ঢাকা, শুক্রবার 6 July 2018, ২২ আষাঢ় ১৪২৫, ২১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকার দলীয়দের ছাড়া আর কাউকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না -বিএনপি

 

# ৯ জুলাই ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতীকি অনশন 

# আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার দাবি 

স্টাফ রিপোর্টার : পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় ঢাকার প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি পিছিয়ে দিয়েছে বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশের সঙ্গে ঢাকাতেও এই সমাবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু ঢাকার কর্মসূচির জন্য শনিবার নতুন দিন ঠিক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, শনিবার বেলা ২টায় নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে হবে তাদের এই প্রতিবাদ সমাবেশ।

রিজভী বলেন, আজকের (বৃহস্পতিবার) প্রতিবাদ সমাবেশটি আগামী ৭ জুলাই শনিবার বেলা ২টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে যথাসময়ে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একই দাবিতে আগামী ৯ জুলাই সোমবার ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হবে। এর জন্য দলের পক্ষ থেকে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স এবং ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে অনুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। ঢাকার যেই স্থানে অনুমতি পাওয়া যাবে সেখানে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সরকার দলীয় কর্মকা- ছাড়া আর কাউকে সভা-সমাবেশ কিংবা রাজনৈতিক কর্মকা- করতে দিচ্ছে না সরকার। রাজধানীতে পুলিশ নানা অজুহাতে প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। বৃহস্পতিবার ঢাকা ছাড়া সারাদেশে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলে জানান রিজভী। 

অবৈধ ক্ষমতার বিবর্তনে’ সরকারপন্থী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ভয়াল প্রেতাত্মা হয়ে ভীষণ মূর্তি ধারণ করেছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, শিক্ষাঙ্গনগুলোতে এখন ছাত্রলীগ ও পুলিশের তা-বে বিভীষিকাময় অবস্থা বিরাজ করছে।

প্রসঙ্গত,  কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতা রাশেদ খাঁনের এক ভিডিও বার্তায় ‘আপত্তিকর’ বক্তব্য দেয়ার অভিযোগের পর গত ৩০ জুন সংগঠনের নেতাদের ওপর হামলা হয়। ১ জুলাই পরদিন গ্রেপ্তার হন রাশেদ। আর হামলার প্রতিবাদে ২ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা ছিল আরও বেপরোয়া। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই পিটিয়েছেন তাদের। আবার এই হামলার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক। তাদেরকে আটকও করা হয়। যদিও পরে ছেড়ে দেয়া হয়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনকালে যেভাবে ছাত্রলীগ ও পুলিশের নির্যাতন ও নিপীড়ণের শিকার হচ্ছে, যেভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষক ও উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের পুলিশি তা-বের শিকার হতে হয়েছে, যেভাবে শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের হাতে ছাত্রীরা লাঞ্ছিত হয়েছে-ছাত্রলীগের এসব তা-ব লগি-বৈঠারই পূনরাবৃত্তি বলে দেশবাসী মনে করে। প্রতিবাদী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। অবৈধ ক্ষমতার বিবর্তনে ভয়াল প্রেতাত্মা হয়ে ভীষণ মূর্তি ধারণ করেছে। সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে যৌক্তিক সমাধানের দিকে দ্রুত অগ্রসর হতেও প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন রিজভী। সেই সঙ্গে অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ করেন বিএনপি নেতা।

বুধবার রাতে গণভবনে ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশীদের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেখানে তাদেরকে কী ছবক দিয়েছেন তা আল্লাহ মাবুদই জানেন। ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের রক্তাক্ত করার বীরত্বে তাদেরকে একইভাবে আগামী নির্বাচনে সন্ত্রাসী কর্মকা- করতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে মনে হয়। প্রধানমন্ত্রীর সাথে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের উক্ত বৈঠক নতুন করে প্রতিবাদকারিদের রক্ত ঝরাতে তাদের আরও উৎসাহিত করবে।

এদিকে, সমাবেশের ঘোষণা থাকায় গতকাল সকাল থেকেই নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের জল কামান, সাঁজোয়াযান ও প্রিজন ভ্যানও দেখা যায় কার্যালয়ের কাছাকাছি।

খালেদা জিয়াকে জামিন না দেওয়ার ঘটনাকে সরকারের মনোবাসনা পূরণের বর্ধিত প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজো দুই মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনার নির্দেশে তার সকল জামিনযোগ্য মামলায় বাধা দিচ্ছে সরকার। আইন-আদালত-বিচার-প্রশাসনসহ সবকিছু করায়ত্ত করে আওয়ামী লীগ দম্ভে ও গর্বে আত্মস্ফীত হয়ে উঠেছে। ন্যায়বিচারকে তারা বিলীন করে এক জড়ীভূত পরিবেশ তৈরি করেছে। খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে সরকার নতুন নতুন নীল নকশা আঁটছে এবং বিএনপি নেত্রীর জামিন না হাওয়ায় তার প্রকাশ ঘটছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। বৃহস্পতিবার সকালে অসুস্থ বোধ করায় মির্জা ফখরুলকে গুলশানের ইউনাউটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে রিজভী বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী কারাবন্দী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে চিকিৎসা না দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার সুচিকিৎসার দাবি জানান। এছাড়া গত মঙ্গলবার সিলেট মহানগরে দলের সহসভাপতি সালেহ খসরু আহমেদের বাসায় পুলিশি তল্লাশি, চট্টগ্রাম জেলা দক্ষিণ শাখা বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মুজিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নিন্দা জানান তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, শাহিন শওকত, রফিক শিকদার, ঢাকা মহানগর উত্তরের নেত্রী ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, শামীম পারভেজ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ