ঢাকা, শুক্রবার 6 July 2018, ২২ আষাঢ় ১৪২৫, ২১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় কর্মসৃজন প্রকল্পে সময়মত কাজ না করায় ফেরত যাচ্ছে ১৮ লাখ টাকা

 

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্পে কয়েকটি ইউনিয়নে কাজ হয়নি ৫-৬ দিন। ফলে প্রকল্পের প্রায় ১৮ লাখ টাকার বেশি ফেরত যাচ্ছে। অপরদিকে অর্থবছর শেষ হলেও বেগমপুর ও আলুকদিয়া ইউনিয়নের শ্রমিকরা ৮ দিনের কাজের মজুরী এখনও পায়নি। টাকার সঠিক ব্যবহার না করতে পারায় আগামীতে জেলায় এ প্রকল্পে বরাদ্দ কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ চিত্র শুধু সদর উপজেলাতেই না জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও রয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে গত ২১ মার্চ কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১ হাজার ৫৩৯ জন শ্রমিক ২শ টাকা দিন হাজিরায় কাজ করার সুযোগ পায়। আর এ কাজের টাকা স্ব-স্ব শ্রমিক নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে উত্তোলন করে থাকে। সে মোতাবেক বিভিন্ন ইউনিয়নের শ্রমিকরা ১০ টাকার একাউন্ট খোলে নিজ এলাকার ব্যাংক শাখায়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে বেগমপুর ও মোমিনপুর ইউনিয়নের শ্রমিকরা ৬দিন এবং বাকি ইউনিয়নের শ্রমিকরা ৫ দিন কাজ করা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পরিপূর্ণ কাজ করতে না পারায় সদর উপজেলার বরাদ্দকৃত শ্রমিকদের ১৮ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত যাচ্ছে।

অপরদিকে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছর শেষ হলেও বেগমপুর ও আলুকদিয়া ইউনিয়নের শ্রমিকরা তাদের ৮দিন কাজের মুজরীর টাকা এখনও পর্যন্ত হাতে পায়নি। কবে নাগাদ পাবে তাও অনিশ্চিত। 

সূত্র বলেছে, বরাদ্ধকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার না হলে পরবর্তীতে ওই প্রকল্পে টাকা কম বরাদ্দের সম্ভাবনা থাকে। সংশ্লিষ্ট দফতর মনে করেন, কাজ কম বরাদ্দও কম লাগবে। বরাদ্দের টাকা ফেরত যাওয়ার মধ্যে কোন লাভ নেই বরং কাজ করতে না পারাটাই যোগ্যতা।

উল্লেখ্য, অতি দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করার জন্য সরকার এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে হত দরিদ্র মানুষ ৪০ দিনের কাজ করার সুযোগ পেয়ে থাকে। সাধারণত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর এই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে দরিদ্র মানুষের অনেক উপকার হয়। কাজ করার ফলে এসব মানুষেরা আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে পারে। এই কর্মসংস্থান তাদের আর্থিকভাবে কিছুটা স্বচ্ছল করে তোলে। আর এ কাজ সরকারি ছুটির দিন বাদে সপ্তাহে ৫ দিন হয়ে থাকে। তাই মন্ত্রণালয়/প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় হতে উপজেলায় বরাদ্দ প্রাপ্তির পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক জনসংখ্যা ও আয়তনের ভিত্তিতে ইউনিয়ন ওয়ারী বরাদ্দ বিভাজনপূর্বক ইউনিয়ন পরিষদে প্রেরণ করা হয়। ইউপি কর্তৃক বরাদ্দ অনুযায়ী শ্রমিক এবং ওয়েজ ও নন-ওয়েজ কর্মের প্রকল্প তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা কমিটিতে প্রেরণ করা হয়। জেলা কমিটির চুড়ান্ত অনুমোদনের পর শ্রমিকদের জব কার্ড এবং প্রকল্পের সাইনবোর্ড প্রস্তুত করা হয়। মন্ত্রণালয়/প্রকল্প পরিচালক কর্তৃক প্রদত্ত বরাদ্দের আলোকে বিল প্রস্তুত করে সংশি¬ষ্ট ব্যাংক একাউন্টে (মাদার একাউন্ট) অর্থ জমা হয়ে থাকে। শ্রমিক তালিকা অনুযায়ী ইউনিয়নওয়ারী শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য ব্যাংকের শাখা নির্বাচন করে প্রত্যেক শ্রমিকের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয় এবং মাদার একাউন্ট হতে নির্ধারিত ব্যাংকের শাখায় (চাইল্ড একাউন্ট) টাকা স্থানান্তর করা হয়। প্রকল্প তদারকির জন্য উপজেলা কর্মকর্তাদের ইউনিয়নওয়ারী ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করে প্রকল্পস্থলে সাইনবোর্ড স্থাপন পূর্বক প্রকল্পের কাজ আরম্ভ করা হয়। নন-ওয়েজ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট পিআইসি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। ওয়েজ কষ্টের (টাকা) জন্য প্রতি সপ্তাহে ফিল্ড সুপারভাইজার ও ট্যাগ অফিসারের প্রত্যয়নের ভিত্তিতে অগ্রগতি অনুযায়ী শ্রমিক মজুরি ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের টাকা উত্তোলন করে থাকে। এদিকে দীর্ঘদিন থেকে সদর উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে আসছে। একজন কর্মকর্তা দিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা এবং সদর উপজেলার কাজ হয়ে থাকে। ফলে অনেককেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অপরদিকে এ কাজের ওপর ভিত্তি করে অনেক শ্রমিক সাপ্তাহিক এনজিওর কিস্তি উত্তোলন করে থাকে। সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা দিতে না পেরে অনেককেই বিপাকে পড়তে হয়।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াশীমুল বারী বলেন, সরেজমিনে গিয়ে যে সমস্ত শ্রমিকরা কাজে অনুপস্থিত ছিলো শুধুমাত্র তাদের টাকায় ফেরত যাবে। তিতুদহ ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন ও বেগমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলী হোসেন জোয়ার্দ্দার বলেন, কাজের অর্ডার দেরিতে আসা এবং সময় বর্ধিত না হওয়ার কারণে পরিপূর্ণ কাজটি করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হাজি মিজানুর রহমান বলেন, কাজটি মূলত দেখভাল করেন ত্রাণশাখা, সেখানে খবর নেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, কাজটি শুরু হওয়ার কথা ছিলো ফেব্রুয়ারি মাসে। দফতর থেকে বরাদ্ধ আসতে দেরি হওয়ায় কাজটি শুরু হয়েছে মার্চ মাসের শেষ দিকে। ফলে বিভিন্ন কারণে ৪০ দিনের কাজটি কোথাও ৩৫ দিন আবার কোথাও ৩৪ দিন হয়েছে। এ প্রকল্পের প্রায় ১৮ লাখ টাকার ওপরে ফেরত যাবে। আর বেগমপুর ও আলুকদিয়া ইউনিয়নের বিল সঠিক সময়ে তৈরি করতে না পারায় শ্রমিকরা তাদের মজুরী পায়নি। তবে খুব তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবে বলে আশা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ