ঢাকা, শুক্রবার 6 July 2018, ২২ আষাঢ় ১৪২৫, ২১ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গোপন ক্যামেরায় ছবি ধারণের মাধ্যমে জিম্মি করে একাধিক নারীকে ধর্ষণ ॥ ধর্ষক গ্রেফতার

শরীয়তপুর সংবাদদাতা: গোসাইরহাটের হাটুরিয়া বাজারে পূর্ণিমা স্টুডিও এন্ড ভিডিও সেন্টারে গোপন ক্যামেরায় নারীদের ছবি ধারণের পর তাদের জিম্মি করে একাধিক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিষ্ঠানের মালিক রাজিব দাসের বিরুদ্ধে। এ ফাঁদে পাঁ দিয়ে বারবার ধর্ষণের শিকার এক নারীর মামলায় প্রতিষ্ঠানের মালিক ধর্ষক রাজিব দাসকে গ্রেফতার করেছে গোসাইরহাট থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ধর্ষকের ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন, সিসি ক্যামেরার মেশিন ও কম্পিউটারের হার্ডডিক্স জব্দ করেছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার বিবরণ, হাটুরিয়া বাজারের ব্যবসায়ী শংকর দাস ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার ঘাটাখান গ্রামের অনিল চন্দ্র দাসের পুত্র ২ সন্তানের জনক রাজিব দাস (৩০) স্থানীয় হাটুরিয়া বাজারে পূর্ণিমা স্টুডিও এন্ড ভিডিও সেন্টার নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে। একই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ফ্লেক্সিলোড, বিকাশ ও সীমকার্ড রিপ্লেসমেন্টের ব্যবসাও রয়েছে রাজিব দাসের। গ্রাহকের বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে বিভিন্ন কৌশলে রাজিব মুসলিম নারীদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর রাজিব তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ওই সকল নারীদের ডেকে নিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সিসি ক্যামেরা ও গোপন ক্যামেরার ম্যাধ্যমে আপত্তিকর ছবি ধারণ করে। পরে নারীদের আপত্তিকর ছবি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিক নারীকে ধর্ষণ করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যারিতদের মধ্য থেকে বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার নুপুর আক্তার নামে এক নারীকে  ধর্ষক রাজিব এক বছরেরও বেশী সময় ধরে আপত্তিকর ছবি তোলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসছে। গত ২/৩ মাস যাবত ২ সন্তানের জননী নুপুর আক্তার রাজিবের ডাকে সারা না দেয়ায় আপত্তিকর ছবি নুপুরের শশুর বাড়ী, বাবার বাড়ি ও বিভিন্ন লোকজনের মোবাইলে ছড়িয়ে দেয় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে রাজিব দাস। এ ঘটনার পর নুপুরকে তার শশুর বাড়ীর লোকজন তাকে তাড়িয়ে দেয়। এর পর স্থানীয় লোকজনের সাথে পরামর্শ করে নুপুর আক্তার গোসাইরহাট থানায় রাজিবের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। গোসাইরহাট থানা পুলিশ গতকাল রোববার রাজিবকে গ্রেফতার করে আজ সোমবার আদালতে প্রেরণ করেছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজিব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে গোসাইরহাট থানার ওসি।

এ ব্যাপারে নুপুর আক্তারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

রাজিবের ঘটিষ্ঠ বন্ধু পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী শরংকর দাস বলেন, প্রায় ৬ মাস পূর্বে থেকেই রাজিবের এই কর্মকান্ডের কথা জানি। এ জঘন্য কর্ম থেকে সরে আসতে তাকে বারবার অনুরোধ করেছি। নুপুর আক্তার ছাড়াও অন্যান্য আরো কয়েকজন মেয়ের সাথে রাজিবের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। নারী কেলেঙ্কারীর বিষয়ে একাধিক বার জরিমানা দিয়েছে রাজিব। 

গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহেদী মাসুদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজিব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। রাজিবের ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন, সিসি ক্যামেরার মেশিন ও কম্পিউটারের হার্ডডিক্স জব্দ করেছি। জনশ্রুতি রয়েছে রাজিব আরো একাধিক নারীদের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেছে। আসামীকে আদালতে প্রেরণ করে ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি। আদালতে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা জানা যাবে। হার্ডডিক্স, মোবাইল, মেমোরিকার্ড ও পেইনড্রাইভে ডিভাইস পরীক্ষা করা হলে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ