁচান।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেশব্যাপী আন্দোলন করে আসছে। আন্দোলকারীরা ৯ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করে ৭ মে পর্যন্ত তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছিল। গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার ইস্যুতে বলেছেন,  কোটা থাকলেই সংস্কারের প্রশ্ন আসবে। এখন সংস্কার করলে আগামীতে আরেক দল আবারও সংস্কারের কথা বলবে। কোটা থাকলেই ঝামেলা। সুতরাং কোনও কোটারই দরকার নেই। কোটা ব্যবস্থা বাদ, এটা আমার পরিষ্কার কথা। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর আন্দোলনকারীরা ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছিল। কিন্তু সেই প্রজ্ঞাপন অদ্যাবধি জারি হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সারা দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুন শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা সাংবাদিক সম্মেলনের ডাক দেয় । তবে সাংবাদিক সম্মেলন শুরুর আগেই ছাত্রলীগ তাদের ওপর নিষ্ঠুরভাবে হামলা চালায়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এই সমাজ ও রাষ্ট্রে হাজারো অন্যায় অবিচার জুলুম চললেও কেউ টুঁ-শব্দ পর্যন্ত করতে পারবে না। কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীরা একটা সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের এই অধিকারটুকু ছাত্রলীগ কেড়ে নিল। এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে তাতেও বাধা দেয় পুলিশ। বিরোধী দলের যেমন কথা বলার অধিকার সংকোচিত হয়ে গেছে তেমনিভাবে দেশের সন্তানতুল্য নাগরিকদেরও কথা বলার অধিকার সংকোচিত করা হচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এরকম একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশও সহ্য করতে না পারাটা সরকারের অক্ষমতা। দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু মানুষকে কিছু বলতে দেবে না তারা । প্রধানমন্ত্রী বলছেন কোটা বাতিলের কথা। তবে শিক্ষার্থীরা কখনোই কোটা পদ্ধতি বাতিলের কথা বলেনি। তারা বলেছে কোটা সংস্কারের কথা। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, কোটা সংস্কারের যৌক্তিক ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিকৃতভাবে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ আন্দোলনকে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ছাত্রলীগের গুন্ডামি ৬০’র দশকের সরকারি ছাত্র সংগঠন এনএসএফের গুন্ডামিকেও ছাড়িয়ে গেছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যে অত্যাচার করা চলছে, আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার মাথা নত হয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, এজন্য কী মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম,কথা বলার অধিকার নাই। এ লজ্জা রাখবো কোথায়!

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছে এটা তো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। কোটাবিরোধীদের ওপর ছাত্রলীগের এ ধরনের অমানবিক নিষ্ঠুর হামলা বেদনাদায়ক। সবারই মনে রাখা প্রয়োজন কাউকে মাটিতে ফেলে লাথি মারা কোনো সভ্য মানুষের কাজ নয়! ছাত্রলীগের হামলাকারীদের হাত থেকে ছাত্রীরা পর্যন্ত রেহাই পায়নি। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেত্রী, স্পীকার নারী সেই দেশের একজন নারীকে ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে রাজপথে পিটিয়ে আহত করলেও নারীবাদী সংগঠনের নেত্রীরা একটু টুঁ-শব্দ পর্যন্ত করল না। এমনকি মানবাধিকার সংগঠন,সুশীল সমাজ ও টিআইবির কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। নারীর জীবন ও ইজ্জত লুন্ঠনকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই থাকুক তারা কোন সভ্য সমাজের মানুষ হতে পারে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর নারকীয়ভাবে হামলা চালানো হলেও ছাত্রলীগ বরাবরের মতো এবারও শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু ঐ দিন ছাত্রলীগের কর্মীবাহিনী কী করছে সেটি অনুধাবন করার জন্যে কয়েকটি পত্রিকার শিরোনামের দিকে চোখ বুলানো প্রয়োজন। যারা পড়েননি, তাদের পড়া উচিত। প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠার শিরোনাম, খুঁজে খুঁজে মারল ছাত্রলীগ। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের শিরোনাম, Quota Movement: BCL swoops on reformists  বাংলাদেশ প্রতিদিনের শিরোনাম, আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা। দৈনিক যুগান্তের শিরোনাম, কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা। দৈনিক নয়া দিগন্তের শিরোনাম কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের দফায় দফায় হামলা। দৈনিক ইনকিলাবের শিরোনাম কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর দফায় দফায় হামলা। দৈনিক সংগ্রামের শিরোনাম কোটা সংস্কার আন্দোলনের ওপর ছাত্রলীগের নৃশংস হামলা। পাঠক একবার ভাবুন তো ওই সব পত্রিকার পাতায় যদি শিবির অথবা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ছবি মুদ্রিত হতো তাহলে গ্রেফতার কত হাজার হতো! অথচ প্রকাশ্যে দিবালোকে যারা নির্মম হত্যাযজ্ঞের মতো কান্ডজ্ঞানহীন কাজ করছে তাদের কাউকে আইনপ্রয়োগকারী বাহিনী গ্রেফতার তো দূরের কথা একটু ধমকও দিতে পারেনি। উল্টো কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খানের বিরুদ্ধে করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই বলা হচ্ছে কোটা আন্দোলনে ছাত্রলীগ হয়ে যায় ছাত্রশিবির। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা যায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট। মতের মিল না হওয়ায় ছাত্র শিবির বলে তাদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধনী-গরিব বা সাদা-কালো নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক! কিন্তু কোনো একটি গোষ্ঠীর জন্য শুধুমাত্র অধিকার সংরক্ষণ করা হলে সামাজিক বৈষ্যম বাড়বে। ছেলেমেয়েরা উত্তরাধিকার সূত্রে পিতার সম্পত্তি পেতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সুবিধা পেতে পারে না। বাংলাদেশের প্রতিটি ছেলেমেয়েই অন্যান্য সব ছেলেমেয়ের মতোই সমান অধিকার পাওয়ার যোগ্য। এই অধিকার প্রয়োগে জাতি ধর্ম বর্ণ গোষ্ঠী বাছবিচারের বিষয় হতে পারে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা রয়েছে। ভারতে মোট ৪ ধরনের কোটা পদ্ধতি চালু আছে। যেমন উপজাতি কোটা, বিভিন্ন জাত ভিত্তিক কোটা, অন্যান্য অনগ্রসরদের জন্য কোটা এবং বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘু কোটা। তবে কোটা পদ্ধতি থাকলেও ভারতে কোটার জন্য একটি সুষ্ঠু নীতিমালা রয়েছে। একটি পরিবারের মাত্র একজনই কোটা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে এবং যদি কেউ উচ্চ শিক্ষার জন্য কোটা গ্রহণ করে তবে সে চাকরিতে কোটা সুবিধা পাবে না। আমাদের সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন। মুক্তিযোদ্ধারা সমাজ ও রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তারা কেউ সন্তানের চাকরি কিংবা ভাতা পাবার আশায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার্থে যোগ্য প্রার্থীদের সর্বক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যখন দেখি সরকারের একাধিক সচিবের বিরুদ্ধে এমনকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একজন সচিবের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমে মুদ্রিত হয় তখন সত্যিই মনে দাগ কাটে। দুঃখজনক হলেও সত্য অদ্যাবধি মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক কোনো তালিকা কোন সরকারই প্রণয়ন করেনি।

পৃথিবীর কোনো দেশ-ই মেধাবীদেরকে বঞ্চিত করে যেমন উন্নয়নের উচ্চ শিখরে পেঁৗঁছতে পারেনি তেমনিভাবে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অন্যায়ের প্রশয় দিয়ে ক্ষমতাসীনরা বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের দায়িত্বভার যখন অযোগ্য লোকদের হাতে ন্যস্ত হয়ে পড়ে তখন সেখানে আইনের শাসন ভূলন্ঠিত হয়। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভাবে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পদে নিজেদের লোক বসালেই তার সুফল পাবে। কিন্তু এই নীতি যে ভ্রান্ত তা ইতিহাসে প্রমাণিত হলেও ক্ষমতাসীন দল এই নীতি থেকে সরেনি। স্বাধীনতার পর তৎকালীন বিডিআর এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মেজর জেনারেল এম খলিলুর রহমান। তিনি তার কাছ থেকে দেখা ১৯৭৩-৭৫ শীর্ষক বইয়ে লিখেছেন, ১৯৭৮ সালের গোড়াতে আমি আওয়ামী লীগে যোগদান করি এবং বেশ সক্রিয়ভাবে রাজনীতি শুরু করি। সে নির্বাচনে জেনারেল ওসমানী রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ঐক্যজোটের প্রার্থী ছিলেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচার অভিযানে চলেছি ভোলায়, তোফায়েল সাহেবের এলাকায় জনসভা হবে। আমরা ওরই মেহমান। লঞ্চে বসে গল্প। আমি, তোফায়েল ও রাজ্জাক। কথা হচ্ছিল জিয়াউর রহমানের আমলে জেল খাটার সময়ে তাঁরা দুজন কেমন লাঞ্ছনা ভোগ করেছেন এবং কার হাতে। সেদিন একটা দামি কথা বলেছিলেন তোফায়েল সাহেব। বলেছিলেন ভাই, সবচাইতে বেশি খারাপ ব্যবহার পেয়েছি ওইসব অফিসারের কাছ থেকে, যাদের আমি নিজের হাতে ভর্তি করেছিলাম ১৯৭২ সালে। এরা আমাদের মনোভাবাপন্ন এটাই ছিল তাদের যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি। তাদের চাইতে শিক্ষাগত ও মেধাগত দিক থেকে বেশি যোগ্য কিন্তু আমাদের চিন্তাধারার অনুসারী নয় এমন অনেক প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়। কাজটা বোধ হয় ভুল হয়েছে খলিল ভাই, তাই না? আমি হেসেই বলেছিলাম, ‘মারাত্মক ভুল হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে অযোগ্য লোকের কোনও নীতি বা আদর্শ থাকে না। থাকলেও চাকরি রক্ষার্থে তা বিসর্জন দিতে তার একমিনিটও সময় লাগে না। ক্ষমতাসীন শাসকদের এটা অনুধাবন করা প্রয়োজন যে সত্যিকার অর্থে যারা যোগ্য তাদের হাতে শত্রুরাও নিরাপদ। রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের কোটার ভিত্তিতে বসানো সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ এটা বোধ হয় নতুন করে কাউকে বুঝানোর প্রয়োজন নেই। আমরা মনে করি সরকার সাধারণ মানুষ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাষা অনুধাবন করে কোটা সংস্কারের বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগী ভূমিকা পালন করে বিরাজমান সংকট নিরসনে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করা উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ